কক্সবাজারে কয়েক ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনা, বজ্রপাত ও আত্মহত্যাসহ ৫ জনের মৃত্যু

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজারে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক পাঁচটি ঘটনায় এক রোহিঙ্গা শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন, বজ্রপাতে একজন এবং আত্মহত্যায় একজনের মৃত্যু। এসব ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩-তে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর একটি গাড়ির ধাক্কায় আবু ওয়াইদা (৪) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পের ই/০১ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু ওয়াইদা ক্যাম্প-১৩-এর জি/০৪ ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবা মৌলবী আব্দুল্লাহ ও মা হামিদা। পুলিশ জানায়, আইওএম পরিচালিত একটি গাড়ি (চট্ট মেট্রো-চ-১১-৮৭৬৪) ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটিকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা গাড়িটি ভাঙচুর করে। পরে এপিবিএন পুলিশ ও উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর গাড়িচালক পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ঈদগাঁও উপজেলায় নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে নুরুল হক (৮০) নামে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছেন।

মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের জাগিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ভোররাতে নিজ ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস নেন নুরুল হক। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, নুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. মিজানুর রহমান নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হারবাং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের দোহাজারী পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি চন্দনাইশ এলাকায় কর্মরত একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন।

চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার পরিদর্শক মো. আরিফুল আমিন বলেন, কক্সবাজারমুখী মোটরসাইকেলের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পূরবী পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মোক্তার হোসেন (৪৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর ইউনিয়নের রাজার ছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী (শামলাপুর) এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, বাহারছড়া থেকে টেকনাফগামী মোটরসাইকেলটি হঠাৎ এক পথচারী সামনে চলে আসায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাস্থলেই মোক্তার হোসেন মারা যান। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের চৌফলদণ্ডী ব্রিজ এলাকায় বজ্রপাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলম জানান, লবণের মাঠ থেকে ব্রিজের ওপর ওঠার সময় বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

মনজুর আলম বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

শিক্ষক-সংকটে ধুঁকছে কক্সবাজারের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো: খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজারে মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও প্রশাসনিক সংকটে চলছে। জেলার ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শুধু কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়া বাকি ৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

একইসঙ্গে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদেও রয়েছে বড় ধরনের শূন্যতা। শুধু টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নেই। এমনকি দুই শিফটের প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-তেও নেই সহকারী প্রধান শিক্ষক।

বিষয়ভিত্তিক সহকারি শিক্ষক পদের ক্ষেত্রেও আছে ভয়াবহ সংকট। কোথাও কোথাও খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এ মোট ৪৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩৩ জন, শূন্য ১৬টি। কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এ ৪৯টির মধ্যে কর্মরত ৩৩, শূন্য ১৬টি।

রামু খিজারি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এ ২৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৫ জন, শূন্য ১৯টি। মহেশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এ ১৫টির মধ্যে কর্মরত ৬, শূন্য ০৯টি। কুতুবদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এ ১৫টির মধ্যে কর্মরত ৫, শূন্য ১০টি।

এছাড়া উখিয়া বহুমুখী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এ ১৪টির মধ্যে কর্মরত ১০, শূন্য ৪টি ; চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এ ২৫ টির মধ্যে কর্মরত ১০, শূন্য ১৫টি; চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এ ২৫টির মধ্যে কর্মরত ১১, শূন্য ১৪টি এবং টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এ ১০টির মধ্যে কর্মরত ৪, শূন্য ৬টি।

অর্থাৎ পুরো জেলায় ১৫৩ সহকারি শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছে ৯১ জন আর শূণ্য পদ আছে ৬২টি। ৮২ সিনিয়র সহকারি শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছে ৩৫ জন আর শূণ্য আছে ৪৭ জন।

তবে ব্যতিক্রম হলো পেকুয়া জিএমসি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এখানে ০৯টি পদের মধ্যে ৯ জনই কর্মরত আছে।

কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক রাম মোহন সেন বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমকে বলেন, “অনেকগুলো সেকশন সামলানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক সংখ্যা মাঝেমধ্যে আরও কমে যায়। নিয়মিত অধিদপ্তরে সব তথ্য পাঠানো হয়।”

তিনি বলেন, অনেক শিক্ষক দূর-দূরান্তের জেলা থেকে এখানে যোগদান করেন। পরে বদলি নিয়ে চলে যাওয়ায় সংকট আরও বাড়ে।

সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে তিনি বলেন, “পদ আছে, কিন্তু পদায়ন নেই। আমাদের স্কুলে দুই শিফটের জন্য দুইজন সহকারী প্রধান শিক্ষকের পোস্ট আছে।”

কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপম দাশ বলেন, বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আমাদের ২০টি সেকশন। গণিত শিক্ষকের ছয়জন থাকার কথা, কিন্তু আছেন মাত্র দুইজন। এতগুলো সেকশনে দুইজন শিক্ষক কীভাবে পাঠদান করবেন?”

