জীবনটা যদি আর্জেন্টিনার মতো সহজ হতো!

রাজিন সালেহ

২০১৪ সাল! মারাকানা! মারিও গোটশের সেই অতিরিক্ত সময়ের ভলি যেভাবে ফ্যাটাল ব্লো হলো! জীবনটা যদি ঠিক ততটা সহজ হতো? ট্রফির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মেসির সেই মেলানকোলিক চাহনিটাই যদি সহজ জীবনের সংজ্ঞা হতো, অথবা বৈজ্ঞানিক নাম!

পরপর দু’বছর চিলির কাছে কোপা আমেরিকার টাইব্রেকারে হার! ১৬ সালের কোপার ফাইনালে মেসির শটটি বারের ওপর দিয়ে আকাশে মিলিয়ে গেল! জীবনটা কেবল এটুকুই সহজ হলে হতো!

যার বাঁ পায়ের জাদুতে মুগ্ধ গোটা গোলার্ধ, সেই ত্রাণকর্তাকেই নিয়তি বারবার ছুঁড়ে ফেলেছে এক চরম শূন্যতার ব্ল্যাকহোলে। ট্রফি ছোঁয়ার ঠিক দু-এক ইঞ্চি দূর থেকে এই প্রত্যাখ্যান যদি কোনো সহজ জীবনের উদাহরণ হতো!

২০১৬! চারিদিকের তীব্র সমালোচনা আর বিষাক্ত মিডিয়া ট্রোলিং একজন জাদুকরকে বাধ্য করে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দিতে, সেই হাহাকারের মতোই সহজ যদি জীবন হতো?

২০১৮! ট্র্যাজিক আনলাকি নায়ক হওয়ার মতোই সৌভাগ্য যদি একটু হতো? অথবা সেরকমই জীবন! সহজ জীবন!

সেই কবে থেকে ক্রনিক নীল বিষাদ। আর লিওনেল মেসি হলেন সেই গ্ল্যাডিয়েটর, যিনি সমস্ত ট্র্যাজেডি, সমালোচনা আর ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তবেই নিজেকে অমরত্বের আসনে বসিয়েছেন। জীবন যদি হতেই হয়, তবে আর্জেন্টিনার মতোই হোক! শতবার চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েও শেষ অঙ্কে এসে পুরো পৃথিবীকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো রাজকীয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *