‘পেওনিয়ারে’ বছরে ৮২ লাখ টাকা বেতনে কক্সবাজারের রাকিবের নিয়োগ কতোটুকু সত্য?

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে কক্সবাজারের রাকিবুল ইসলাম সৈকত নামে এক তরুণের বিশ্বখ্যাত ফিনটেক জায়ান্ট ‘পেওনিয়ার’ (Payoneer)-এ বড় অংকের বেতনে নিয়োগ পাওয়ার খবরটি ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, বার্ষিক ৭০ হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা বেতনে তিনি সেখানে যোগ দিয়েছেন।

ভাইরাল হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়, ৬ বছরের রিমোট জবের অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘সোলার ইউনিয়ন’ নামক প্রতিষ্ঠানে অভাবনীয় সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে পেওনিয়ার তাকে এই উচ্চ বেতনে নিয়োগ দিয়েছে। এমনকি তার কথিত একটি ‘অফার লেটার’ বা নিয়োগপত্রের ছবিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি প্রকাশের পর জেলা জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং অনেকে তাকে সফলতার উদাহরণ হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করতে থাকেন।

বিষয়টি কিছুটা আলোচনায় এলে শুরু হয় বাংলাদেশের আইটি বিশেষজ্ঞ এবং পেওনিয়ারের সাথে কানেক্টেড পর্যায় থেকে ভিন্ন মতামত দেওয়া।

কি বলছেন বাংলাদেশের পেওনিয়ার সংশ্লিষ্টরা?

‘পেওনিয়ার বাংলাদেশ অফিশিয়াল’ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন রাশেদুল হাসান এক পোস্টে জানান, “আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেওনিয়ারের নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ছবি ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, এই তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং অননুমোদিত। ওই নিয়োগপত্র এবং দাবিকৃত তথ্যগুলো মোটেও আসল নয়।”

‘পেওনিয়ার বাংলাদেশ অফিশিয়াল’ নামক ফেসবুক গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা ১লক্ষ ৪৭ হাজারেরও বেশি। পেওনিয়ার নিয়ে সবচেয়ে বেশি সুপরিচিত ও সাড়া ফেলা ফেসবুক গ্রুপ এটি।

ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরের পরিচিত প্রতিষ্ঠান Bizcope বে ইনসাইটের কাছে দাবী করেছে, নিয়োগের এই খবরটি একটি ‘ফেইক নিউজ’। তাদের মতে, ছড়িয়ে পড়া নিয়োগপত্রটিতে কাঠামোগত ভুল আছে, যা কোনো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অসম্ভব।

রাকিবুল ইসলাম সৈকতের বক্তব্য

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা রাকিবুল ইসলাম সৈকতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি তার ব্যক্তিগত সাফল্যের দাবি বজায় রাখলেও পেওনিয়ারের ওই নির্দিষ্ট নিয়োগপত্রটির সত্যতা বা গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

সৈকত বে ইনসাইটকে বলেন, “এখন অনেকেই ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করছে, আমি সোমবার থেকে কাজ শুরু করবো। দোয়া করবেন।”

পেওনিয়ার ও বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

পেওনিয়ার হলো একটি আমেরিকান ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্বজুড়ে ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বাংলাদেশে এর বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী থাকলেও বর্তমানে দেশে পেওনিয়ারের কোনো কার্যকর অফিস নেই।

তবে বাংলাদেশের ব্যাংক এবং বিকাশ (MFS)-এর সাথে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে তারা তাদের সেবা প্রদান করে থাকে।

ফের হামের থাবা, কক্সবাজার হাসপাতালে আরো দুই শিশুসহ এখন পর্যন্ত ২০ শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্য বিট । বে ইনসাইট

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেইসাথে গেলো তিন দিনে হুহু করে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। জেলা সদর হাসপাতালে তিনদিনে ভর্তি হয়েছে ৯৪ জন শিশু।