তার ভাষায়, বাধ্য হয়ে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে গণিত ক্লাস নিতে হয়, এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।

“এখন প্রায়ই বলতে হয়—স্যার, আরেকটা ক্লাসে একটু যান। অমুক স্যার আসেননি, অমুক ছুটিতে আছেন। শিক্ষক স্বল্পতার মধ্যে এভাবে চালানো খুব কঠিন।”

মহেশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, শিক্ষক সংকট এতটাই তীব্র যে খণ্ডকালীন শিক্ষক ছাড়া বিদ্যালয় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া উপায় নেই, না হলে স্কুল বন্ধ করে দিতে হবে। আমরা চারজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কোনোরকমে স্কুল চালাচ্ছি।”

বিদ্যালয়গুলোর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, “শূন্য পদের তথ্য নিয়মিত সরকারকে পাঠানো হয়। দ্রুত পদ পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় বাইরের জেলার শিক্ষকরা নিয়োগ পান, কিন্তু পরে বদলি নিয়ে চলে যান।

“স্থানীয় শিক্ষার্থীরা যদি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বেশি অংশ নিয়ে টিকতে পারে, তাহলে নিজ এলাকায় পোস্টিং দেওয়া সহজ হবে। নিজের এলাকায় থেকে নিজের এলাকার মানুষের সেবা করতে পারবে।”

নাফ নদের সীমান্তে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ফের নিখোঁজ চাকমা শ্রমিক

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তের নাফ নদী এলাকায় কাঁকড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে আবারও এক চাকমা দিনমজুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দাবি, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর আগে একইভাবে নিখোঁজ হওয়া আরও দুই চাকমা যুবকেরও আজ পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ সা মুং চিং চাকমা টেকনাফ উপজেলার লাম্বাঘোনা এলাকার বাসিন্দা উগবার ছেলে।

পরিবার জানায়, ২২ এপ্রিল বুধবার সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীর এলাকায় কাঁকড়া সংগ্রহ করতে যান সা মুং চিং চাকমা। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

তার স্ত্রী ছাম্মিয়াউ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “আমার স্বামী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে আমরা সন্দেহ করছি। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমরা খুব উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি।”

তিনি জানান, এ ঘটনায় উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কাজ করছেন।”

তদন্তসংশ্লিষ্ট এসআই আব্দুল আজাদ বলেন, “সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ হওয়ায় এবং এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু না পাওয়ায় তদন্তে তেমন অগ্রগতি নেই। তবে আমরা কাজ করছি।”

দুই বছর আগেও একইভাবে নিখোঁজ দুই যুবক

স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি নতুন ঘটনা নয়। প্রায় দুই বছর আগে একইভাবে কাঁকড়া ও মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন আরও দুই চাকমা যুবক। আজ পর্যন্ত তাদেরও কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ ওই দুইজন হলেন টেকনাফ উপজেলার ১ নম্বর হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাঘোনা চাকমা পল্লীর বাসিন্দা ছৈলা মং চাকমা (৩০) ও ক্যমংখোএ তঞ্চঙ্গ্যা (১৯)।

ছৈলা মং চাকমার ভাই পিরামং চাকমা বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ মে সকাল ৭টার দিকে টেকনাফ থানাধীন হাউস দ্বীপের পাশে ৫ নম্বর গেইট সংলগ্ন নাফ নদীতে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে তারা নিখোঁজ হন।

তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী আমাদের জানিয়েছিলেন, তাদেরকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে। ধারণা করছি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদেরকে ধরে রেখেছে। কিন্তু কেন আটকে রাখা হয়েছে, তা আমরা জানি না। আজ পর্যন্ত কোনো মুক্তিপণও দাবি করা হয়নি।”

“দুই বছর পার হতে চলেছে। এখন আমরা তাদের জীবনের ঝুঁকি কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা করছি।”

অভিযোগের পরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কক্সবাজার জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাত তঞ্চঙ্গ্যা আলো বলেন, নিখোঁজের ঘটনার পরদিন ১৭ মে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

তিনি বলেন, “বিজিবি, র‍্যাবসহ সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রশাসনের কাছে বারবার ধর্না দিয়েও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখিনি।”

‘সীমান্ত পেরিয়ে গেলে উদ্ধার কঠিন’

তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে চলে যায়, ফলে পরে নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নাফ নদীতে মাছ ধরা, কাঁকড়া ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু অনেকেই স্থানীয় মহাজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখানে যায়।”

তিনি বলেন, “কেউ নিখোঁজ হয়, কেউ মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়, তবু মানুষের যাওয়া থামছে না। অনেক সময় তারা অবৈধ ব্যবসা, বিশেষ করে মাদক সংশ্লিষ্ট কাজেও জড়িয়ে পড়ে।”

বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা মানুষকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। রোহিঙ্গারাও যেন সীমান্তে না যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করছি। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে কেউ নিজের দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে গেলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায়ও।”

তিনি আরও বলেন, “জেলেদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, যারা অপহরণের অভিযোগ করে, তাদের ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশই মিয়ানমারের ভেতরে চলে যায়। বাংলাদেশের ভেতরে থেকে তাদের অপহরণ করা হয়েছে, এমন প্রমাণ সাধারণত পাওয়া যায় না।”

স্থানীয় চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় জীবিকার তাগিদে কাঁকড়া ও মাছ ধরতে যাওয়া অনেকেই আর ফিরে আসছেন না। কিন্তু নিখোঁজদের উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগের অভাব তাদের হতাশ করে তুলছে।

কক্সবাজারে ৪৮ ঘণ্টায় ৬ মরদেহ, অপহরণে মুক্তিপণ: পুলিশের দাবী আইনশৃঙ্খলা ‘স্বাভাবিক’ রয়েছে

