চকরিয়ার ওসি- ইউএনওকে ‘খাটিয়ায় শোয়ানোর’ হুঁশিয়ারি উপজেলা বিএনপি সভাপতির

কক্সবাজার | বে ইনসাইট

কক্সবাজারের চকরিয়ায় থানার ওসি, ইউএনওসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের বিরুদ্ধে।

রোববার (১০ মে) এক অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্যে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।

আমাদের হাতে আসা ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিওতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, চকরিয়া থানা সবকিছু দেবে না, চকরিয়া থানা থেকে সবকিছু আমাদের আদায় করতে হবে। আমাদেরটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাদেরটা কয়লামন্ত্রী না, পানিমন্ত্রী না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘ও ওসি তুই যদি আর হতা ন হনুস রাতিয়া গাট্টি গোল গরা পরিবো।’ অর্থাৎ ওসি, তুই যদি আমার কথা না শুনিস কাপড়চোপড় বেঁধে রাখতে হবে। তিনি বলেন, একইভাবে ইউএনও অফিসের কোনো কর্মকর্তা যদি আমাদের কথা না শোনে, তাহলে রাতে গাট্টি (কাপড়চোপড়) বেঁধে রাখার চেষ্টা করো।

এনামুল হক বলেন, আরও বড় বড় কর্মকর্তা যারা আছে, অফিসার-পিয়ন (কর্মকর্তা) আছে, আলটিমেটাম দেবেন, এই কাজটা করে দিবি। ১৫ দিন সময় দেবেন। এর ভেতর যদি না করিস, মসজিদ থেকে খাটিয়া আনবো, তোকে ওখানে শুয়াবো। তারপর হয় আমিরাবাদ, না হয় কক্সবাজার পাঠিয়ে দেব। তোর আর থাকতে হবে না। এই হচ্ছে আমাদের করণীয়।

এ সময় অবৈধভাবে মাছের ঘেরে না যাওয়ার জন্য সবাইকে নিষেধ করেন বিএনপির এ নেতা। তবে, বৈধভাবে সবাইকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

রোববার (১০ মে) রাতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আজিজনগর চেয়ারম্যান লেকস্থ একটি পিকনিক প্রোগ্রামে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

এ সময় তার পাশে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দীন ফরায়েজি, পৌরসভা বিএনপির সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আমিন কাউন্সিলর, বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন, আবুল হাসেমসহ চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

জানতে চাইলে এ বক্তব্যের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক।

তিনি বে ইনসাইটকে বলেন, “আমি বলেছি, হ্যাঁ এই কথাগুলো আমি বলেছি, কিন্তু আপনারা যে অর্থে নিয়েছেন, ওই অর্থে বলি নাই। এটা আমি এই অর্থে বলেছি যে আমাদের যদি বৈধ কোনো কথা না শোনা হয়, তাহলে এটা প্রযোজ্য হবে।”

তিনি দাবি করেন, বক্তব্যটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নয়, বরং একটি পিকনিকে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে ভিন্ন অর্থে প্রচার করা হচ্ছে। এখানে তো কোনো সাংবাদিক যায়নি।

প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এনাম বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে এই বক্তৃতা দিই নাই। একটা পিকনিকে আমরা এই কথাগুলো বলেছি।”

তিনি বলেন, বিষয়টি ছিল “বৈধতা-অবৈধতার প্রশ্নে” এবং “আমাদের ছেলেদের যদি অবৈধভাবে কেউ হয়রানি করে, তাহলে সে হয়তো চকরিয়াতে চাকরি করবে না”— এই প্রেক্ষাপটে আমি মন্তব্য করেছিলাম।

এনাম আরও বলেন, “আমি এ কথা তাকে (সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে) বলেছি। কে বা কারা এটাকে নিয়ে মিটিং করে এই বক্তৃতা করেছে— এটাই।”

আলাপকালে প্রতিবেদক উল্লেখ করেন, ঘটনাটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। জবাবে এনাম বলেন, “রাইট, রাইট।”

“আমাদের এলাকা হোম মিনিস্টারের এলাকা। জনগণই তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাই কোনো বৈধ কাজ যদি তারা করে না দেন, তাহলে ইউএনও-ওসির এমন পরিণতির কথা বলেছি।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চকরিয়ার নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন দেলোয়ার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। এটা ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত। উনি ভালো বলতে পারবেন কেনো বলেছেন।”

চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরাকান আর্মির হাত থেকে ফিরলো ১৪ জেলে

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া ১৪ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে দাবী করে বিবৃতি দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি এবং একজন রোহিঙ্গা রয়েছেন।