গতকাল মারা যাওয়া শিশুরা হলো রামু উপজেলার মিজানুর রহমানের ৮ মাস বয়সী পুত্র আতিকুর রহমান এবং একই এলাকার জাবেদের ৬ মাস বয়সী কন্যা ওয়াজিফা।

রোববার (৩ মে) কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শান্তনু ঘোষ।

ডা. ঘোষ জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু দুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, ওয়াজিফাকে গত ২৪ এপ্রিল ভর্তি করা হয় এবং ৩ মে সকাল ৮টায় তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আতিকুর রহমানকে ৩ মে ভর্তি করার পর একই দিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত সন্দেহে নতুন করে ২৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৭৯ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হামে সন্দেহভাজন হিসেবে ২০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জন রোহিঙ্গা শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৮৮৩ জন শিশু।

অন্যদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় মোট ১,৪৫২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

কক্সবাজারে কয়েক ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনা, বজ্রপাত ও আত্মহত্যাসহ ৫ জনের মৃত্যু

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজারে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক পাঁচটি ঘটনায় এক রোহিঙ্গা শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন, বজ্রপাতে একজন এবং আত্মহত্যায় একজনের মৃত্যু। এসব ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩-তে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর একটি গাড়ির ধাক্কায় আবু ওয়াইদা (৪) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পের ই/০১ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু ওয়াইদা ক্যাম্প-১৩-এর জি/০৪ ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবা মৌলবী আব্দুল্লাহ ও মা হামিদা। পুলিশ জানায়, আইওএম পরিচালিত একটি গাড়ি (চট্ট মেট্রো-চ-১১-৮৭৬৪) ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটিকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা গাড়িটি ভাঙচুর করে। পরে এপিবিএন পুলিশ ও উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর গাড়িচালক পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ঈদগাঁও উপজেলায় নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে নুরুল হক (৮০) নামে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছেন।

মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের জাগিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ভোররাতে নিজ ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস নেন নুরুল হক। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, নুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. মিজানুর রহমান নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হারবাং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের দোহাজারী পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি চন্দনাইশ এলাকায় কর্মরত একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন।

চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার পরিদর্শক মো. আরিফুল আমিন বলেন, কক্সবাজারমুখী মোটরসাইকেলের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পূরবী পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মোক্তার হোসেন (৪৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর ইউনিয়নের রাজার ছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী (শামলাপুর) এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, বাহারছড়া থেকে টেকনাফগামী মোটরসাইকেলটি হঠাৎ এক পথচারী সামনে চলে আসায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাস্থলেই মোক্তার হোসেন মারা যান। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের চৌফলদণ্ডী ব্রিজ এলাকায় বজ্রপাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলম জানান, লবণের মাঠ থেকে ব্রিজের ওপর ওঠার সময় বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

মনজুর আলম বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

নাফ নদের সীমান্তে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ফের নিখোঁজ চাকমা শ্রমিক

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তের নাফ নদী এলাকায় কাঁকড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে আবারও এক চাকমা দিনমজুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দাবি, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর আগে একইভাবে নিখোঁজ হওয়া আরও দুই চাকমা যুবকেরও আজ পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ সা মুং চিং চাকমা টেকনাফ উপজেলার লাম্বাঘোনা এলাকার বাসিন্দা উগবার ছেলে।

পরিবার জানায়, ২২ এপ্রিল বুধবার সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীর এলাকায় কাঁকড়া সংগ্রহ করতে যান সা মুং চিং চাকমা। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

তার স্ত্রী ছাম্মিয়াউ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “আমার স্বামী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে আমরা সন্দেহ করছি। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমরা খুব উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি।”

তিনি জানান, এ ঘটনায় উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কাজ করছেন।”

তদন্তসংশ্লিষ্ট এসআই আব্দুল আজাদ বলেন, “সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ হওয়ায় এবং এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু না পাওয়ায় তদন্তে তেমন অগ্রগতি নেই। তবে আমরা কাজ করছি।”