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজারে গত মঙ্গল ও বুধবার মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ছয়টি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা এবং একই সময়ে এক ইউপি সদস্যকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে আনার অভিযোগ ঘিরে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার বলছেন, আইনশৃঙ্খলা “স্বাভাবিক” রয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।

সামগ্রিক বিষয়ের প্রেক্ষিতে বে ইনসাইট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অপরাধ তো ঘটবেই, এটা বাস্তবতা। তবে আমরা সর্বোচ্চ তৎপরতা ও আমাদের সব মেকানিজম ব্যবহার করে কাজ করছি, যেন প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা যায়।”

পাহাড়ে ঝুলন্ত সেবায়েতের মরদেহ

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর নয়ন দাশ (৩৫) নামে এক মন্দির সেবায়েতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন জানান, বুধবার দুপুরে পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়।

নয়ন দাশ ওই এলাকার নাগ পঞ্চমী মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার দোহাজারীর বাসিন্দা।

পরিবারের ভাষ্য, ১৯ এপ্রিল রাতে অজ্ঞাত কয়েকজন তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

ওসি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

টেকনাফে তিন যুবকের মরদেহ, ‘ডাকাত-মানবপাচারকারী’ দাবি পুলিশের

টেকনাফের বাহারছড়ার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যাদের ‘ডাকাতি ও মানবপাচার চক্রের সদস্য’ বলে দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উত্তর শীলখালী পাহাড়ে কাঠুরিয়ারা মরদেহগুলো দেখতে পান।

নিহতরা হলেন মুজিব উল্লাহ, নুরুল বশর ও রবিউল আওয়াল।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়, অপর দুজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

টেকনাফ থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, “অপহরণ ও মানবপাচারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটতে পারে।”

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য, যেখানে জিম্মি করে রাখার ঘটনাও ঘটে।

ইউপি সদস্য অপহরণ, মুক্তিপণ না ‘উদ্ধার’ দ্বন্দ্বে দুই বক্তব্য

রামুর ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ক থেকে অপহৃত ইউপি সদস্য রুস্তম আলী (৪১) একই দিন রাতে ফিরে এলেও তার মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

পরিবারের দাবি, ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হলেও দরকষাকষির পর ৮ লাখ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে।

রুস্তম আলীর চাচা বলেন, “নির্ধারিত স্থানে নগদ টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।”

তবে রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলছেন, “অভিযান চালিয়েই তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, মুক্তিপণের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।”

পুলিশ সূত্র জানায়, রুস্তম আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং অপহরণের পেছনে পুরোনো বিরোধ বা অপরাধ জগতের দ্বন্দ্ব থাকতে পারে।

মুক্তিপণের পর উদ্ধার দেখিয়ে পুলিশ কোনো ক্রেডিট দেখাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার বলেন, “এই বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। আমি জেনে আপনাকে জানাতে পারব।”

চকরিয়ায় বেড়িবাঁধে যুবকের মরদেহ

চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজিয়ান এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ থেকে সাকিব (২৬) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, “ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।”

রামুতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নে তানিয়া আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

রামু থানার ওসি জানান, “ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।”

পুলিশের অবস্থান: ‘আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক’

এতসব ঘটনার পরও জেলা পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক আছে। তদন্তাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়, তবে আমরা প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”

উদ্বেগে স্থানীয়রা

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে অপহরণ, ডাকাতি ও মানবপাচার দীর্ঘদিন ধরে চললেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ককে ‘আতঙ্কের রুট’ হিসেবে উল্লেখ করে সেখানকার বাসিন্দারা বলছেন, দিনের আলোয় একজন জনপ্রতিনিধি অপহরণের ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।

তাদের মতে, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, সমন্বিত ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ ছাড়া এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

আন্দামান ট্র্যাজেডি: সমিতি পাড়ার যে শিশুদের খবর নেয়নি কেউ

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতি পাড়া। সাগরপাড়ের সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ভিটেমাটি হারানো মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার মানুষদের বসতি হিসেবে শুরু হলেও, এখন এখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নিম্নআয়ের মানুষ অল্প ভাড়ায় বসবাস করছেন।

প্রভাবশালীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে জায়গা নিয়ে কাঠ ও বাঁশের ঘর তুলে গড়ে উঠেছে পুরো পাড়া।

সম্প্রতি আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের খোঁজে বে ইনসাইট যায় সমিতি পাড়ার বাগানপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করতেই কয়েকজন শিশু পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় ঝাউবনের ভেতর সরু গলিপথ পেরিয়ে একটি ছোট ঘরের সামনে।

ঘরের দরজায় বসে ছিল ৮ থেকে ১০ বছরের এক শিশু। অন্যরা পরিচয় করিয়ে দেয়, তার নাম জুনায়েদ। তার বাবা মোহাম্মদ নূর, মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বাবার কথা বলতে গিয়ে চোখ ভিজে ওঠে শিশুটির। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না।