শুক্রবার নাফ নদীর শূন্যরেখায় আরাকান আর্মির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে জেলেদের গ্রহণ করে বিজিবির একটি দল। পরে তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, ২০২৫-২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে এসব জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের আটক করে আরাকান আর্মি। পরে বিভিন্ন সময়ে তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংগঠনটির নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পে রাখা হয়।

বিজিবির দাবী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় কক্সবাজার রিজিয়নের বিজিবি আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। দীর্ঘদিনের সমন্বয় ও প্রচেষ্টার পর পর্যায়ক্রমে আটক জেলেদের ফেরত আনার বিষয়ে অগ্রগতি হয় বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

বর্তমানে দেশে ফিরিয়ে আনা জেলেদের পরিচয় যাচাই ও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।”

তিনি বলেন, এখনও মিয়ানমারে আটক থাকা অন্য জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবির এই উদ্যোগে আটক জেলেদের পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও জানানো হয়েছে।

কক্সবাজারের আকাশে রহস্যময় আলোর নেপথ্যে কি?

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

শুক্রবার (৮ মে) কক্সবাজার জেলাসহ বিভিন্ন এলাকার আকাশে এক অদ্ভুত ও উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আকাশের বুক চিরে একটি আলোর পিণ্ড অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ওপরের দিকে উঠে যেতে দেখা যায়, যা কয়েক মিনিট স্থায়ী ছিল। এই রহস্যময় দৃশ্যটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানামুখী আলোচনা শুরু হলেও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক এভিয়েশন এর কিছু তথ্য বলছে, এটি ভারতের একটি শক্তিশালী ব্যালাস্টিক মিসাইল পরীক্ষার ফলাফল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

সম্ভাব্য কারণ: ৩৫৬০ কিমি দীর্ঘ ‘ডেঞ্জার জোন’

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নেভিগেশন সতর্কবার্তা বা NOTAM (Notice to Airmen) অনুযায়ী, ভারত গত ৬ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের একটি বিশাল এলাকায় বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল। ওড়িশার আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ভারত মহাসাগরের গভীরে প্রায় ৩৫৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই সতর্কতা জারি করা হয়। সাধারণত এত দীর্ঘ পাল্লার সতর্কতা তখনই জারি করা হয় যখন কোনো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক মিসাইল (ICBM) বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়।

কক্সবাজার থেকে দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাব্য কারণ

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, ভারতের ওড়িশার আব্দুল কালাম দ্বীপ (হুইলার আইল্যান্ড) থেকে যখন কোনো মিসাইল ভারত মহাসাগরের দিকে ছোড়া হয়, তার গতিপথ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের খুব কাছাকাছি থাকে। আজ আকাশ পরিষ্কার থাকায় এবং মিসাইলটি বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে (Ionosphere) পৌঁছানোর সময় এর ইঞ্জিনের ‘প্লুম’ বা ধোঁয়ার কণাগুলো আলোয় প্রতিফলিত হওয়ায় এটি কক্সবাজার থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে আপাতত।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) দাবি করছে, এটি ভারতের বহুল আলোচিত অগ্নি-৬ (Agni-VI) বা অগ্নি সিরিজের কোনো উন্নত সংস্করণের পরীক্ষা হতে পারে।

কেন এই আলো দেখা গেল?

ব্যালাস্টিক মিসাইল যখন বায়ুমণ্ডলের ঘন স্তর ভেদ করে মহাকাশের দিকে এগিয়ে যায়, তখন এর রকেট ইঞ্জিনের এক্সজস্ট গ্যাস এবং বায়ুর ঘর্ষণে এক ধরনের উজ্জ্বল আভা তৈরি হয়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকেও এই দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যায়। এর আগে ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও ভারতের একই ধরনের পরীক্ষার সময় বাংলাদেশ থেকে এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল।

অগ্নি-৬ এর সক্ষমতা:

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং এর পাল্লা হতে পারে ১০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। এতে ‘MIRV’ প্রযুক্তি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মাধ্যমে একটি মিসাইল দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব।

নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে কবে?

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (DRDO) বা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাধারণত এ ধরনের কৌশলগত পরীক্ষার সফল সমাপ্তির পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করে। বুধবার রাতের শেষভাগে ভারতের সরকারি সংবাদ সংস্থা PIB (Press Information Bureau) বা DRDO-এর অফিশিয়াল পোর্টাল থেকে এই পরীক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত এবং নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কক্সবাজারের প্রশাসনিক বিবর্তন: মহকুমা থেকে জেলা, নতুন মানচিত্রের পথে মাতামুহুরী