দুই বছর আগেও একইভাবে নিখোঁজ দুই যুবক

স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি নতুন ঘটনা নয়। প্রায় দুই বছর আগে একইভাবে কাঁকড়া ও মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন আরও দুই চাকমা যুবক। আজ পর্যন্ত তাদেরও কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ ওই দুইজন হলেন টেকনাফ উপজেলার ১ নম্বর হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাঘোনা চাকমা পল্লীর বাসিন্দা ছৈলা মং চাকমা (৩০) ও ক্যমংখোএ তঞ্চঙ্গ্যা (১৯)।

ছৈলা মং চাকমার ভাই পিরামং চাকমা বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ মে সকাল ৭টার দিকে টেকনাফ থানাধীন হাউস দ্বীপের পাশে ৫ নম্বর গেইট সংলগ্ন নাফ নদীতে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে তারা নিখোঁজ হন।

তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী আমাদের জানিয়েছিলেন, তাদেরকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে। ধারণা করছি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদেরকে ধরে রেখেছে। কিন্তু কেন আটকে রাখা হয়েছে, তা আমরা জানি না। আজ পর্যন্ত কোনো মুক্তিপণও দাবি করা হয়নি।”

“দুই বছর পার হতে চলেছে। এখন আমরা তাদের জীবনের ঝুঁকি কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা করছি।”

অভিযোগের পরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কক্সবাজার জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাত তঞ্চঙ্গ্যা আলো বলেন, নিখোঁজের ঘটনার পরদিন ১৭ মে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

তিনি বলেন, “বিজিবি, র‍্যাবসহ সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রশাসনের কাছে বারবার ধর্না দিয়েও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখিনি।”

‘সীমান্ত পেরিয়ে গেলে উদ্ধার কঠিন’

তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে চলে যায়, ফলে পরে নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নাফ নদীতে মাছ ধরা, কাঁকড়া ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু অনেকেই স্থানীয় মহাজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখানে যায়।”

তিনি বলেন, “কেউ নিখোঁজ হয়, কেউ মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়, তবু মানুষের যাওয়া থামছে না। অনেক সময় তারা অবৈধ ব্যবসা, বিশেষ করে মাদক সংশ্লিষ্ট কাজেও জড়িয়ে পড়ে।”

বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা মানুষকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। রোহিঙ্গারাও যেন সীমান্তে না যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করছি। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে কেউ নিজের দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে গেলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায়ও।”

তিনি আরও বলেন, “জেলেদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, যারা অপহরণের অভিযোগ করে, তাদের ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশই মিয়ানমারের ভেতরে চলে যায়। বাংলাদেশের ভেতরে থেকে তাদের অপহরণ করা হয়েছে, এমন প্রমাণ সাধারণত পাওয়া যায় না।”

স্থানীয় চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় জীবিকার তাগিদে কাঁকড়া ও মাছ ধরতে যাওয়া অনেকেই আর ফিরে আসছেন না। কিন্তু নিখোঁজদের উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগের অভাব তাদের হতাশ করে তুলছে।

রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তাহসানের দায়িত্ব নবায়ন

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

জনপ্রিয় গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা ও উপস্থাপক তাহসান খান জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের (UNHCR) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তাঁর দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে নবায়ন করেছেন।

ইউএনএইচসিআরের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২১ সালে বাংলাদেশে সংস্থাটির প্রথম শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি শরণার্থী ইস্যুতে সচেতনতা তৈরি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে কাজ করে আসছেন।

দায়িত্ব নবায়নের পর তাহসান বলেন, “রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর নয় বছর পার হয়েছে। একটি টেকসই সমাধান না আসা পর্যন্ত তাদের দুর্দশার প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল থাকা প্রয়োজন।”

তিনি জানান, শরণার্থী ক্যাম্পে গিয়ে বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