জুনায়েদ জানায়, তার মা এখন অন্যত্র থাকেন। সে ও তার বড় ভাই সৎমায়ের সঙ্গে এখানে থাকত। কিন্তু বাবার নিখোঁজ হওয়ার পর সৎমাও চলে গেছেন। এখন দুই ভাইই এই ঘরে থাকে। বড় ভাইকে পাওয়া যায়নি, সে সুগন্ধা পয়েন্টে ঘোড়া চালিয়ে সংসারের খরচ জোগাড় করে।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে জুনায়েদের চাচাতো ভাই, আট বছর বয়সী মোহাম্মদ হোসেন বাড়িতে আসে। তার বাবা মোহাম্মদ হারুনও একই ঘটনায় নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই শিশুই জানায়, তাদের বাবারা মালয়েশিয়ায় যাচ্ছিলেন পরিবারের সচ্ছলতার জন্য। পরে তারা জানতে পারে, আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় তারা নিখোঁজ।

এ সময় প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলম মাইজভান্ডারী বলেন, ২ এপ্রিল নূর ও হারুন যখন বিদায় নিচ্ছিলেন, তখন তিনি উপস্থিত ছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন ভাগ্য বদলাতে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন, তবে কার মাধ্যমে যাচ্ছেন তা বলেননি।

একই পাড়ার আরেক বাসিন্দা শফিউল্লাহও ওই ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হয়েছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। তার শাশুড়ি রহিমা বেগম বলেন, উত্তাল সাগরের আশঙ্কায় তিনি জামাইকে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শফিউল্লাহ বলেছিলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

কেন মামলা করা হয়নি জানতে চাইলে রহিমা বেগম বলেন, “কার বিরুদ্ধে মামলা করব বুঝতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, যারা তাদের নিয়ে গিয়েছিল তারা জানিয়েছে, হয়তো ভেসে কোনো দ্বীপে পৌঁছাতে পারে, এই আশাতেই তারা মামলা করেননি। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, শফিউল্লাহ কার মাধ্যমে গেছেন তা তারা জানেন না।

সমিতি পাড়া থেকে ওই ট্রলারে ছিলেন অন্তত পাঁচজন। নূর, হারুন, শফিউল্লাহ ছাড়াও হামিদ মাঝি ও তার ভাই ইব্রাহিম খলিল। খলিলের স্ত্রী জুবাইদা বলেন, তার স্বামী অটোরিকশা চালাতেন, ভাগ্য ফেরাতে মালয়েশিয়া যেতে চেয়েছিলেন।

হামিদ মাঝি জীবিত উদ্ধার হওয়া নয়জনের একজন। কোস্টগার্ডের দায়ের করা মামলায় তিনি এক নম্বর আসামি। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া নয়জনের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশীই পাচারকারী চক্রের সদস্য।

স্থানীয়দের দাবি, হামিদ মাঝি এর আগেও একাধিকবার ট্রলার নিয়ে মালয়েশিয়া গেছেন। নিরাপদে ফিরে আসায় অনেকেই তার মাধ্যমে অবৈধভাবে যাওয়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তারা আরও দাবি করেন, হামিদের বড় ভাই ইলিয়াস ও তার স্ত্রী রোজিনা এই পাচার চক্রের মূল হোতা।

তবে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা জানেন না তাদের স্বজনরা কার মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বলেন, পাচারকারীরা ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের চুপ থাকতে বাধ্য করছে, ফলে কেউ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে টেকনাফ থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ ওই ট্রলারে ছিলেন। এছাড়া পেকুয়া থেকে ১২ জন, রামু থেকে চারজনসহ আরও অনেক এলাকার মানুষ যাত্রী ছিলেন বলে স্বজনরা দাবি করছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা না থাকায় নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমদাদুল হক শরীফ বলেন, “পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, “বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য লিখিতভাবে সরকারকে জানানো হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে। নিশ্চিত না হয়ে সংখ্যা প্রকাশ করা ঠিক হবে না।”

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকেও কিছু মানুষ ওই ট্রলারে উঠেছিল।

তবে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, “এখনও কোনো রোহিঙ্গা পরিবার থেকে নিখোঁজের অভিযোগ পাইনি।”

তিনি যোগ করেন, সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় রোহিঙ্গারা অভিযোগ করে না, ফলে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, “এই ধরনের সংগঠিত অপরাধ বন্ধ করা কঠিন নয়, কিন্তু সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রুটে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচার চালিয়ে যাচ্ছে।”

কোস্টগার্ড জানায়, ৯ এপ্রিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমটি মেঘনাপ্রাইড আন্দামান সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছয় বাংলাদেশি ও তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে। পরে তাদের কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম জানান, ট্রলারটিতে প্রায় আড়াইশোর বেশি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা কয়েকজন কাঠের টুকরো ও পানির বোতল আঁকড়ে ভেসে থাকতে পেরেছিলাম, কিন্তু অনেকেই সাগরে হারিয়ে গেছে।”

টেকনাফের পাহাড় থেকে তিন যুবকের লাশ উদ্ধারঃ পুলিশ বলছে ‘পাচার-ডাকাতি’ দ্বন্দ্ব

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ তাদের ‘ডাকাতি ও মানবপাচারের’ সাথে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার পাহাড়ে তাদের মরদেহ দেখতে পান কাঠুরিয়ারা। পরে সেখান থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস ।

নিহতরা হলেন- স্থানীয় নুরুল কবিরের ছেলে মুজিব উল্লাহ, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর ও রুহুল আমিনের ছেলে রবিউল আওয়াল।

রবিউল আউয়ালের পিতা রুহুল আমিন জানান, আগের রাতে মোরশেদ আলম নামের এক যুবক তার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। সকালে পাহাড়ে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে দেখেন, তার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