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজার শুধু দেশের পর্যটন রাজধানীই নয়, প্রশাসনিক কাঠামোর দিক থেকেও এটি বাংলাদেশের অন্যতম পরিবর্তনশীল অঞ্চল। ব্রিটিশ আমলে একটি ছোট মহকুমা হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই জনপদ এখন নয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক বিস্তার, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতার প্রয়োজনেই বারবার বদলেছে জেলার মানচিত্র।

সবশেষ সেই পরিবর্তনের ধারায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি নাম, “মাতামুহুরী উপজেলা”।

মহকুমা থেকে জেলার যাত্রা

১৮৫৪ সালে কক্সবাজার, চকরিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ থানা নিয়ে গঠিত হয় কক্সবাজার মহকুমা। পরে প্রশাসনিক প্রয়োজন অনুযায়ী এসব এলাকা ভেঙে নতুন থানা সৃষ্টি করা হয়। মহেশখালী থেকে আলাদা হয় কুতুবদিয়া, টেকনাফ থেকে উখিয়া এবং কক্সবাজার সদর থেকে রামু।

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ১৯৫৯ সালে কক্সবাজার শহরকে টাউন কমিটিতে উন্নীত করা হয়। পরে ১৯৭২ সালে এটি পৌরসভায় রূপ নেয়।

অবশেষে ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ কক্সবাজার মহকুমাকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রশাসনিকভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের এই উপকূলীয় এলাকা নতুন পরিচয় পায়।

উপজেলা ব্যবস্থার সূচনা

স্বাধীনতার পর এরশাদ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচির আওতায় ১৯৮৩ সালে দেশের বিভিন্ন থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। সেই সময় কক্সবাজার জেলার প্রধান থানাগুলোও উপজেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

চকরিয়া, উখিয়া, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, রামু ও মহেশখালী, সবগুলোই তখন উপজেলা কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসনকে জনগণের আরও কাছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

চকরিয়া: বৃহৎ উপজেলা থেকে বিভাজনের ইতিহাস

কক্সবাজার জেলার প্রশাসনিক বিবর্তনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলোর একটি চকরিয়া। ১৭৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই থানা ছিল জেলার অন্যতম বৃহৎ প্রশাসনিক অঞ্চল।

উপকূল, পাহাড় ও বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকা নিয়ে গঠিত হওয়ায় সময়ের সঙ্গে প্রশাসনিক চাপ বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালের ২৩ এপ্রিল চকরিয়ার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় পেকুয়া উপজেলা।

উজানটিয়া, পেকুয়া, টৈটং, মগনামা, রাজাখালী, বড়বাকিয়া ও শিলখালী ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের মাধ্যমে চকরিয়ার প্রশাসনিক পরিসর ছোট করা হয়।

নতুন ‘মাতামুহুরী উপজেলা’

দীর্ঘদিনের দাবির পর আবারও ভাঙছে চকরিয়া উপজেলার সীমানা।

২০২৬ সালের ৭ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে চকরিয়ার সাত ইউনিয়ন নিয়ে “মাতামুহুরী উপজেলা” গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রস্তাবিত ইউনিয়নগুলো হলো—শাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, ভেওলা মানিকচর, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ও কোনাখালী।

স্থানীয়দের দাবি, মাতামুহুরী নদীঘেঁষা এসব ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিকভাবে অবহেলিত ছিল। চকরিয়া উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং জনসেবায় ভোগান্তির কারণে পৃথক উপজেলা গঠনের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

নিকার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন মিললেও এখনো এ বিষয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে এলাকাগুলো এখনও চকরিয়া উপজেলার অংশ হিসেবেই রয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, গেজেট প্রকাশ ও চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদনের পরই নতুন উপজেলা কার্যকর হবে।

ঈদগাঁও: সর্বশেষ কার্যকর উপজেলা

কক্সবাজার জেলার সর্বশেষ কার্যকর উপজেলা হলো ঈদগাঁও। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই কক্সবাজার সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে এটি গঠিত হয়।

এর মাধ্যমে জেলার উপজেলা সংখ্যা দাঁড়ায় নয়টিতে।

বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো

বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় কার্যকর উপজেলা রয়েছে—

  • কক্সবাজার সদর
  • ঈদগাঁও
  • উখিয়া
  • টেকনাফ
  • চকরিয়া
  • পেকুয়া
  • মহেশখালী
  • কুতুবদিয়া
  • রামু

মাতামুহুরী উপজেলা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলে জেলার প্রশাসনিক মানচিত্রে যুক্ত হবে দশম উপজেলা।

বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের প্রশাসনিক বিবর্তনের ইতিহাস আসলে এই অঞ্চলের জনসংখ্যা, অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধিরই প্রতিফলন। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট, পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ এবং উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে ভবিষ্যতে জেলায় আরও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

‘পেওনিয়ারে’ বছরে ৮২ লাখ টাকা বেতনে কক্সবাজারের রাকিবের নিয়োগ কতোটুকু সত্য?