আমি এমন সব পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা অকল্পনীয় ক্ষতি ও কষ্টের শিকার হয়েছেন। তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি তাঁদের গল্পগুলো সবার কাছে তুলে ধরতে চাই।

বিবৃতিতে বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, তাহসান দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের পক্ষে একজন সক্রিয় কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছেন।

“তাঁর সম্পৃক্ততা এমন এক সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন, যা এই সময়ে আমাদের সবার প্রয়োজন। তাঁর নিয়োগের মেয়াদ বাড়াতে পেরে আমরা গর্বিত,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দশ লাখের বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত কয়েক বছরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন তাহসান। তিনি ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন, শরণার্থী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিশ্ব শরণার্থী দিবসসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন।

২০২৫ সালে ক্যাম্পের একাংশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেন তিনি। ওই ঘটনায় হাজারো মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার বিষয়টি নিজের চোখে দেখেছেন বলে জানান।

সে সময় তাহসান বলেন, “শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে চায়। যতদিন তা সম্ভব না হয়, ততদিন আমাদের তাদের পাশে থাকতে হবে—সহায়তা, সুরক্ষা ও জীবনরক্ষাকারী সেবা দিয়ে।”

ইউএনএইচসিআরের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় সংস্থাটির অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য আমি কৃতজ্ঞ, বিশেষ করে তাদের কাজের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিলে।”

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই কক্সবাজার জেলার ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বসবাস করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী আবাসন।

প্রায় নয় বছর ধরে এসব ক্যাম্পে বসবাস করা অনেক শরণার্থীর জন্য শিক্ষা, জীবিকা ও দীর্ঘমেয়াদি সুযোগের প্রবেশাধিকার সীমিত।

ইউএনএইচসিআরের ৩৬ জন শুভেচ্ছাদূতের একজন হিসেবে তাহসান এখন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। শুভেচ্ছাদূতরা জনসমর্থন তৈরি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজন ও অধিকার তুলে ধরার মাধ্যমে সংস্থাটির কার্যক্রমকে এগিয়ে নেন।

বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর বলছে, তাহসানের দায়িত্ব নবায়নকে শরণার্থীদের প্রতি সংস্থাটির আস্থা ও যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটে আক্রান্ত মানুষগুলো বিশ্ববাসীর দৃষ্টি থেকে হারিয়ে না যায়।

টেকনাফের পাহাড় থেকে তিন যুবকের লাশ উদ্ধারঃ পুলিশ বলছে ‘পাচার-ডাকাতি’ দ্বন্দ্ব

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ তাদের ‘ডাকাতি ও মানবপাচারের’ সাথে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার পাহাড়ে তাদের মরদেহ দেখতে পান কাঠুরিয়ারা। পরে সেখান থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস ।

নিহতরা হলেন- স্থানীয় নুরুল কবিরের ছেলে মুজিব উল্লাহ, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর ও রুহুল আমিনের ছেলে রবিউল আওয়াল।

রবিউল আউয়ালের পিতা রুহুল আমিন জানান, আগের রাতে মোরশেদ আলম নামের এক যুবক তার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। সকালে পাহাড়ে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে দেখেন, তার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

মোরশেদ আলমের নামে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান রুহুল আমিন।

পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তারা মারা যান।

পুলিশের ভাষ্য, এরা ৩ জন চিহ্নিত ডাকাত ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, রবিউল ও মুজিবের নামে থানায় অপরাধের রেকর্ড আছে।

“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, “পাহাড়ি এলাকাটি অপরাধীদের অভয়ারণ্য। অপহরণ ও মানবপাচার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।”

ওই পাহাড়ি এলাকার বেশকয়েকজন কাঠুরিয়া জানান, সম্প্রতি গহীন পাহাড় থেকে মাঝে মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ ভেসে আসে। লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটে এখানে।

তাদের ধারণা, জিম্মিদের সঙ্গে জড়িতদের সংঘর্ষের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

৫৮ দিন চলতে হবে শুধু ৭৭ কেজি চালে!