মোরশেদ আলমের নামে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান রুহুল আমিন।

পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তারা মারা যান।

পুলিশের ভাষ্য, এরা ৩ জন চিহ্নিত ডাকাত ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, রবিউল ও মুজিবের নামে থানায় অপরাধের রেকর্ড আছে।

“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, “পাহাড়ি এলাকাটি অপরাধীদের অভয়ারণ্য। অপহরণ ও মানবপাচার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।”

ওই পাহাড়ি এলাকার বেশকয়েকজন কাঠুরিয়া জানান, সম্প্রতি গহীন পাহাড় থেকে মাঝে মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ ভেসে আসে। লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটে এখানে।

তাদের ধারণা, জিম্মিদের সঙ্গে জড়িতদের সংঘর্ষের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

৫৮ দিন চলতে হবে শুধু ৭৭ কেজি চালে!

“৭৭ কেজি চাল দিয়ে কি ৫৮ দিন চলে?”

কক্সবাজারের উপকূলে দাঁড়িয়ে করুণ কণ্ঠে এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন জেলে আব্দুস সালাম। যে জেলেরা উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দেশের মানুষের পাতে আমিষ তুলে দেন,আজ সেই জেলেদের ঘরেই হিসাব মেলে না দু’বেলা খাবারের।

সমুদ্রই যাদের জীবন, সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল যাদের জীবিকা সেই জেলে পরিবারগুলোর ঘরে এখন নীরব উৎকণ্ঠা।

প্রায় দুইমাস পুরোপুরি আয় বন্ধ থাকায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন উপকূলের জেলেরা।এই দীর্ঘ সময়ে ৭৭ কেজি চাল যেন তাদের কাছে টিকে থাকার লড়াইয়ের খুবই অপ্রতুল এক সম্বল।

জেলে আব্দুস সালাম বলেন, “আমার পরিবারে ৫ জন মানুষ। ৭৭ কেজি চাল দিয়ে ২ মাস চলে না। আমরা কী খাবো?”

আরেক জেলে আক্ষেপ করে বলেন,”শুধু চাল দিয়ে তো আর সংসার চলে না।আমার সন্তানের স্কুলের ফি,বৃদ্ধ বাবার ঔষুধের খরচ কিছুই জোগাড় করতে পারছি।আমাদের টাকা দরকার,শুধু চাল না।”

মৎস্য সংরক্ষণ ও প্রজননের জন্য সরকার প্রতি বছরের মতো এবারও সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সময়ে সারা দেশের মতো কক্সবাজারেও জেলেদের জন্য দেওয়া হচ্ছে খাদ্য সহায়তা।

জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে ৬৪ হাজার ২৩ জন জেলে পাচ্ছেন চাল। বাকী ৪০৫ জন নদীতে মাছ ধরেন বলে তালিকার বাইরে রয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

তবে বাস্তবতায় রয়েছে ভিন্ন চিত্র।কয়েকজন জেলের অভিযোগ কার্ড থাকা সত্ত্বেও এবার তারা চাল পাচ্ছেন না।

জেলে মোতাহের বলেন,“আমার কার্ড আছে, আগে চাল পাইছি। কিন্তু এবার দেয় নাই।”

এ বিষয়ে চৌফলদন্ডী ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আয়ুব আলী বলেন,”গতবার কিছু জেলে চাল না পাওয়ায় সমস্যা হয়েছিল। তাই এবার পুরনো তালিকা এবং অনলাইন নিবন্ধন যাচাই করে প্রকৃত জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।”

গত ১৮ এপ্রিল থেকে চৌফলদন্ডীতে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী ২২ বা ২৩ এপ্রিলের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানিয়েছেন টেকনিক্যাল কর্মকর্তা ফরিদুল আলম।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন,এবার কক্সবাজারের জেলেরা আগের চেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছেন।

৫৮ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা হয়তো সাগরের জন্য আশীর্বাদ,কিন্তু উপকূলের হাজারো পরিবারের জন্য তা হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম।

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: ‘ভাসমান উদ্ধার ৯ জনের ৬ জনই পাচারচক্রের সদস্য’

সৌরভ দেব | বে ইনসাইট

কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূল থেকে অবৈধভাবে নৌপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় উদ্ধার হয় ৯ জন। এরমধ্যে ৬ বাংলাদেশিকে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা করে কোস্টগার্ড। বাকি তিনজন রোহিঙ্গাকে ভুক্তভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের ভাষ্যে, অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত চারজনকে তারা ট্রলারের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হিসেবে দেখেছেন, অন্য দুই বাংলাদেশিকে তারা নিজেদের মতোই ভুক্তভোগী যাত্রী বলে দাবি করেছেন।

এদিকে এই ঘটনায় অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা। যাদের কোনো তালিকাই এখনো প্রশাসনের হাতে নেই। মামলা হয়নি কোনো ভুক্তভোগী পরিবার থেকেও।

ভুক্তভোগীদের বয়ান: ‘মাঝি, ড্রাইভার, দালালসহ উদ্ধার চারজনকে দেখেছি’

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ছয় বাংলাদেশিই পাচারচক্রের সদস্য। ওই ছয়জন হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার মো হামিদ ও মো আকবর, টেকনাফের বাহারছড়ার মো তোফায়েল, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সৈয়দ আলম, টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের মো সোহান উদ্দিন, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মহিউদ্দিন হৃদয়।

