টেকনাফের ওপারে মংডু ও বুথিডং টাউনশিপে বিমান হামলা

বে ইনসাইট রিপোর্ট

প্রায় সাত মাস বিরতির পর বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বুধবারের হামলার বিস্ফোরণের শব্দ বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তজুড়ে শোনা যায়। এতে সীমান্তবর্তী জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার কিছু পরে পরপর চারটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় টেকনাফের জাদিমুরা থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে।

শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সালাম বলেন, প্রথম বিস্ফোরণের সময় তাঁর মনে হয়েছিল যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। এরপর পরপর চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন এবং নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে আগুনের শিখা দেখতে পান।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর রাখাইনে আবারও সংঘর্ষ ও বিমান হামলা শুরু হয়েছে। এর প্রভাব সীমান্তের বাংলাদেশি জনপদেও অনুভূত হচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ছবিঃ সংগৃহীত

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আনিক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ টেকনাফ সীমান্তে শোনা গেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মংডু ও বুথিডং টাউনশিপে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের সময় মর্টার শেল বিস্ফোরণ ও ভারী গোলাগুলির শব্দ উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তজুড়ে শোনা গিয়েছিল। এরপর কয়েক মাস ধরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন রাখাইনের বিস্তীর্ণ এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান অভিযান অনেকটাই কমে গিয়েছিল। বুধবারের হামলার মধ্য দিয়ে আবারও সেই নীরবতা ভাঙল।

রাখাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক দাবি করেছে, বুধবার বুথিডং উপজেলার কিয়েত মাউক তাউং (মুসলিম) গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী একটি যুদ্ধবিমান ও একটি ওয়াই-১২ (Y-12) উড়োজাহাজ ব্যবহার করে দুটি ৫০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করে।

সংস্থাটির দাবি, ওই হামলায় প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এবং ১২ বছর বয়সী দুই শিশু আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুয়ে দুল আরমিন, মার মাত আর রাউত এবং উ আরমিন হু সাং। তাদের মধ্যে সুয়ে দুল আরমিনের বাম পায়ের উরুর হাড় ভেঙে গেছে বলে জানানো হয়েছে। অন্য শিশুটি তলপেটে এবং প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ডান ভ্রুর কাছে স্প্লিন্টারের আঘাত পেয়েছেন। গুরুতর আহত শিশুটিকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

ছবিঃ সংগৃহীত

গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক আরও দাবি করেছে, ভারী বৃষ্টির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা হামলার আগে যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনতে পাননি। পরপর দুটি বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার পর পুরো গ্রাম কেঁপে ওঠে এবং বিস্ফোরণের অভিঘাত ও স্প্লিন্টারে অন্তত ১০টি মুসলিম পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়।

তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত ২৪ জুন মংডু শহরে দুটি ৫০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করা হয় বলে একই সূত্রের দাবি। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হন এবং ১০টির বেশি হিন্দু পরিবারের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এছাড়া ১৭ জুন কিয়াউকতাও শহর ও লান মা দাও গ্রামে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বিমান হামলায় নয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১৮ জন আহত হন বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাখাইনের বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলার মাত্রা আবারও বেড়েছে। এতে বেসামরিক মানুষের হতাহত এবং ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে কয়েকটি রোহিঙ্গা-সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বুথিডং ও মংডুতে সাম্প্রতিক বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষ আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ছবিঃ সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ তাতেও প্রকাশ্য বিভক্তি কক্সবাজার আওয়ামী লীগে

প্রতিবেদক | বে ইনসাইট

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই নীরব কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ। তবে মাঠে না থাকলেও দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সম্প্রতি টেলিগ্রামে ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঝড়।

জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন, কেউ আবার অতীতের নির্বাচনী ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য, এমনকি আর্থিক অনিয়ম নিয়েও অভিযোগ তুলছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলটির ভেতরে থাকা নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হয়েছে।

অডিওতে কী শোনা গেছে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানকে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি নাম উল্লেখ না করলেও বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমানকে ইঙ্গিত করেছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করছেন।

অডিওতে মুজিবুর রহমান বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, ব্যক্তিগত মতভেদ থাকা সত্ত্বেও তিনি তার পক্ষেই কাজ করেছেন। এমনকি নিজের নিকটাত্মীয়ের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে।

তিনি শেখ হাসিনাকে বলেন-

আপনি আমাকে মেয়র নির্বাচন করার জন্য দেন নাই, যাকে দিছেন তার পক্ষে আমি কাজ করে তাকে নির্বাচিত করেছি। তারপরদিন আমার সঙ্গে বেইমানি… আমার আপন চাচাতো ভাই নির্বাচন করছিল, শুধু আপনার দিকে তাকিয়ে আমি পরিবারের সঙ্গে বেইমানি করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি।

কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন-

এখনো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ লিখতেছে। কই, জামাতের বিরুদ্ধে তো কেউ লেখে না।

অডিওতে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি শেখ হাসিনাকে জানান, তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ এবং চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে পাঠাতে সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে থাকার কথাও উল্লেখ করেন।

মাহবুবুর রহমানের পাল্টা জবাব

অডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমান নিজের ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না করায় তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। একই পোস্টে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, মুজিবুর রহমানই বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে দেশে অবস্থান করছেন।

মাহবুবুর রহমান আরও লেখেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ইতোমধ্যে তার একাধিকবার কথা হয়েছে এবং দলীয় প্রধান সবকিছু জানেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুজিবুর রহমান নৌকা প্রতীকের পরিবর্তে অন্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে তার কাছে প্রমাণ রয়েছে, যা সময়মতো প্রকাশ করবেন। তিনি সেখানে লিখেন- ‘তিনি হ্যালমেট মার্কায় জগদীশকে ভোট দিয়েছে।’ পাশাপাশি গত দুই বছরে দলীয় কর্মীদের সহায়তার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি স্ট্যাটাসে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

যুবলীগ নেতাদের প্রকাশ্য অবস্থান

বিতর্কে যোগ দিয়েছেন জেলা যুবলীগের কয়েকজন নেতাও।

যুবলীগ নেতা শোয়াইব ইফতেখার এক ফেসবুক পোস্টে মাহবুবুর রহমানের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সংকটের সময়ে সাবেক মেয়র দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যারা নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাদের দলে রাখা হলে আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হতে পারবে না।