“৭৭ কেজি চাল দিয়ে কি ৫৮ দিন চলে?”

কক্সবাজারের উপকূলে দাঁড়িয়ে করুণ কণ্ঠে এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন জেলে আব্দুস সালাম। যে জেলেরা উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দেশের মানুষের পাতে আমিষ তুলে দেন,আজ সেই জেলেদের ঘরেই হিসাব মেলে না দু’বেলা খাবারের।

সমুদ্রই যাদের জীবন, সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল যাদের জীবিকা সেই জেলে পরিবারগুলোর ঘরে এখন নীরব উৎকণ্ঠা।

প্রায় দুইমাস পুরোপুরি আয় বন্ধ থাকায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন উপকূলের জেলেরা।এই দীর্ঘ সময়ে ৭৭ কেজি চাল যেন তাদের কাছে টিকে থাকার লড়াইয়ের খুবই অপ্রতুল এক সম্বল।

জেলে আব্দুস সালাম বলেন, “আমার পরিবারে ৫ জন মানুষ। ৭৭ কেজি চাল দিয়ে ২ মাস চলে না। আমরা কী খাবো?”

আরেক জেলে আক্ষেপ করে বলেন,”শুধু চাল দিয়ে তো আর সংসার চলে না।আমার সন্তানের স্কুলের ফি,বৃদ্ধ বাবার ঔষুধের খরচ কিছুই জোগাড় করতে পারছি।আমাদের টাকা দরকার,শুধু চাল না।”

মৎস্য সংরক্ষণ ও প্রজননের জন্য সরকার প্রতি বছরের মতো এবারও সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সময়ে সারা দেশের মতো কক্সবাজারেও জেলেদের জন্য দেওয়া হচ্ছে খাদ্য সহায়তা।

জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে ৬৪ হাজার ২৩ জন জেলে পাচ্ছেন চাল। বাকী ৪০৫ জন নদীতে মাছ ধরেন বলে তালিকার বাইরে রয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

তবে বাস্তবতায় রয়েছে ভিন্ন চিত্র।কয়েকজন জেলের অভিযোগ কার্ড থাকা সত্ত্বেও এবার তারা চাল পাচ্ছেন না।

জেলে মোতাহের বলেন,“আমার কার্ড আছে, আগে চাল পাইছি। কিন্তু এবার দেয় নাই।”

এ বিষয়ে চৌফলদন্ডী ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আয়ুব আলী বলেন,”গতবার কিছু জেলে চাল না পাওয়ায় সমস্যা হয়েছিল। তাই এবার পুরনো তালিকা এবং অনলাইন নিবন্ধন যাচাই করে প্রকৃত জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।”

গত ১৮ এপ্রিল থেকে চৌফলদন্ডীতে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী ২২ বা ২৩ এপ্রিলের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানিয়েছেন টেকনিক্যাল কর্মকর্তা ফরিদুল আলম।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন,এবার কক্সবাজারের জেলেরা আগের চেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছেন।

৫৮ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা হয়তো সাগরের জন্য আশীর্বাদ,কিন্তু উপকূলের হাজারো পরিবারের জন্য তা হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম।

কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু: আদিনাথ মন্দিরের উত্তরাংশ থেকে চৌফলদণ্ডি হওয়ার সম্ভাবনা

বে ইনসাইট ডেস্ক

কক্সবাজারের সঙ্গে মহেশখালীর সরাসরি সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য রুট নিয়ে চলছে আলোচনা। বিশেষ করে মহেশখালীর উত্তরাংশকে যুক্ত করার দাবি এবং এয়ারপোর্ট ও নৌ চলাচলের সীমাবদ্ধতা, দুই দিকেই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী সেতুর অবস্থান নির্ধারণে উত্তর প্রান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন।