বে ইনসাইটের সঙ্গে কথা বলা দুই রোহিঙ্গা ভুক্তভোগী তারমধ্যে চারজনকে সরাসরি যুক্ত থাকার চিত্র তুলে ধরেন।

উদ্ধার হওয়া কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “মো. হামিদ আর মো. ছৈয়দ আলম ছিল ট্রলারটির মাঝি, মহিউদ্দিন হৃদয় ইঞ্জিন চালাত আর আকবর ছিল দালাল। বাকি দুইজনকে আমরা যাত্রী হিসেবেই দেখেছি।”

তিনি অভিযোগ করেন, দালাল আকবর যাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালাতেন।

“আমি এক গ্লাস পানি চাইলে সে আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সবচেয়ে বেশি মারধর করেছে সে-ই।”

একই ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন ১ নম্বর ক্যাম্পের এনাম উল্লাহ ইমরানও। তিনিও এই যাত্রায় ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিলেন।

পুলিশের অবস্থান: ‘কোস্টগার্ডের তদন্তে ছয়জনই জড়িত’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, টেকনাফ থানার উপ-পরিদর্শক সনজীব কান্তি নাথ বলেন,
“কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তাদের তদন্তে ছয়জনেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আমরা রিমান্ড চাইব, এরপর বিস্তারিত বলা যাবে।”

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন, উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে আছেন।

পাচারের নেটওয়ার্ক: ক্যাম্প থেকে গ্রাম বিস্তৃত চক্রের ইঙ্গিত

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে দালালদের মাধ্যমে যাত্রী সংগ্রহ করে ওই ট্রলারে তোলা হয়েছিল।

রফিকুল ইসলামের দাবি, ৬ নম্বর ক্যাম্পের সি ব্লকের মাহ নূর নামের এক দালাল তাকে “টেকনাফ বন্দরে কাজ” দেওয়ার কথা বলে ট্রলারে তোলে। পরে পরিবারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেয়। ট্রলারডুবির খবর ছড়াতেই ওই দালাল পালিয়ে যায়।

রামুর কচ্ছপিয়া দক্ষিণ পাড়া ওই ট্রলারে গিয়ে নিখোঁজ আছে ৪ যুবক। তাদেরই একজন মিজবাউল হকের পরিবার জানায়, স্থানীয় আবদুল হামিদ ১ এপ্রিল সকাল ১১টায় তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান।

তার বাবা মোজাম্মেল হক বলেন, “পরে ভয়েস মেসেজে জানায়, সে মালয়েশিয়া যাচ্ছে। হামিদ বলেছিল সে টেকনাফ পর্যন্ত পাঠিয়েছে। ফিরিয়ে আনতে চাইলে ৭০ হাজার টাকা চায়, আর মালয়েশিয়া পৌঁছালে আরও ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।”

মোজাম্মেল হক জানান, ওই ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা একই এলাকার ফারুকের স্ত্রী মুমেনা আক্তারকে দিলেই হয়ে যাবে। মুমেনা আক্তারের ভাই মো আলম দালাল হিসেবে পরিচিত।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত আবদুল হামিদ ১২ এপ্রিল দেশ ছেড়ে দুবাই চলে গেছেন।

শহরের ‘মাঝি’ও সন্দেহের তালিকায়

কক্সবাজার শহরের ফদনার ডেইল এলাকা থেকে যাওয়া ৬ জনের একজন মো. হামিদ। যিনি উদ্ধার হলেও পাচারের অভিযোগে আটক এবং মামলার এক নম্বর আসামী।

তার ভাই মো. জুবায়ের বলেন, “হামিদ মাছ ধরার ট্রলারে কাজ করে। কাউকে না জানিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য বের হয়েছিল। এই যাত্রায় একসাথে যাওয়া তাদের আরেক ছোটো ভাই ইব্রাহিম এখনো নিখোঁজ।”

তবে বে ইনসাইট কথা বলেছে ফদনার ডেইলের অনেক স্থানীয়দের সাথে। কেউ কেউ বলছেন, হামিদের মাধ্যমেই অন্যদের যাওয়া হতে পারে এবং তিনি আগে থেকেই এমন ট্রলারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক মুদি দোকানদার বলেন, এটা ছিলো হামিদের ৬ষ্ঠ মালয়েশিয়া যাত্রা। তার আপন ভাইও যাচ্ছে বলে আরো ৪জনকে সাথে নিয়েছিলো হামিদ। এর আগে আরো ৫ বার যাওয়ায় বাকিরা তাকে বিশ্বাস করেছিলো।

আটক মো. আকবরের স্ত্রী দাবি করেন, “সে গত ২-৩ বছর ধরে টমটম চালায়। বন্ধুদের প্রলোভনে পড়ে চলে গেছে। না যাওয়া নিয়ে অনেক ঝগড়া হয়েছে। সে এর আগে মাছের ট্রলারে কাজ করতো।”

নারী ভুক্তভোগীর করুণ গল্প

ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১৫ নম্বর ক্যাম্পের রাহেলা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা না গেলেও তার বোন সেনোয়ারা বেগম জানান, “রাহেলার বিয়ে হয়েছে ৫ বছর। সন্তান না হওয়ায় স্বামীর বাড়িতে নির্যাতন চলছিল। বেশ কয়েকবার বাপের বাড়িও চলে আসছিলো। একদিন শুনি সে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে।”