অন্যদিকে যুবলীগ নেতা মোনাফ সিকদারও একটি ফেসবুক পোস্টে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে কটাক্ষ করে লেখেন, টেলিগ্রাম গ্রুপে তাকে সহযোগিতা করা নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি মুজিবুর রহমানের রোষানলে পড়েছেন।

এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা বিভিন্ন পোস্টে কোনো না কোনো পক্ষের সমর্থনে অবস্থান নিয়েছেন। কোথাও সাংগঠনিক শুদ্ধির দাবি উঠেছে, কোথাও আবার বর্তমান নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই প্রকাশ্যে দলীয় বিভক্তি

গত কয়েক দিনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ফেসবুক পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দলটির অন্তত দুটি স্পষ্ট অবস্থান তৈরি হয়েছে।

একটি অংশ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাকে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় নেতা হিসেবে তুলে ধরছে।

অন্য অংশটি সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমানকে কেন্দ্র করে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, কক্সবাজারে তৃণমূলের বড় একটি অংশ এখনও তার নেতৃত্বে আস্থা রাখে।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থাকা নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য রাজনৈতিক লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

কথা বলতে রাজি নন কেউ

বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক বর্তমান ও সাবেক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

তাদের কয়েকজনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হলেও কেউই গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। কেউ কেউ বলেন, “এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে চাই না।”

অন্যদিকে, যাদের অনেকেই সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাদেরই ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ নিয়ে একাধিক প্রকাশ্য পোস্ট দেখা গেছে।

পুরোনো দ্বন্দ্বের নতুন প্রকাশ?

তবে দলটির স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছে বে ইনসাইটের সাথে। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ার পর দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে টেলিগ্রাম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক যোগাযোগই এখন অনেক নেতার প্রধান প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সেই প্ল্যাটফর্মেই নেতৃত্ব, আনুগত্য, অতীতের নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসছে।

ফলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন আর কেবল দলীয় বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই তা দৃশ্যমান রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

তবে ফেসবুকে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নীরবে বাড়ছে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় হুমকি

আফজারা রিয়া

বর্ষা মানেই কক্সবাজারে স্বস্তির বৃষ্টি। ধুলোমাখা শহর ধুয়ে যায়, পাহাড়ে নামে সবুজের ছোঁয়া, সমুদ্র ফিরে পায় অন্যরকম সৌন্দর্য। কিন্তু এই বৃষ্টির সঙ্গেই প্রতি বছর নীরবে ফিরে আসে আরেকটি অদৃশ্য আতঙ্ক-ডেঙ্গু।

একটি মশা। কয়েক ফোঁটা জমে থাকা পানি। আর কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে প্রাণঘাতী সংক্রমণ।

গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, কক্সবাজারে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় যুদ্ধ এখন শহরে নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে। আক্রান্তের সংখ্যা হোক কিংবা মৃত্যু দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই ক্যাম্পগুলো।

এমন বাস্তবতায় বর্ষা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্বেগ।

ঝুঁকি আছে,তবে প্রতিরোধ কঠিন নয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার বংশবিস্তার রোধ করা। তাই বাড়ি, ক্যাম্প বা আশপাশের কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথা দেখা দিলে নিজে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা করানো জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা।

ডেঙ্গুর কেন্দ্রবিন্দু এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্প

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২১ হাজার ৪৫৪ জন। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৮১ জন, অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশই ছিলেন রোহিঙ্গা।

একই বছরে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৭ জনের মধ্যে ৬ জনই ছিলেন ক্যাম্পের বাসিন্দা।

২০২৫ সালে সংক্রমণ কমে ৮ হাজার ৮৩৮ জনে নেমে এলেও চিত্র খুব একটা বদলায়নি। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ হাজার ৩০৩ জনই রোহিঙ্গা, আর ১১টি মৃত্যুর মধ্যে ১০টিই ঘটেছে ক্যাম্পে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আক্রান্ত ৪৫১ জনের মধ্যে ৩৩০ জনই রোহিঙ্গা। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর খবর না থাকলেও বর্ষার শুরুতেই স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতিকে উচ্চ ঝুঁকির বলে বিবেচনা করছে।

কেন এত ঝুঁকিতে ক্যাম্পগুলো?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে কয়েক লাখ মানুষের ঘনবসতি, সীমিত জায়গা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি জমে থাকা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা, সব মিলিয়ে এডিস মশার জন্য তৈরি হয়েছে আদর্শ প্রজননক্ষেত্র।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছাবের বলেন,

আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, ডেঙ্গু আক্রান্তদের বড় অংশই রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক। অতিরিক্ত জনঘনত্ব, পানি জমে থাকা এবং দ্রুত সংক্রমণের অনুকূল পরিবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বর্ষা সামনে রেখে রোগ নজরদারি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে।

তার মতে, কুতুপালং-বালুখালী মেগা ক্যাম্প, ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন, ক্যাম্প-৮ই, ক্যাম্প-১৩ ও ক্যাম্প-১৫ বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

ভুল ধারণাও বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

ডা. ছাবের বলেন, এখনও অনেকেই মনে করেন এডিস মশা শুধু পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। বাস্তবতা ভিন্ন।

পরিষ্কার কিংবা অপরিষ্কার যে কোনো স্থির পানিতেই এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে।

তাই বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি তিন দিনের বেশি রাখা যাবে না। ডাবের খোসা, টায়ার, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র কিংবা যে কোনো পানিযুক্ত বস্তু নিয়মিত পরিষ্কার বা উল্টে রাখতে হবে।

ক্যাম্পে চলছে সমন্বিত প্রস্তুতি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা মো. রিজওয়ানুল হক ভূঁইঞা বলেন,

বিশাল জনসংখ্যা এবং সীমিত জায়গার কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন সংস্থা ও অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংস, পানি জমে থাকা স্থান শনাক্তকরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

ঝুঁকি শুধু ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ নয়

অনেকে মনে করেন ডেঙ্গু কেবল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমস্যা। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, সেটি ভুল ধারণা।

২০২৪ সালে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৩৬৬ জন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৩৫।

অর্থাৎ কক্সবাজার সদরসহ জেলার প্রতিটি উপজেলাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফে স্থানীয় মানুষ এবং রোহিঙ্গাদের প্রতিদিনের চলাচলের কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেশি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। পুরো জেলাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা নিতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনও বাড়াচ্ছে সংকট

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মহীউদ্দীন আলমগীর মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তার ভাষায়,

