মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে কক্সবাজার: মেজর জিয়ার আগমন ও প্রতিরোধের বাস্তবতা

কালাম আজাদ

১৯৭১ সালের মার্চের শেষ সপ্তাহ। বাংলার ইতিহাসে এক অস্থির, অনিশ্চিত এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর সেই অস্থির দিনগুলোতে পূর্ববাংলার ভূগোল যেমন ভেঙে পড়ে, তেমনি ভেঙে পড়ে আস্থার প্রচলিত কাঠামোও। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে বাঙালি জাতির উপর যে গণহত্যা শুরু হয়, তার অভিঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র পূর্ব বাংলায়। চট্টগ্রাম ছিল সেই প্রথম আঘাতপ্রাপ্ত নগরগুলোর একটি। কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কালুরঘাটের দিকে নজর দেয়।

এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থানরত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তারা বিচ্ছিন্নভাবে হলেও প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এই প্রেক্ষাপটে মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট অতিক্রম করে দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগত অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন এবং ট্রান্সমিটার সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

পটিয়ায় কিছুক্ষণ অবস্থানের পর মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর মীর শওকত আলী ও ক্যাপ্টেন অলি আহমদ ২৮ মার্চ সড়কপথে কক্সবাজারের পথে রওয়ানা দেন। কিন্তু যে বাস্তবতার মুখোমুখি তারা হন, তা ছিল যুদ্ধের প্রথম দিককার এক নির্মম সত্য—পরিচয়ের অনিশ্চয়তা। চকরিয়া থেকে রামু পর্যন্ত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এমন কঠোর পাহারা বসিয়েছিলেন, যেখানে সন্দেহই ছিল প্রধান নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে মেজর জিয়ার দল সেই পাহারার জালে আটকা পড়ে।

রামুর উত্তর মিঠাছড়িস্থ চা বাগানেও পাহারা বসানো হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে। কক্সবাজার মহকুমা সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর কোনো ব্যক্তি জান নিয়ে কক্সবাজারের দিকে যেতে না পারে। নির্দেশ পালন করতে গিয়ে চকরিয়ায় ৪ জনকে চর সন্দেহে মেরে ফেলা হয় সংগ্রাম কমিটির নির্দেশে। এমনই কড়া পাহারা বসানো হয়, সে জালে মেজর জিয়াউর রহমান ও তার দল আটকা পড়ে।

২৮ মার্চ রামুর চা বাগানে মুক্তিযোদ্ধারা মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর মীর শওকত আলী, ক্যাপ্টেন অলি আহমদ, ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান চৌধুরীসহ সকলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। তাদের গায়ে সামরিক পোশাক ছিল, কিন্তু তারা ব্যাজ খুলে ফেলায় মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পলায়নরত পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সেনা ভেবে ঘেরাও করে ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে ক্যাপ্টেন অলি আহমদ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘আঁরঅ বাড়ি চন্দনাইশ। এই অইলো মেজর জিয়া, যার ঘোষণা অঁনরা রেডিওতে শুন্নন’।

তখন ‘মেজর জিয়া আওয়ামী লীগ নেতার সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করলে আফসার কামাল চৌধুরী, ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী এগিয়ে এসে তাকে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করেন।’ [মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম: আন্দোলন সংগ্রামের দিনগুলো—বায়ান্ন থেকে একাত্তর, কামরুল হাসান সম্পাদিত বিজয় স্মারক ২০১১, (কক্সবাজার: জেলা প্রশাসন, ১৬ ডিসেম্বর ২০১১), পৃ. ৭২-৭৩/ কালাম আজাদ: মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজার: জানা-অজানা তথ্য, বিজয় স্মারক ২০১২, (কক্সবাজার: জেলা প্রশাসন, ১৬ ডিসেম্বর ২০১২), পৃ. ৫২।]

এ ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ‘বন্ধু ও শত্রু’ চিহ্নিত করার জটিলতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। আফসার কামাল চৌধুরী ও ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর সহায়তায় এরপর তারা আবার কক্সবাজার শহরের পথে অগ্রসর হয়। পথে আর কোনো ঝামেলায় যাতে পড়তে না হয়, সে জন্য জিপে রামু-উখিয়া-টেকনাফ আসনের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীকে বসিয়ে রাখা হয়। জিয়া নিজেই জিপটি চালাচ্ছিলেন। পাশের আসনে অলি আহমদ।’ (Col. Oli Ahmad, `Revolution Military Personnel and the War of Liberation in Bangladesh, 2009, Dhaka: Annesha Prokashon, P. 30-31.) পরে ডাকবাংলাতে স্থাপিত কক্সবাজারে সংগ্রাম কমিটির কন্ট্রোল রুমে নিয়ে আসা হয়।

কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর সংগ্রাম কমিটির নিয়ন্ত্রণকক্ষে তাদের নেওয়া হয়। ইপিআর ও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদেরকে কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যারেটরি হাই স্কুল এবং মেজর জিয়া, মীর শওকত আলী ও ক্যাপ্টেন অলি আহমদকে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় থাকার ব্যবস্থা করে কক্সবাজার মহকুমা সংগ্রাম কমিটি। বিশ্রাম শেষে মেজর জিয়া কক্সবাজারে অবস্থানরত ইপিআর (বাঙালি ও অবাঙালি)-এর খবর নিলেন এবং ইপিআর সুবেদার জোনাব আলীকে ডেকে আনলেন। স্থানীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও ইপিআরের অবস্থান সম্পর্কিত হয়ে বাঙালি ও অবাঙালি ইপিআর সদস্যদের মধ্যে বিভাজন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি তাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

জোনাব আলীর কাছ থেকে অবাঙালি ইপিআরের অবস্থান এবং তাদের তৎপরতা সম্পর্কে জেনে তাদেরকে খতম করার জন্য নির্দেশ দিলেন। তার নির্দেশ মোতাবেক কারাবন্দি অবাঙালি ইপিআর সৈন্যকে প্রথমে কক্সবাজার সরকারি হাই স্কুলের বিপরীতে নিয়ে মেরে ফেলতে চাইলে নানা কারণে সম্ভব না হওয়ায় রামুর পানেরছড়া ঢালায় নিয়ে গিয়ে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয় সুবেদার শাহনেওয়াজ খানসহ ১২ জন অবাঙালি ইপিআর সদস্যকে।

ওই দিন মেজর জিয়া কক্সবাজারের স্বনামধন্য উকিল অগ্নিযুগের বিপ্লবী জ্যোতিশ্বর চক্রবর্তীর সাথে দেখা করেন। রহস্যাবৃত মাহমুদ হোসেন মেজর জিয়াকে অ্যাডভোকেট জ্যোতিশ্বর চক্রবর্তীর ছেলে নিখিলেশ্বর চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন। সেই মোতাবেক জিয়া ও অলি জ্যোতিশ্বর চক্রবর্তীর বাসায় যান এবং জানতে পারেন, ছেলে তিন দিন আগেই লন্ডন চলে গেছেন। ধারেকাছেও কোথাও সপ্তম নৌবহর নেই।’

লেখক মহিউদ্দীন আহমদ ‘আওয়ামী লীগ: যুদ্ধদিনের কথা ১৯৭১’ বইয়ে ‘ওই উকিলের ছেলে’ আমেরিকায় চলে গেছেন বলে উল্লেখ করে লিখেন—‘মাহমুদ কক্সবাজারে একজন উকিলের ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন। সেই মোতাবেক জিয়া ও অলি ওই উকিলের বাসায় যান এবং জানতে পারেন, ওই উকিলের ছেলে তিন দিন আগেই আমেরিকায় চলে গেছেন। ধারে কাছে কোথাও নৌবহর নেই। ৩০ মার্চ জিয়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে যান এবং দ্বিতীয় ঘোষণাটি দেন।’ (মহিউদ্দিন আহমেদ: আওয়ামী লীগ: যুদ্ধদিনের কথা ১৯৭১, পৃ. ৮২-৮৩)। যে ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এডভোকেট জ্যোতিশ্বর চক্রবর্তীর সাথে মেজর জিয়া ও অলির সাক্ষাতের প্রত্যক্ষদর্শী জহরলাল পাল চৌধুরী ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ২৮ মার্চ মেজর জিয়া, ক্যাপ্টেন অলি আহমদসহ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বেশ কয়েকজন সৈন্য নিয়ে কক্সবাজারে আসেন। ওই সময় মেজর জিয়া ও ক্যাপ্টেন অলি আহমদ অগ্নিযুগের বিপ্লবী অ্যাডভোকেট জ্যোতিশ্বর চক্রবর্তীর সাথে দেখা করতে তার বাসায় যান। ওই সময় আমি, স. আ. ম. শামসুল হুদা চৌধুরীর ছেলে ইউসুফ মোহাম্মদ শামসুল হুদা, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা সুভাষ চন্দ্র পাল, দেবব্রুত চৌধুরী, লালুসহ আরও বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলাম।’ (জহরলাল পাল চৌধুরী, ‘যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি তারা আমাদের চেয়ে ভালো থাকতে দেখে অপমানবোধ করি (কালাম আজাদ গৃহীত সাক্ষাৎকার), ৮ ডিসেম্বর ২০১৪, দৈনিক কক্সবাজার বাণী)।