“ভালো কাজের প্রলোভনে দালালরা তাকে মালয়েশিয়া নিতে যাচ্ছিল।”

প্রশাসনের কাছে নিখোঁজের তালিকা নেই

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আ. মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আন্দামান সাগরে নিখোঁজদের ঘটনায় প্রশাসন প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।

মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমরা যতটুকু তথ্য পেয়েছি, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।”

প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ থাকার বিষয়ে কোনো তালিকা প্রশাসনের কাছে আছে কি না—এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, “এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট তালিকা এখনো আমরা পাইনি।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেও এখনো পরিষ্কারভাবে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বা তথ্য প্রদান করা হয়নি।

“যাদের উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে, তারাও বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি,” বলেন তিনি।

পুলিশ: ‘পাচারকারীদের নির্দিষ্ট তালিকা নেই’

কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পরামর্শে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পাচারের ২৫০ জন নিখোঁজের বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি।”

ওসি জানান, একটি জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে লোকজন স্থানান্তরের ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড থানায় মামলা করে।

“কোস্টগার্ড ছয়জনের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে মামলা দিয়েছেন,” বলেন তিনি।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, “নয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয়জনকে আসামি করে মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে আটক করা হয়েছে, তারা জেলে আছে।”

টেকনাফ এলাকায় মানবপাচারকারীদের কোনো নির্দিষ্ট তালিকা পুলিশের কাছে আছে কিনা এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, “মানব পাচারকারীদের নির্দিষ্ট কোনো তালিকা আমাদের কাছে নেই। তবে যারা এসবের সাথে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

সাম্প্রতিক সময়ে মানবপাচার সংক্রান্ত মামলার পরিসংখ্যান জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এগুলো আপনাকে ওভাবে দেওয়া যাবে না, তবে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।”

অনিশ্চয়তা ও হতাশা ‘স্বেচ্ছা পাচারের’ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

রোহিঙ্গাদের পাচারের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন অবস্থার কারণে তাদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা কাজ করছে।

“ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, নিজ দেশে যুদ্ধ ও বৈরী পরিস্থিতি রয়েছে, আবার ক্যাম্পের জীবনও খুব অনুকূল নয়, সব মিলিয়ে তারা হতাশায় ভুগছে,” বলেন তিনি।

তার মতে, এই ‘হোপলেসনেস’ ও ‘ড্রিমলেসনেস’ অনেককে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্রলুব্ধ করছে।

“তারা মনে করে সাগরের ওপারে হয়তো ভালো জীবন অপেক্ষা করছে। ফলে কাঠের নৌকায় করেও তারা বিপজ্জনক যাত্রায় বেরিয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে থাকা স্বজনদের সহায়তা নেয়, আবার স্থানীয়ভাবে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে,” যোগ করেন তিনি।

তিনি এটিকে এক ধরনের “স্বেচ্ছায় ট্রাফিকিং” বলেও উল্লেখ করেন।

নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব

রোহিঙ্গাদের মধ্যে ঠিক কতজন মানবপাচারের শিকার হয়েছেন, এমন নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন বলেও জানান শরণার্থী কমিশনার মিজানুর রহমান।

“যারা ট্রাফিক হয়ে সফলভাবে চলে যায়, তাদের তথ্য পাওয়া যায় না। সাধারণত কোনো নৌকাডুবি, উদ্ধার অভিযান বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মাধ্যমে কিছু তথ্য জানা যায়,” বলেন তিনি।

তার মতে, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী বা বিজিবি কাউকে উদ্ধার করলে বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তখনই জানা সম্ভব হয় যে তারা পাচারের শিকার ছিল বা পাচারের পথে ছিল।

এক ট্রলারে প্রায় ২৮০ জন

বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গা মো. রফিকুল ইসলামের ভাষ্যে, ডুবে যাওয়া ট্রলারটিতে প্রায় ২৮০ জন মানুষ ছিলেন। এর মধ্যে ১৩ জন ছিলেন পাচারকারী ও নৌকার স্টাফ, ২১ জন রোহিঙ্গা নারী এবং চারজন শিশু। প্রায় দেড়শ জন রোহিঙ্গা এবং বাকিরা বাংলাদেশি নাগরিক। সবাই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আশায় এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় শামিল হয়েছিলেন।

‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত কুঠুরি

রফিকুল জানান, ৮ এপ্রিল আন্দামান সাগরে পৌঁছানোর পর সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। এ সময় পাচারকারীরা যাত্রীদের জোর করে ট্রলারের মাছ ও জাল রাখার চারটি সংকীর্ণ কুঠুরিতে ঢুকিয়ে দেয়।

“মানুষে মানুষে ঠাসাঠাসি হয়ে যায়। শ্বাস নেওয়ার জায়গা ছিল না,” বলেন তিনি।

অতিরিক্ত ভিড় ও অক্সিজেনের অভাবে ওই কুঠুরিগুলোতেই ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন রফিকুল।

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন পাচারকারীরা হুমকি দেয়—ডেকে থাকা কেউ নিচে না নামলে ট্রলার ডুবিয়ে দেওয়া হবে। আতঙ্কের মধ্যেই বড় ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।