অনিয়মিত ভারী বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রার ওঠানামা এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। ফলে ডেঙ্গু এখন আর কেবল মৌসুমি রোগ নয়; বছরের দীর্ঘ সময়ই সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা কিংবা বমি বমি ভাব দেখা দিলে দেরি না করে পরীক্ষা করাতে হবে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সামান্য জ্বরকেও অবহেলা করা যাবে না।

হাসপাতাল প্রস্তুত, কিন্তু সবচেয়ে বড় ওষুধ সচেতনতা

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শান্তনু জানান,

বর্তমানে সংক্রমণ কিছুটা কম থাকলেও আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। প্রয়োজনীয় স্যালাইন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রয়েছে। তবে ডেঙ্গুকে অবহেলা করা যাবে না। জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে এবং দিন-রাত সবসময় মশারী ব্যবহার করতে হবে।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হাসপাতাল নয়, প্রতিরোধ।

ডা. মহীউদ্দীন আলমগীর এর মতে, একটি ছোট্ট প্লাস্টিকের কাপ, একটি ডাবের খোসা কিংবা টবের নিচে জমে থাকা সামান্য পানিই কয়েক দিনের মধ্যে শত শত এডিস মশার জন্ম দিতে পারে। আর সেই মশাই কেড়ে নিতে পারে একটি প্রাণ।

রুটিন অডিটে ইউএনএইচসিআরের ‘জবাবদিহি’: একটি আত্মসমালোচনা ও আত্মসংশোধনের শিক্ষা

ইফতিয়াজ নুর নিশান

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার জগতে একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে- কে কাকে জবাবদিহি করবে? রাষ্ট্র কি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনবে, নাকি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিজেরাই নিজেদের মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে তুলবে? প্রশ্নটির উত্তর কখনোই একরৈখিক নয়। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের কার্যক্রম নিয়ে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি দপ্তর (ওআইওএস) যে নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটি এই বিতর্কে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই প্রতিবেদন মনে করিয়ে দেয়- জবাবদিহি শুধু সমালোচনার ভাষা নয়; এটি আত্মসমালোচনা ও আত্মসংশোধন হওয়ারও ভাষা।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট এখন প্রায় এক দশকের বাস্তবতা। ২০১৭ সালের পর কক্সবাজারে যে বিশাল মানবিক সহায়তা কাঠামো গড়ে উঠেছিল, সময়ের সঙ্গে তার প্রেক্ষাপট বদলে গেছে।

আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমেছে, দাতাদের অগ্রাধিকার পরিবর্তিত হয়েছে, বিশ্বের নানা প্রান্তে নতুন নতুন সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী প্রায় বারো লাখ মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা খুব একটা বদলায়নি।

এই প্রেক্ষাপটে ওআইওএস-এর অডিট রিপোর্টটি শুধু একটি প্রশাসনিক নথি নয়; এটি একটি আয়না, যেখানে একই সঙ্গে সাফল্য, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রতিবেদনটি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, কোনো প্রতিপক্ষের অভিযোগও নয়। এটি জাতিসংঘ ব্যবস্থার ভেতরকার স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থার ফল। তাই এর পর্যবেক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দিয়েই দেখতে হয়।

অডিটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের কৌশলগত পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন, জীবিকা কর্মসূচি, অংশীদার নির্বাচন, গুদাম ব্যবস্থাপনা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় একাধিক দুর্বলতা ছিল। কোথাও পরিকল্পনার ঘাটতি, কোথাও সমন্বয়ের অভাব, কোথাও সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার, আবার কোথাও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সীমাবদ্ধতা।

এসব দুর্বলতা কেবল নীতিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না; মাঠপর্যায়েও তার প্রতিফলন দেখা গেছে।

অডিটে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যে পর্যবেক্ষণ এসেছে, তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও রোগীর তুলনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা বেশি, কোথাও ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল, আবার কোথাও ওষুধ ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার ঘাটতি ধরা পড়েছে। মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সম্পদের অভাব যেমন সমস্যা, বিদ্যমান সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারও তেমনি বড় প্রশ্ন।

একইভাবে, কিচেন সেট, রান্নার সামগ্রী, বালতি, স্লিপিং ম্যাটসহ বিভিন্ন নন-ফুড আইটেমের গুদাম ব্যবস্থাপনা ও বিতরণেও অসঙ্গতি উঠে এসেছে। অনেকের কাছে একটি প্লেট, একটি হাঁড়ি বা একটি চামচের হিসাব তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু শরণার্থী জীবনে এগুলো বিলাসিতা নয়, মৌলিক প্রয়োজন। ফলে এসব সামগ্রীর হিসাবের গরমিল কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি নয়; এটি সহায়তা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতারও প্রশ্ন।

পানি ও স্যানিটেশন খাতেও একই চিত্র। কোথাও ন্যূনতম মান নিশ্চিত হয়নি, কোথাও অবকাঠামো নির্মাণ হলেও তার পূর্ণ ব্যবহার হয়নি। দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকটে এমন দুর্বলতা শুধু সেবার মানকেই প্রভাবিত করে না, জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে।

এসব পর্যবেক্ষণ নিঃসন্দেহে উদ্বেগের।

তবে এই অডিটের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত দুর্বলতার তালিকা নয়; বরং সেগুলোর প্রতি ইউএনএইচসিআরের প্রতিক্রিয়া।

অনেক প্রতিষ্ঠানই সমালোচনার মুখে প্রথমে অস্বীকার করে, পরে ব্যাখ্যা দেয়, শেষে দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে। ইউএনএইচসিআর অন্তত এই অডিটের ক্ষেত্রে সে পথ বেছে নেয়নি।

সংস্থাটি আটটি সুপারিশই গ্রহণ করেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি সুপারিশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কী কাজ চলমান এবং কোন সময়ের মধ্যে তা শেষ হবে—সেটিও বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে। এটি ইতিবাচক দিক।

তবে এখানেই আলোচনা শেষ নয়।

সুপারিশ গ্রহণ করা আর বাস্তবে তা কার্যকর করা এক বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও এমন বহু উদাহরণ আছে, যেখানে অডিটের সুপারিশ কাগজে থেকে গেছে। ফলে ইউএনএইচসিআরের ঘোষিত সংস্কারগুলোর প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন সেগুলোর প্রভাব শরণার্থী শিবিরের হাসপাতাল, গুদাম, পানি সরবরাহ কিংবা দৈনন্দিন সেবায় দৃশ্যমান হবে। তবে সংস্থাটি ইতিমধ্যেই কিছু সুপারিশের বাস্তবায়ন শুরু করেছে এবং যার দৃশ্যমান তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে।