সভা শেষে বে ইনসাইটকে তিনি বলেন, সেতুটি যদি এমনভাবে করা যায় যাতে আদিনাথ মন্দিরের উত্তর বা শাপলাপুরের শেষ প্রান্ত থেকে সংযোগ স্থাপন হয়, তাহলে মহেশখালীর মানুষ সরাসরি কক্সবাজারে যেতে পারবে।

“এখন অনেককে এক থেকে দেড় ঘণ্টা ঘুরে যেতে হয়। সেতুটি উত্তর দিকে হলে এই সময় বাঁচবে,” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সময়, ব্যয় ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় সেতুর দৈর্ঘ্য কম রাখা এবং নাব্যতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনটি রুট, কিন্তু চূড়ান্ত কিছু নয়

সভায় সেতু নির্মাণের জন্য ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’, এই তিনটি সম্ভাব্য রুট নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকা, শাপলাপুরের দিক এবং ক্রস স্কুল-সংলগ্ন একটি রুট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে কোনো রুটই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং জনমত ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

এয়ারপোর্ট ও নৌ চলাচল বড় বাধা

আলোচনায় উঠে এসেছে, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কারণে সি রুটে সেতু নির্মাণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে এই রুটে সেতু করতে হলে সেটি অনেক উঁচু করতে হবে, যাতে নৌবাহিনীর জাহাজসহ বড় নৌযান চলাচল করতে পারে। এতে বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, “নেভি, স্টিমার, সব ধরনের নৌযান চলাচল মাথায় রেখে সেতুর উচ্চতা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে এয়ারপোর্টের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।”

সেতুর সম্ভাবনা কোনদিকে বেশি?

আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আদিনাথ মন্দিরের আশপাশ হয়ে চৌফলদণ্ডি সেতুর কাছাকাছি এলাকায়, যেটি ‘বি’ রুট হিসেবে প্রস্তাবিত, সেখানে সেতু নির্মাণ তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত হতে পারে।

যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ এই রুটকে তুলনামূলকভাবে কম জটিল বলে মনে করছেন।

কারন ‘এ’ রুটে যেটি শাপলাপুর হয়ে পোকখালী করার প্রস্তাবনা আসছে ,সেটা হলে কক্সবাজার শহরে আসতে দীর্ঘ সময় ও ব্যয় বাড়বে। আর ‘সি’ রুটের উচ্চতা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে সিভিল এভিয়েশনের।

সরকারের আশ্বাস, দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

সভায় প্রধান অতিথি সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পটি এগোয়নি। তবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

“মহেশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই সেতু। দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে,” বলেন তিনি।

প্রাথমিক পর্যায়ে জনমত সংগ্রহ

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই বৈঠকে মূলত জনমত ও স্থানীয় চাহিদা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন রুট নিয়ে মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তী সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কাজে লাগবে।

ফলে কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু এখনো পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপেই রয়েছে, চূড়ান্ত রুট নির্ধারণে সামনে আরও আলোচনা ও কারিগরি বিশ্লেষণ প্রয়োজন হবে।

আপনি জানেন কী? লবণাক্ত সমুদ্র, মিষ্টি নদীএকই জলের দুই স্বাদ- রহস্যটা কোথায়?


আমরা প্রতিদিন যে নদীর পানি দেখি তা স্বচ্ছ, পানযোগ্য। অথচ সেই নদীরই শেষ গন্তব্য সমুদ্র, যার পানি তীব্র নোনতা। একই উৎসের জল, কিন্তু স্বাদে এত পার্থক্য কেন?
চলুন, সহজ করে জেনে নেওয়া যাক এই নোনা জলের গল্প।

১. লবণের জন্ম স্থলভাগে
বৃষ্টি, পাথর আর খনিজের গল্প


সমুদ্রের লবণের শুরুটা কিন্তু স্থলভাগেই। বৃষ্টি যখন পাহাড়, মাটি ও পাথরের ওপর পড়ে, তখন ধীরে ধীরে পাথর ক্ষয় হতে থাকে। এই ক্ষয়ের ফলে সোডিয়াম, ক্লোরাইডসহ নানা খনিজ পানির সঙ্গে মিশে যায়।
নদী সেই খনিজগুলোকে বয়ে নিয়ে যায় দূর থেকে দূরে, শেষমেশ সমুদ্রে। অর্থাৎ, সমুদ্রের লবণের মূল ‘সরবরাহকারী’ আমাদের এই ভূমিই।