একটি পানির বোতলেই বাঁচার লড়াই

ডুবন্ত ট্রলার থেকে কোনোভাবে একটি দুই লিটারের পানির বোতল আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকেন রফিকুল।

“চারদিকে শুধু মানুষ ডুবছিল… আমি শুধু একটা বোতল ধরে ছিলাম… আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন,” বলেন তিনি।

পরদিন ৯ এপ্রিল একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ তাকে সহ মোট ৯ জনকে উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু—যাদের অধিকাংশের কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকাও নেই প্রশাসনের কাছে।

কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু: আদিনাথ মন্দিরের উত্তরাংশ থেকে চৌফলদণ্ডি হওয়ার সম্ভাবনা

বে ইনসাইট ডেস্ক

কক্সবাজারের সঙ্গে মহেশখালীর সরাসরি সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য রুট নিয়ে চলছে আলোচনা। বিশেষ করে মহেশখালীর উত্তরাংশকে যুক্ত করার দাবি এবং এয়ারপোর্ট ও নৌ চলাচলের সীমাবদ্ধতা, দুই দিকেই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী সেতুর অবস্থান নির্ধারণে উত্তর প্রান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন।

সভা শেষে বে ইনসাইটকে তিনি বলেন, সেতুটি যদি এমনভাবে করা যায় যাতে আদিনাথ মন্দিরের উত্তর বা শাপলাপুরের শেষ প্রান্ত থেকে সংযোগ স্থাপন হয়, তাহলে মহেশখালীর মানুষ সরাসরি কক্সবাজারে যেতে পারবে।

“এখন অনেককে এক থেকে দেড় ঘণ্টা ঘুরে যেতে হয়। সেতুটি উত্তর দিকে হলে এই সময় বাঁচবে,” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সময়, ব্যয় ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় সেতুর দৈর্ঘ্য কম রাখা এবং নাব্যতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনটি রুট, কিন্তু চূড়ান্ত কিছু নয়

সভায় সেতু নির্মাণের জন্য ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’, এই তিনটি সম্ভাব্য রুট নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকা, শাপলাপুরের দিক এবং ক্রস স্কুল-সংলগ্ন একটি রুট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে কোনো রুটই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং জনমত ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

এয়ারপোর্ট ও নৌ চলাচল বড় বাধা

আলোচনায় উঠে এসেছে, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কারণে সি রুটে সেতু নির্মাণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে এই রুটে সেতু করতে হলে সেটি অনেক উঁচু করতে হবে, যাতে নৌবাহিনীর জাহাজসহ বড় নৌযান চলাচল করতে পারে। এতে বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, “নেভি, স্টিমার, সব ধরনের নৌযান চলাচল মাথায় রেখে সেতুর উচ্চতা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে এয়ারপোর্টের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।”

সেতুর সম্ভাবনা কোনদিকে বেশি?

আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আদিনাথ মন্দিরের আশপাশ হয়ে চৌফলদণ্ডি সেতুর কাছাকাছি এলাকায়, যেটি ‘বি’ রুট হিসেবে প্রস্তাবিত, সেখানে সেতু নির্মাণ তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত হতে পারে।

যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ এই রুটকে তুলনামূলকভাবে কম জটিল বলে মনে করছেন।

কারন ‘এ’ রুটে যেটি শাপলাপুর হয়ে পোকখালী করার প্রস্তাবনা আসছে ,সেটা হলে কক্সবাজার শহরে আসতে দীর্ঘ সময় ও ব্যয় বাড়বে। আর ‘সি’ রুটের উচ্চতা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে সিভিল এভিয়েশনের।

সরকারের আশ্বাস, দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

সভায় প্রধান অতিথি সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পটি এগোয়নি। তবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

“মহেশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই সেতু। দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে,” বলেন তিনি।

প্রাথমিক পর্যায়ে জনমত সংগ্রহ

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই বৈঠকে মূলত জনমত ও স্থানীয় চাহিদা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন রুট নিয়ে মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তী সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কাজে লাগবে।

ফলে কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু এখনো পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপেই রয়েছে, চূড়ান্ত রুট নির্ধারণে সামনে আরও আলোচনা ও কারিগরি বিশ্লেষণ প্রয়োজন হবে।

দুর্ঘটনাপ্রবণ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নয়ন: ২৬.২১ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ হবে ২০২৯ সালে

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হাইওয়ে ইম্প্রুভমেন্ট ফেজ-ওয়ান”-এর আওতায় মহাসড়কের ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পের পিপিপি (PPP) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এই অংশের কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের একটি ফ্লাইওভারও নির্মাণ করা হবে।

বাকি অংশে সমীক্ষা, অর্থায়নে জাইকার সঙ্গে আলোচনা

তিনি বলেন, মহাসড়কের প্রায় ৪৮ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করতে বর্তমানে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলছে।

এই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা (JICA)-র সঙ্গে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ অংশের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পুরোটা চার লেনে উন্নীত করতে একাধিকবার সমীক্ষা চালানো হয়েছে।

আগের সমীক্ষায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রাক্কলন

এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সুইডিশ কনসালট্যান্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা যাচাই করে।

সেই সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়ক

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে দুর্ঘটনাপ্রবণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করেছে।

“চিহ্নিত স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে দুর্ঘটনা কমবে,” বলেন তিনি।