কিচেন সেট ও অন্যান্য নন-ফুড আইটেমের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অডিটে প্রশ্ন উঠলেও, জবাবে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে যে জনসংখ্যার চাহিদা মূল্যায়ন এবং বিতরণ পরিকল্পনার ভিত্তিতে ৬২ হাজার ১০০টি কিচেন সেট ইতোমধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন করে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জন্যও ২০২৫-২৬ সালের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বিতরণের তথ্য ডিজিটাল GDT (Global Distribution Tool) সিস্টেমে সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

নোয়াখালীর ২০ শয্যার হাসপাতাল এবং উখিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতালের সেবায় বিঘ্নের বিষয়টি অডিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ইউএনএইচসিআর তাদের জবাবে বলেছে, হাসপাতাল দুটির কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার মূল কারণ ছিল সরকারকে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সরকারি সক্ষমতা ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা।

ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নোয়াখালীর ২০ শয্যার হাসপাতালটি পুনরায় চালু হয়েছে এবং আইওএম সরকারের পক্ষে এটি পরিচালনা করছে।

অন্যদিকে উখিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতালের জন্যও একটি অপারেশনাল পার্টনার নির্বাচন করা হয়েছে এবং সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার পর হাসপাতালের বিদ্যমান চিকিৎসা সরঞ্জাম পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে।

অর্থাৎ অডিটে যে দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে, তার জবাবে ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তনের একটি চেষ্টা দৃশ্যমান।

অডিটে কুতুপালং ট্রানজিট সেন্টারের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।ইউএনএইচসিআর বলেছে, ধাপে ধাপে এর বর্তমান কাঠামো গুটিয়ে আনা হবে।

স্বাস্থ্যখাতের সমালোচনার জবাবে নতুন স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজ, ওষুধ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ও তথ্যব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়েছে। গুদাম ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ইনভেন্টরি ও নিয়মিত স্টক যাচাইয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগুলোর সাফল্য নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর। একই সঙ্গে এটিও স্বীকার করতে হবে যে, রোহিঙ্গা সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটে সব সীমাবদ্ধতার দায় এককভাবে ইউএনএইচসিআরের নয়।

বাংলাদেশ সরকারের নীতিগত অবস্থান, ক্রমহ্রাসমান আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, দাতাদের অগ্রাধিকার পরিবর্তন এবং মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে সংস্থাটিকে অত্যন্ত জটিল বাস্তবতায় কাজ করতে হচ্ছে।

কিন্তু এই বাস্তবতা ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার ব্যাখ্যা হতে পারে, অজুহাত নয়। বরং সংকট যত দীর্ঘ হয়, জবাবদিহির প্রয়োজন তত বাড়ে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই অডিট আরেকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি বহু প্রতিষ্ঠান স্বাধীন মূল্যায়নকে এখনো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে শেখেনি। অডিট রিপোর্ট অনেক সময় প্রকাশই হয় না। প্রকাশ পেলেও তার বাস্তবায়নের অগ্রগতি আর জনসমক্ষে আসে না।

সেই তুলনায় ইউএনএইচসিআরের অবস্থান একটি ইতিবাচক উদাহরণ। তবে সেই উদাহরণের শক্তি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বাস্তব পরিবর্তনের ওপর, ঘোষণার ওপর নয়।

রোহিঙ্গা সংকট এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে শুধু জরুরি সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমছে, কিন্তু সংকটের মেয়াদ বাড়ছে। ফলে মানবিক সহায়তার প্রতিটি ডলার, প্রতিটি হাসপাতাল, প্রতিটি কিচেন সেট, প্রতিটি পানির লাইন এবং প্রতিটি প্রকল্পের কার্যকারিতা নতুন করে মূল্যায়ন করতেই হবে।

অডিট রিপোর্ট সেই প্রয়োজনীয়তার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। যেটির সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই, সমালোচনা কোনো প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা নয়; সমালোচনা অস্বীকার করাই দুর্বলতা।

আত্মসমালোচনা একটি শক্তি, কিন্তু সেই শক্তির প্রকৃত মূল্য তখনই, যখন তা দৃশ্যমান পরিবর্তনে রূপ নেয়।

সমালোচনা অনেকেই করতে পারেন। কিন্তু সমালোচনাকে আত্মসমালোচনায় রূপান্তর করার সংস্কৃতি বিরল। ইউএনএইচসিআর অন্তত সেই পথেই আছে দীর্ঘদিন ধরে।

এখন দেখার বিষয়, সেই আত্মসমালোচনা কতটা প্রশাসনিক নথিতে সীমাবদ্ধ থাকে, আর কতটা হাসপাতালের সেবা, ওষুধের প্রাপ্যতা, কিচেন সেট বিতরণ, গুদাম ব্যবস্থাপনা কিংবা শরণার্থী পরিবারের প্রতিদিনের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন এনে দেয়।

কারণ শেষ পর্যন্ত একটি অডিট রিপোর্টের সাফল্য নির্ধারিত হয় না তার ভাষায়, বরং তার বাস্তবায়নে।

লেখক- সাংবাদিক, ঢাকা পোস্ট।

জীবনটা যদি আর্জেন্টিনার মতো সহজ হতো!

রাজিন সালেহ

২০১৪ সাল! মারাকানা! মারিও গোটশের সেই অতিরিক্ত সময়ের ভলি যেভাবে ফ্যাটাল ব্লো হলো! জীবনটা যদি ঠিক ততটা সহজ হতো? ট্রফির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মেসির সেই মেলানকোলিক চাহনিটাই যদি সহজ জীবনের সংজ্ঞা হতো, অথবা বৈজ্ঞানিক নাম!

পরপর দু’বছর চিলির কাছে কোপা আমেরিকার টাইব্রেকারে হার! ১৬ সালের কোপার ফাইনালে মেসির শটটি বারের ওপর দিয়ে আকাশে মিলিয়ে গেল! জীবনটা কেবল এটুকুই সহজ হলে হতো!

যার বাঁ পায়ের জাদুতে মুগ্ধ গোটা গোলার্ধ, সেই ত্রাণকর্তাকেই নিয়তি বারবার ছুঁড়ে ফেলেছে এক চরম শূন্যতার ব্ল্যাকহোলে। ট্রফি ছোঁয়ার ঠিক দু-এক ইঞ্চি দূর থেকে এই প্রত্যাখ্যান যদি কোনো সহজ জীবনের উদাহরণ হতো!