২. নদী নোনতা নয় কেন?
প্রবাহই এখানে মূল চাবিকাঠি


নদী লবণ বয়ে আনে, কিন্তু নিজে নোনতা হয় না। কেন?
কারণ নদী সবসময় চলমান। খনিজগুলো নদীতে জমে থাকার সুযোগ পায় না, দ্রুত সাগরে গিয়ে মিশে যায়।
তার ওপর নিয়মিত বৃষ্টির পানি নদীকে ‘পাতলা’ করে রাখে। ফলে লবণের ঘনত্ব এতটাই কম থাকে যে আমরা তা টেরই পাই না।

৩. বঙ্গোপসাগর: একটু ভিন্ন স্বাদ
কম লবণাক্ততার পেছনে নদীর প্রভাব


বিশ্বের অধিকাংশ সমুদ্রে গড় লবণাক্ততা প্রায় ৩৫‰ (প্রতি হাজারে ৩৫ ভাগ)। কিন্তু আমাদের বঙ্গোপসাগরে এই মাত্রা তুলনামূলক কম। প্রায় ৩০–৩৪‰।
এর কারণ কী?
গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মতো বিশাল নদীগুলো বিপুল পরিমাণ মিষ্টি পানি এনে মিশিয়ে দেয় সমুদ্রে। তার সঙ্গে যোগ হয় মৌসুমি বৃষ্টিপাত।
ফলে, লবণাক্ততার ভারসাম্য এখানে কিছুটা কমে আসে।

৪. সমুদ্র কেন লবণ জমিয়ে রাখে?
বাষ্পীভবন ও সময়ের দীর্ঘ হিসাব


নদী লবণ এনে দেয়, আর সমুদ্র তা ধরে রাখে হাজার হাজার বছর ধরে।
সূর্যের তাপে সমুদ্রের পানি বাষ্প হয়ে আকাশে উঠে যায়, কিন্তু লবণ থেকে যায় নিচেই। এই বাষ্পীভবনের ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লবণের পরিমাণ বাড়তেই থাকে।
এছাড়া সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরি ও খনিজ নির্গমনও এই লবণাক্ততা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

সংক্ষেপে সহজ কথা

নদী লবণ বহন করে, আর সমুদ্র তা জমা রাখে। এই সহজ প্রক্রিয়াই তৈরি করে—মিষ্টি নদী আর নোনতা সমুদ্রের বৈপরীত্য।
প্রকৃতিকে জানুন, উপকূলকে বুঝুন। বে ইনসাইটের সঙ্গে থাকুন।

চৈত্রের স্বস্তি, বৈশাখের আগুন: শুক্রবার পর্যন্ত মেঘ-বৃষ্টি, এরপরই বাড়বে তাপমাত্রা

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

চৈত্রের শেষভাগ। কক্সবাজারের আকাশে কখনো মেঘ, কখনো রোদ। প্রকৃতি যেন নিজের রঙ বদলে নিচ্ছে বারবার। বাতাসে হালকা ঝাপটা, মাঝে মাঝে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি, সব মিলিয়ে এক ধরনের স্বস্তির আবহ।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলছেন, শুক্রবার পর্যন্ত এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে। ঝড়ো হাওয়া, হালকা বৃষ্টি আর সহনীয় তাপমাত্রা, সব মিলিয়ে প্রকৃতি থাকবে কিছুটা ভারসাম্যে।