২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত কক্সবাজার আওয়ামী লীগ ও কক্সবাজার মহকুমা সংগ্রাম কমিটির বৈঠকে মেজর জিয়া উপলব্ধি করেন যে, গেরিলা যুদ্ধ চালাতে হলে বহিরাগত সহায়তা অপরিহার্য। তাই কক্সবাজার মহকুমা সংগ্রাম কমিটির বৈঠকে বার্মার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাঁর পরামর্শমতে, কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুর আহমদ এবং কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরীকে সাথে নিয়ে মংডু শহরে গিয়ে বার্মা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু বার্মা কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এই ব্যর্থতা কক্সবাজার অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের কৌশলগত সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে। এ ব্যাপারে ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া কক্সবাজার মহকুমা সংগ্রাম কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরীর স্মৃতিচারণ স্মরণযোগ্য—
“জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ এক বৈঠক বসেন। ২৯ মার্চ [২৮ মার্চ] রাত ৮টার পর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় অনুষ্ঠিত হয় ওই বৈঠক। বৈঠকে কক্সবাজারের গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ছাত্র-যুবকদের ট্রেনিং দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। ওই বৈঠকে তিনি বার্মার সহযোগিতা না পেলে কক্সবাজার থেকে গেরিলা যুদ্ধ সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন। অ্যাডভোকেট নুর আহমদ সাহেবকে বার্মার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে সমর্থন আদায় করতে অনুরোধ করেন। নুর আহমদ সাহেব ডা. শামসুদ্দিন সাহেবকে নিয়ে এ লক্ষ্যে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মংডু শহরে পৌঁছান। সমর্থন পাওয়া তো দূরের কথা; উল্টো মিয়ানমার সরকার তাদের নজরবন্দি করে রাখে।” (নজরুল ইসলাম চৌধুরী: যে কথা বলা হয়নি, বিজয় স্মারক ২০১৪, (কক্সবাজার: জেলা প্রশাসন, ডিসেম্বর ২০১৪), পৃ. ৪৪)।

পরে মেজর জিয়াউর রহমান ও ক্যাপ্টেন অলি আহমদ মীর শওকত আলীকে আরও কয়েকদিন কক্সবাজারে থাকার নির্দেশ দিয়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাটের দিকে রওয়ানা হন। মেজর জিয়া কক্সবাজার ত্যাগ করার পর মীর শওকত আলী পৌর প্রিপ্যারেটরি হাই স্কুল ও পিটিআই স্কুল মাঠে প্রশিক্ষণরত মুক্তিযোদ্ধাদের তদারকি করেন।

মেজর মীর শওকত আলী কমান্ডার সেলিমুর রহমানের নেতৃত্বে পৌর প্রিপ্যারেটরি হাই স্কুল মাঠে প্রশিক্ষণরত আড়াইশত মুক্তিযোদ্ধার সাথে ব্রিফিং করে তাদের মধ্য থেকে ১৮ জনকে নিয়ে ‘আলফা ট্রুপ’ নামে একটি দলে বিভক্ত করেন। আলফা ট্রুপ গঠনপূর্বক মেজর মীর শওকত আলী এ ট্রুপ গঠনের ইতিহাস বলতে গিয়ে বলেন, ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের পাক-ভারত যুদ্ধে মীর শওকতকে প্রধান করে একটি গ্রুপের নাম ছিল আলফা ট্রুপ।

কমান্ডার সেলিমুর রহমানের নেতৃত্বে ওই গ্রুপের সদস্য ছিলেন এ. কে. এম. মনসুর উল হক, মনজুর আলম মজনু, জালাল আহমদ, মোহাম্মদ আলী, আবদুল কাদের, কামাল উদ্দিন, আহম্মদ হোসেন, আল মামুন, শামসুল হুদা মান্নু, নুরুল নন্দা, মাস্টার শাহ আলম প্রমুখ। ট্রেনিং শেষে ওই মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপকে কন্ট্রোল রুম থেকে দশটি থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল হস্তান্তর করা হয়।

এই সামরিক পুনর্গঠন মুক্তিযুদ্ধের বিকেন্দ্রীভূত কিন্তু সমন্বিত চরিত্রকে তুলে ধরে। কক্সবাজারে মেজর জিয়ার আগমন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে সামনে নিয়ে আসে—বিভ্রান্তি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, স্থানীয় পর্যায়ে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ এবং দ্রুত সামরিক পুনর্গঠন। এই তিনটি উপাদানই পরবর্তীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে একটি সংগঠিত ও সর্বাত্মক জনযুদ্ধে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করে।

কালাম আজাদ
লেখক ও গবেষক