২০১৬! চারিদিকের তীব্র সমালোচনা আর বিষাক্ত মিডিয়া ট্রোলিং একজন জাদুকরকে বাধ্য করে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দিতে, সেই হাহাকারের মতোই সহজ যদি জীবন হতো?

২০১৮! ট্র্যাজিক আনলাকি নায়ক হওয়ার মতোই সৌভাগ্য যদি একটু হতো? অথবা সেরকমই জীবন! সহজ জীবন!

সেই কবে থেকে ক্রনিক নীল বিষাদ। আর লিওনেল মেসি হলেন সেই গ্ল্যাডিয়েটর, যিনি সমস্ত ট্র্যাজেডি, সমালোচনা আর ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তবেই নিজেকে অমরত্বের আসনে বসিয়েছেন। জীবন যদি হতেই হয়, তবে আর্জেন্টিনার মতোই হোক! শতবার চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েও শেষ অঙ্কে এসে পুরো পৃথিবীকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো রাজকীয়!

জয় এসেছে, কিন্তু আধিপত্য পুরোপুরি নয়!

ইনসাইট এক্সপ্লেইন

ব্রাজিলের ৩-০ জয় দেখে অনেক সমর্থকই স্বস্তি পেয়েছেন। মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর হাইতির বিপক্ষে অন্তত দলটি নিজের পরিচিত ছন্দে ফিরেছে। কিন্তু স্কোরলাইন যতটা স্বস্তিদায়ক, ম্যাচের ভেতরের গল্প ততটা একপেশে নয়। বরং এই ম্যাচ ব্রাজিলকে যেমন আশা দেখিয়েছে, তেমনি তাদের সীমাবদ্ধতাগুলোও উন্মুক্ত করেছে।

প্রথমার্ধে ব্রাজিল ছিল কার্যকর। ম্যাথেউস কুনিয়ার দুটি গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি গোল ম্যাচ কার্যত শেষ করে দেয়। কিন্তু ম্যাচের সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে, হাইতি মোট শটে মাত্র একটি শটে পিছিয়ে ছিল (৯-৮), লক্ষ্যভেদী শটেও ব্যবধান ছিল সামান্য (৫-৪)।

এটি দেখায়, ব্রাজিল সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারেনি।

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখা দলের ক্ষেত্রে শুধু জয় যথেষ্ট নয়; ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় আবিষ্কার: কুনিয়া

এই ম্যাচে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় অর্জন তিন পয়েন্ট নয়, ম্যাথেউস কুনিয়ার পুনর্জন্ম।

মরক্কোর বিপক্ষে ইগর থিয়াগোকে নিয়ে যে পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছিল, কুনিয়াকে ফিরিয়ে এনে আনচেলত্তি আক্রমণে ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন। তিনি শুধু গোল করেননি, ভিনিসিয়ুসের জন্য জায়গা তৈরি করেছেন, মাঝমাঠ ও আক্রমণের মধ্যে সংযোগও গড়েছেন।

নেইমারের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে যে শূন্যতা ব্রাজিল অনুভব করছিল, কুনিয়া-ভিনিসিয়ুস-পাকেতা ত্রয়ী অন্তত সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারে, এই বিশ্বাস জন্মেছে।

বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে প্রায় সব চ্যাম্পিয়ন দলেরই একটি কার্যকর আক্রমণাত্মক ত্রিভুজ থাকে। ব্রাজিল হয়তো সেই কাঠামোর সন্ধান পেতে শুরু করেছে।

ভিনিসিয়ুস এখন সত্যিকারের নেতা

গত কয়েক বছরে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, নেইমারের পর আক্রমণের নেতৃত্ব কে নেবে?

এই বিশ্বকাপে সেই প্রশ্নের উত্তর হয়ে উঠছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

মরক্কো ম্যাচে ভালো খেলার পর হাইতির বিপক্ষেও তিনি ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। গোল করেছেন, সুযোগ তৈরি করেছেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এবার তিনি একা নন। কুনিয়া ও পাকেতার সহায়তায় তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।

তবে ভিনিসিয়ুসের একটি পুরোনো দুর্বলতা এখনও আছে, অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বল পায়ে রাখা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটি বিপদ ডেকে আনতে পারে।

মাঝমাঠ: ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা

বিশ্বকাপ জয়ের পথে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন সম্ভবত মাঝমাঠ।

লুকাস পাকেতা কিছুটা ছন্দে ফিরেছেন। ব্রুনো গিমারায়েসও দুর্দান্ত খেলছেন। কিন্তু কাসেমিরোকে ঘিরে উদ্বেগ কমেনি।

৩৪ বছর বয়সী কাসেমিরোকে কয়েকবার সহজে পরাস্ত হতে দেখা গেছে। হাইতির মতো দলের বিপক্ষে এটি বড় সমস্যা মনে না হলেও নকআউট পর্বে স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড কিংবা জার্মানির মতো দলের বিপক্ষে এটি মারাত্মক দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে।

আধুনিক ফুটবলে মাঝমাঠের গতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাসেমিরো সেই গতি ধরে রাখতে পারবেন কি না, সেটি এখনও অমীমাংসিত প্রশ্ন।

রাফিনিয়া সংকট

আরেকটি সমস্যা ডান প্রান্তে।

রাফিনিয়া টানা দুই ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। চোটের প্রভাব স্পষ্ট। তার বদলি রায়ানও এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি।

অর্থাৎ ভিনিসিয়ুসের বিপরীত দিকে ব্রাজিল এখনও একটি নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগ খুঁজছে।

আনচেলত্তি হয়তো সামনে এন্দ্রিক কিংবা লুইস হেনরিকের দিকে আরও বেশি ঝুঁকবেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মাঝপথে এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা আদর্শ পরিস্থিতি নয়।

রক্ষণে এখনও অস্বস্তি

স্কোরলাইন বলছে হাইতি গোল করতে পারেনি। কিন্তু ম্যাচ বলছে অন্য গল্প।

হাইতি একাধিক ভালো সুযোগ তৈরি করেছে। আলিসনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং কিছুটা ভাগ্য ব্রাজিলকে ক্লিনশিট এনে দিয়েছে।

বিশ্বকাপে বড় দলগুলো সাধারণত দুর্বল প্রতিপক্ষকে এমন সুযোগ দেয় না। ব্রাজিল সেই মানদণ্ডে এখনও পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি।

তাহলে ব্রাজিলের পথ কতটা মসৃণ?

গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা এখন বেশ উজ্জ্বল। চার পয়েন্ট নিয়ে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।

কিন্তু শিরোপা জয়ের সমীকরণ ভিন্ন।

এই মুহূর্তে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের প্রধান দাবিদার বলা যাবে না, তবে শক্তিশালী প্রতিযোগী অবশ্যই বলা যায়।

কারণ,

যা আছে:

  • ভিনিসিয়ুসের নেতৃত্ব
  • কুনিয়ার ফর্ম
  • আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা
  • ব্রুনো গিমারায়েসের ধারাবাহিকতা
  • ম্যাচ জেতার মানসিকতা

যা এখনও নেই:

  • স্থিতিশীল মাঝমাঠ
  • নির্ভরযোগ্য ডান প্রান্ত
  • সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী রক্ষণ
  • ৯০ মিনিটের আধিপত্য
  • শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পরীক্ষিত কাঠামো

শেষ কথা

হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলকে উত্তর দেয়নি, বরং কিছু নতুন প্রশ্নের পাশাপাশি কয়েকটি আশার আলো দেখিয়েছে।

আনচেলত্তি এখন অন্তত জানেন, ভিনিসিয়ুস-কুনিয়া-পাকেতাকে ঘিরে একটি কার্যকর আক্রমণভাগ গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি এটাও বুঝেছেন যে, কাসেমিরোর গতি, রাফিনিয়ার ফর্ম এবং রক্ষণের দুর্বলতা ঠিক না করলে বিশ্বকাপের শেষ ধাপগুলোতে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।

সুতরাং, ব্রাজিল এখনো ট্রফির পথে দৌড়াচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেটি মহাসড়কের মসৃণ যাত্রা নয়। বরং সামনে এখনও রয়েছে বেশ কয়েকটি বাঁক, কয়েকটি গর্ত এবং কয়েকটি কঠিন পাহাড়ি পথ। হাইতির বিপক্ষে জয় তাদের পথ দেখিয়েছে, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে, এ কথা বলার সময় এখনও আসেনি।

“আমাদেরও দেশ আছে, আমরা দেশছাড়া মানুষ নই”

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে বিশ্বের কোটি কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষের মতো বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গারাও স্মরণ করছেন তাদের হারিয়ে যাওয়া দেশ, ভিটেমাটি, স্বজন ও অতীতের জীবনকে। তবে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে নতুন করে জানাচ্ছেন নিজেদের দীর্ঘদিনের দাবি, শরণার্থী নয়, মর্যাদার সঙ্গে নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে চান তারা।

বে ইনসাইটের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে এ কথা বলেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের।

তার ভাষায়, বিশ্ব শরণার্থী দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়; এটি পৃথিবীর সব শরণার্থীর বেদনা, হারিয়ে যাওয়া পরিচয় এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

“এই দিনটি আসলে আমাদের মনে করিয়ে দেয় কেন আমরা শরণার্থী হয়েছি। আমরা আমাদের দেশ, সম্পত্তি, আত্মীয়-স্বজন, মা-বাবা, ভাই-বোন, সন্তান-সন্ততি সবাইকে স্মরণ করি। আমরা কাঁদি। বিশ্বকে বলতে চাই, আমাদেরও দেশ আছে, আমরা দেশছাড়া মানুষ নই,” বলেন তিনি।

মো. জুবায়েরের অভিযোগ, মিয়ানমারে ধারাবাহিক নিপীড়ন ও সহিংসতার কারণেই রোহিঙ্গারা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি বলেন, “২০১৭ সালে এবং পরে ২০২৪ সালেও গণহত্যা ও নির্যাতনের মাধ্যমে আমাদের বিতাড়িত করা হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা কখনোই শরণার্থী হতে চাইনি, এখনও চাই না।”

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তারা আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু আমরা জানি, এটি স্থায়ী সমাধান নয়।”

রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবাসন দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে মো. জুবায়ের বলেন, আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ও কার্যকর রাজনৈতিক সমাধানের অভাবের কারণেই প্রত্যাবাসন সম্ভব হচ্ছে না।

“বিশ্ব বাংলাদেশকে এমন কোনো সুযোগ বা পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারেনি, যাতে আমরা নিরাপদে আরাকানে ফিরতে পারি। ফলে আজ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মর্যাদার সঙ্গে নিজের ভূমিতে ফিরতে পারেনি,” বলেন তিনি।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ক্যাম্প আসলে এক ধরনের কারাগার। অনেক ক্ষেত্রে কারাগারের চেয়েও এখানে অশান্তি বেশি। এখানে শান্তি নেই, নিরাপত্তা নেই, ভবিষ্যতের কোনো নিশ্চয়তা নেই।”

তিনি আরও বলেন, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো পরিচয়ের প্রশ্ন।

“আমরা বলছি আমরা রোহিঙ্গা। কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন জনগোষ্ঠী ও কর্তৃপক্ষ আমাদের ‘বাঙালি’ বলে। এই বিরোধের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে পারেনি। তাই আজও আমরা এই দুরবস্থার মধ্যে আছি,” বলেন তিনি।

আরাকানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মো. জুবায়ের। তার দাবি, সেখানে চলমান সংঘাত ও ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

“এখনও বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের স্বার্থে খেলা খেলছে। আরাকানের বিভিন্ন এলাকা দখল করা হচ্ছে। আমাদের ফিরে যাওয়ার মতো জায়গাও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে,” বলেন তিনি।

তবে সমাধানের বিষয়ে তিনি একটি বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাবও তুলে ধরেন। তার মতে, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আরাকানে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল বা সুরক্ষিত আশ্রয় নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে সেটি শরণার্থী শিবির হলেও তারা সেখানে যেতে প্রস্তুত।

“পুরো বিশ্ব যদি আমাদের জন্য আরাকানে একটি নিরাপদ আস্তানা তৈরি করে দেয়, সেটা শরণার্থী শিবির হলেও আমাদের আপত্তি নেই। অন্তত সেটা আমাদের নিজ ভূমির কাছাকাছি হবে। আমরা সেখানে থাকতে রাজি,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন এই রোহিঙ্গা নেতা।