তবে এই স্বস্তি স্থায়ী নয়।

শনিবার থেকে বদলাবে আবহাওয়া
মেঘ কাটলেই বাড়বে গরমের তীব্রতা

শনিবারের পর থেকেই বদলাতে শুরু করতে পারে আবহাওয়ার চিত্র। ধীরে ধীরে মেঘ সরবে, রোদ পুড়বে আরও তীব্র হয়ে। বৃষ্টি কমে গেলে, আর আকাশ পরিষ্কার থাকলে বায়ুমণ্ডল জমতে শুরু করবে উত্তাপে।

মাসের শেষ দিকে তাপমাত্রা ছুঁতে পারে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত এই তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

এপ্রিলের শেষে তাপদাহের শঙ্কা
টানা গরমেই তৈরি হতে পারে ‘মৃদু তাপপ্রবাহ’

এই তাপমাত্রা শুধু সংখ্যা নয়, এ এক সতর্কবার্তা।

কারণ, টানা কয়েকদিন যদি তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রির মধ্যে থাকে, তখন সেটিকে বলা হয় মৃদু তাপদাহ। আর সেই তাপদাহই এপ্রিলের শেষ দিকে কক্সবাজারে হানা দিতে পারে, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদরা।

গরমে বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি
পানিশূন্যতা থেকে হিট স্ট্রোক, সতর্ক না হলেই বিপদ

প্রকৃতির এই উষ্ণতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে শরীরের ঝুঁকিও।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের শাহজাহান নাজিরের ভাষায়, অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে ঝরে পড়ে ঘাম, আর সেই সঙ্গে কমে যায় পানির ভারসাম্য। তৈরি হয় পানিশূন্যতা। মাথা ঘোরা, দুর্বলতা আর ক্লান্তি তখন সঙ্গী হয়ে ওঠে।

অনেক সময় দেখা দেয় হিট এক্সহসশন অস্বস্তি, মনোযোগের ঘাটতি, অকারণ অবসাদ। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হিট স্ট্রোক পর্যন্ত গড়াতে পারে, যা হতে পারে প্রাণঘাতী।

ঝুঁকিতে শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবীরা
রোদে দীর্ঘক্ষণ থাকলেই বাড়ছে শারীরিক ঝুঁকি

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু আর বয়স্করা। তাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাই গরমের আঘাতও লাগে দ্রুত।

শ্রমজীবী মানুষ, যারা রোদে পুড়ে দিন কাটান, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। দীর্ঘক্ষণ সূর্যের তাপে থাকলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন কমে যেতে পারে, বাড়তে পারে অসুস্থতার আশঙ্কা।

গরমে স্বস্তির উপায়
পানি, পোশাক ও খাদ্যাভ্যাসেই মিলতে পারে সুরক্ষা

তবে এই গরমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথও আছে, সহজ কিছু অভ্যাসেই মিলতে পারে স্বস্তি।

পিপাসা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার। ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ফলের রস শরীরকে রাখে সতেজ। চা, কফি বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলাই ভালো।

হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির কাপড় শরীরকে দেয় আরাম। বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস, টুপি ব্যবহার করা উচিত।

খাবারের ক্ষেত্রেও হালকা ও সহজপাচ্য খাবার শাকসবজি, ফলমূল, দই—এসবই গরমে শরীরের জন্য উপকারী।

ঘরেও চাই একটু শীতলতা
ছোট অভ্যাসেই মিলতে পারে বড় স্বস্তি

দিনের বেলা পর্দা টেনে রাখলে সরাসরি রোদ ঢোকে না। রাতে আবহাওয়া ঠান্ডা হলে জানালা খুলে দিলে ঘর হয় স্বস্তিদায়ক।

ভিজে গামছা দিয়ে মুখ বা মাথা মুছলে পাওয়া যায় মুহূর্তের প্রশান্তি।

প্রকৃতি এখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে, স্বস্তি আর তাপের মাঝামাঝি।
এই সময়টুকু যেন এক নীরব বার্তা দেয়, এখনই প্রস্তুত হও, কারণ সামনে আসছে গরমের দীর্ঘ পথ।