“আমরা বাঙালি জনগণকে আর কষ্ট দিতে চাই না। বাংলাদেশের কোনো প্রান্তিক এলাকায় বছরের পর বছর আটকে থাকতে চাই না। আমরা চাই সম্মানের সঙ্গে নিজের ভূমিতে ফিরে যেতে,” বলেন তিনি।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মো. জুবায়ের বলেন, শুধু রোহিঙ্গা সংকট নয়, ভবিষ্যতে যেন পৃথিবীর আর কোনো জনগোষ্ঠী শরণার্থী হতে বাধ্য না হয়, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তার ভাষায়, “আমাদের অনুরোধ, বিশ্ব এমন প্রতিজ্ঞা করুক যাতে আজ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো মানুষ শরণার্থী না হয়। কারণ কেউই শরণার্থী হয়ে জন্মায় না, কেউ শরণার্থী হতে চায় না।”

প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান: শরণার্থী কমিশনার মিজানুর রহমান

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এবং ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় বাংলাদেশ এখন তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে এবং এই সংকটের স্থায়ী সমাধান একমাত্র নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর সবচেয়ে বড় ঢলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা আরও বেড়েছে। বর্তমানে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখের কাছাকাছি।

তার ভাষায়, “গত দুই-আড়াই বছরে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। অন্যদিকে প্রতিবছর ক্যাম্পগুলোতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার নতুন শিশু জন্ম নিচ্ছে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ছে না। ফলে রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।”

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জনগণ ও সরকারকে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। তবে তিনি উল্লেখ করেন, নয় বছর পূর্ণ হতে চললেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আরআরআরসি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম সেবা দিয়ে এখানে রাখা এবং পরে তাদের নিজ দেশে সসম্মানে ফিরিয়ে দেওয়া। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও আমরা প্রত্যাবাসন করতে পারিনি।”

তিনি এর জন্য মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে দায়ী করেন। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও অনিরাপদ পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের পথে প্রধান বাধা বলে উল্লেখ করেন।

মিজানুর রহমান বলেন, “মিয়ানমারের নাগরিকরা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু তাদের নিজ দেশে এখনো এমন পরিবেশ তৈরি হয়নি যেখানে তারা নিরাপদে ফিরে যেতে পারবে। রাখাইনের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের অনুকূল নয়।”

তিনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ সরকারও প্রত্যাবাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে আরআরআরসি বলেন, এই মুহূর্তে সংবাদমাধ্যমে জানানোর মতো বড় কোনো অগ্রগতি নেই। তবে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রত্যাবাসন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে। আমরা আশা করি মিয়ানমার সরকার এবং রাখাইনে সক্রিয় বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যাবে এবং প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।”

আড়াই লাখ রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাই

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রত্যাবাসন প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিজানুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ২০১৭-১৮ সালেই প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গার পারিবারিক তথ্য (ফ্যামিলি ট্রি) মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছিল।

তিনি বলেন, “মিয়ানমার প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই করেছে। তবে সেটিও অনেক আগের বিষয়। এর মধ্যে পরিবারে নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছে, কেউ মারা গেছে, অনেক পরিবার ভেঙে গেছে। ফলে যাচাই একটি চলমান প্রক্রিয়া।”

তার মতে, প্রত্যাবাসন শুরু হলে এসব তথ্য আবার হালনাগাদ করতে হবে। বর্তমানে জাতিসংঘের সহযোগিতায় পরিচালিত নিবন্ধন কার্যক্রম অনুযায়ী প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে নিবন্ধিত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’

ক্যাম্পগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে আরআরআরসি বলেন, এত বড় জনসংখ্যাকে সীমিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করা নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি বলেন, “অনেক রোহিঙ্গা নিজ দেশে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে এখানে এসেছে। তাদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণদের এক ধরনের মানসিক ট্রমা রয়েছে। তারপরও আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।”

তিনি জানান, ক্যাম্প এলাকায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), পুলিশ, র‍্যাব, আনসার এবং সীমান্তে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীরও সহযোগিতা রয়েছে। এসব ব্যবস্থার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

স্থায়ী অবকাঠামো নয়, দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের অভিযোগ সম্পর্কে মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি একটি ভুল ধারণা।

তার ভাষায়, “রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী আবাসন তৈরির কোনো সুযোগ নেই। কিছু জায়গায় ভার্টিক্যাল এক্সটেনশন করা হচ্ছে। সেখানে বাঁশের পরিবর্তে স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু এগুলো স্থায়ী নয়। নাট-বল্টু খুলে অল্প সময়ের মধ্যেই খুলে ফেলা যায়।”

তিনি জানান, পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা ক্যাম্পগুলোতে বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের ঝুঁকি থাকে। ২০২৩ সালে ভূমিধস ও দুর্যোগে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

এর পর থেকে প্রতিটি ক্যাম্পে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্যাম্প-ইন-চার্জদের (সিআইসি) নেতৃত্বে নিয়মিত প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়।

তিনি বলেন, “যেসব এলাকা ভূমিধসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোর ওপর বিশেষ নজর রাখা হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কাজটি কঠিন হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আমরা সফলভাবে এটি করতে পেরেছি। এবারও সেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

দীর্ঘায়িত সংকটের ভার

আরআরআরসি মিজানুর রহমান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে, বাংলাদেশ এখনও মানবিক দায়িত্ব পালন করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, কমে আসা আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তার মতে, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কোনোভাবেই ক্যাম্পে তাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নয়; বরং মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।

“গত কয়েক বছরে রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় এজেন্ডায় প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি” : রাহমান নাসির উদ্দিন

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

আগামী ২৫ আগস্ট পূর্ণ হবে রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ বড় ঢলের নয় বছর। প্রায় এক দশক পার হলেও প্রত্যাবাসনের কোনো বাস্তব অগ্রগতি নেই। বরং জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন অনুপ্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগ কমে যাওয়ার কারণে সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস উপলক্ষে বে ইনসাইটের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শরণার্থী বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন।

তিনি বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ থেকে ১৩ লাখের মধ্যে হলেও প্রকৃত সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি হতে পারে।

রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, “২০১৭ সালে বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ছিল। এরপর গত নয় বছরে জন্মহার বিবেচনায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০ হাজার করে জনসংখ্যা বেড়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন করে অনুপ্রবেশও হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন বাংলাদেশে ১৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে বলে আমি মনে করি।”

প্রত্যাবাসন ‘স্ট্যান্ডস্টিল’ অবস্থায়

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি “স্ট্যান্ডস্টিল” শব্দটি ব্যবহার করেন।

তার ভাষায়, “এটা এমন এক অবস্থা, যেখানে কোনো অগ্রগতিও নেই, আবার আনুষ্ঠানিকভাবে পিছিয়েও যায়নি। সামনে এগোচ্ছে না, পেছাচ্ছেও না।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের বড় ঢল নামার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি করে। এরপর টাস্কফোর্স গঠন, শারীরিক ব্যবস্থাপনা চুক্তিসহ দ্রুত নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু ২০১৮ সালের নভেম্বর এবং ২০১৯ সালের আগস্টে প্রত্যাবাসনের দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

“এর প্রধান কারণ ছিল মিয়ানমারের অনীহা এবং আন্তরিকতার অভাব। রোহিঙ্গারা জানতে চেয়েছিল তারা কোথায় থাকবে, নিরাপত্তা কে দেবে, তাদের ফেলে আসা সম্পদ ফেরত পাবে কি না। এসব প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর মিয়ানমার দিতে পারেনি,” বলেন তিনি।

কোভিড, অভ্যুত্থান ও যুদ্ধের ধাক্কা

রাহমান নাসির উদ্দিনের মতে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার পেছনে পরবর্তী ঘটনাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারির পর পুরো বিষয়টি ধীর হয়ে যায়। এরপর ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। তার বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ফলে প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আরও দূরে সরে যায়।”

তার মতে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও রোহিঙ্গা ইস্যুতে নতুন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

“গত কয়েক বছরে রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় এজেন্ডায় প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি,” বলেন তিনি।

হতাশ তরুণ প্রজন্ম

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই গবেষক বলেন, সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছে ক্যাম্পে বেড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্ম।

“যে শিশুর বয়স ২০১৭ সালে ১০ বছর ছিল, তার বয়স এখন ১৯। যে কিশোরের বয়স ছিল ১৫, সে এখন ২৪ বছরের যুবক। তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টা কেটে যাচ্ছে অনিশ্চয়তার মধ্যে,” বলেন তিনি।

তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা অনেককে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা কিংবা নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

“তারা খুবই হতাশ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে,” যোগ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ কমছে

রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার তালিকায় আগের মতো নেই।

“ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংকট, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাসহ নানা বৈশ্বিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক মনোযোগ অন্যদিকে চলে গেছে। ফলে রোহিঙ্গা ইস্যু ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাচ্ছে,” বলেন তিনি।

তবে শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকেই দায়ী করতে চান না তিনি।

তার মতে, “বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যথেষ্ট কার্যকরভাবে বোঝাতে পারেনি যে এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।”

নতুন বাস্তবতায় নতুন নীতি প্রয়োজন

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই একমাত্র টেকসই সমাধান বলে মনে করেন রাহমান নাসির উদ্দিন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় তা দ্রুত সম্ভব নয় বলেও তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, “ধরুন কাল বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সিদ্ধান্ত নিল রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে। তবুও বাস্তবায়ন করা কঠিন। কারণ রাখাইন রাজ্যের বড় অংশ এখন মিয়ানমার কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে নেই।”

তার মতে, শুধু প্রত্যাবাসনের কথা বললে হবে না; পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন।

তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের প্রস্তাব

সমাধানের অংশ হিসেবে তিনি তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেন।

“যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করে আরও বেশি রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসনের সুযোগ খুঁজতে হবে,” বলেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করারও পরামর্শ দেন।

তার ভাষায়, “১৫ লাখ মানুষকে শুধু সহায়তার ওপর নির্ভরশীল করে রাখলে হবে না। তাদের এমন কাজে যুক্ত করতে হবে, যাতে তারা বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হয়।”

ভাসানচরে পশুপালন, হস্তশিল্প ও অন্যান্য জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে রোহিঙ্গাদের দক্ষতা ও শ্রমকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

‘প্যাকেজ ডিল’ ভাবনার প্রস্তাব

রাহমান নাসির উদ্দিন আরও বলেন, যেহেতু সংকট দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা নেই, তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা বা “প্যাকেজ ডিল” নিয়ে ভাবা যেতে পারে।

“বাংলাদেশ যদি আরও কয়েক বছর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও অন্যভাবে এর দায় ভাগ করে নিতে হবে। সেটা হতে পারে বাণিজ্য সুবিধা, শিক্ষা বৃত্তি, শ্রমবাজারে সুযোগ বৃদ্ধি বা অন্যান্য সহযোগিতার মাধ্যমে,” বলেন তিনি।

তার মতে, প্রায় এক দশক ধরে চলমান এই সংকট মোকাবিলায় পুরোনো অবস্থানের পাশাপাশি নতুন বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণের সময় এসেছে।

উখিয়াঃ অভাব-অনটনের জেরে স্বামীর ‘ছুরিকাঘাতে’ স্ত্রী ‘খুন’

বে ইনসাইট ডেস্ক

অভাব-অনটন আর দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তিন সন্তানের জননীর প্রাণ। কক্সবাজারের উখিয়ায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটির পর রক্তাক্ত মরদেহ কাঁধে করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাগলিরবিল এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনার তথ্য জানিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান।

নিহত পারভীন আক্তার (২৮) হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ি এলাকার আবদুল গফুরের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী আবদুল আলম (৩২) পাগলিরবিল এলাকার শামসুল আলমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

নিহতের ছোট বোন ইয়াসমিন আক্তার দাবী করেন, গভীর রাতে বাড়ি ফিরে আবদুল আলম ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে খাবার খাওয়ার সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি পারভীনকে মারধর করেন। পরে পারভীন রাগ করে বাবার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলে পেছন থেকে তার ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় পারভীনকে কাঁধে করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়।

উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত স্বামী এবং তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের ভাই সৌদি প্রবাসী কামাল উদ্দিন জানান, দম্পতির সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারে অভাব-অনটন ও পারিবারিক অশান্তি বিরাজ করছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিন বলেন, পারিবারিক আর্থিক সংকটকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।

এদিকে উখিয়া থানার ওসি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের অভাব, অশান্তি ও সম্পর্কের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত রূপ নিল ভয়াবহ এক ট্র্যাজেডিতে। আর সেই ট্র্যাজেডির সবচেয়ে বড় সাক্ষী হয়ে রইল দম্পতির তিন সন্তান, যারা এক মুহূর্তেই হারাল তাদের মাকে।