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে কক্সবাজারের রাকিবুল ইসলাম সৈকত নামে এক তরুণের বিশ্বখ্যাত ফিনটেক জায়ান্ট ‘পেওনিয়ার’ (Payoneer)-এ বড় অংকের বেতনে নিয়োগ পাওয়ার খবরটি ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, বার্ষিক ৭০ হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা বেতনে তিনি সেখানে যোগ দিয়েছেন।

ভাইরাল হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়, ৬ বছরের রিমোট জবের অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘সোলার ইউনিয়ন’ নামক প্রতিষ্ঠানে অভাবনীয় সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে পেওনিয়ার তাকে এই উচ্চ বেতনে নিয়োগ দিয়েছে। এমনকি তার কথিত একটি ‘অফার লেটার’ বা নিয়োগপত্রের ছবিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি প্রকাশের পর জেলা জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং অনেকে তাকে সফলতার উদাহরণ হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করতে থাকেন।

বিষয়টি কিছুটা আলোচনায় এলে শুরু হয় বাংলাদেশের আইটি বিশেষজ্ঞ এবং পেওনিয়ারের সাথে কানেক্টেড পর্যায় থেকে ভিন্ন মতামত দেওয়া।

কি বলছেন বাংলাদেশের পেওনিয়ার সংশ্লিষ্টরা?

‘পেওনিয়ার বাংলাদেশ অফিশিয়াল’ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন রাশেদুল হাসান এক পোস্টে জানান, “আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেওনিয়ারের নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ছবি ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, এই তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং অননুমোদিত। ওই নিয়োগপত্র এবং দাবিকৃত তথ্যগুলো মোটেও আসল নয়।”

‘পেওনিয়ার বাংলাদেশ অফিশিয়াল’ নামক ফেসবুক গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা ১লক্ষ ৪৭ হাজারেরও বেশি। পেওনিয়ার নিয়ে সবচেয়ে বেশি সুপরিচিত ও সাড়া ফেলা ফেসবুক গ্রুপ এটি।

ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরের পরিচিত প্রতিষ্ঠান Bizcope বে ইনসাইটের কাছে দাবী করেছে, নিয়োগের এই খবরটি একটি ‘ফেইক নিউজ’। তাদের মতে, ছড়িয়ে পড়া নিয়োগপত্রটিতে কাঠামোগত ভুল আছে, যা কোনো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অসম্ভব।

রাকিবুল ইসলাম সৈকতের বক্তব্য

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা রাকিবুল ইসলাম সৈকতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি তার ব্যক্তিগত সাফল্যের দাবি বজায় রাখলেও পেওনিয়ারের ওই নির্দিষ্ট নিয়োগপত্রটির সত্যতা বা গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

সৈকত বে ইনসাইটকে বলেন, “এখন অনেকেই ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করছে, আমি সোমবার থেকে কাজ শুরু করবো। দোয়া করবেন।”

পেওনিয়ার ও বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

পেওনিয়ার হলো একটি আমেরিকান ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্বজুড়ে ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বাংলাদেশে এর বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী থাকলেও বর্তমানে দেশে পেওনিয়ারের কোনো কার্যকর অফিস নেই।

তবে বাংলাদেশের ব্যাংক এবং বিকাশ (MFS)-এর সাথে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে তারা তাদের সেবা প্রদান করে থাকে।

ফের হামের থাবা, কক্সবাজার হাসপাতালে আরো দুই শিশুসহ এখন পর্যন্ত ২০ শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্য বিট । বে ইনসাইট

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেইসাথে গেলো তিন দিনে হুহু করে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। জেলা সদর হাসপাতালে তিনদিনে ভর্তি হয়েছে ৯৪ জন শিশু।

গতকাল মারা যাওয়া শিশুরা হলো রামু উপজেলার মিজানুর রহমানের ৮ মাস বয়সী পুত্র আতিকুর রহমান এবং একই এলাকার জাবেদের ৬ মাস বয়সী কন্যা ওয়াজিফা।

রোববার (৩ মে) কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শান্তনু ঘোষ।

ডা. ঘোষ জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু দুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, ওয়াজিফাকে গত ২৪ এপ্রিল ভর্তি করা হয় এবং ৩ মে সকাল ৮টায় তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আতিকুর রহমানকে ৩ মে ভর্তি করার পর একই দিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত সন্দেহে নতুন করে ২৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৭৯ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হামে সন্দেহভাজন হিসেবে ২০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জন রোহিঙ্গা শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৮৮৩ জন শিশু।

অন্যদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় মোট ১,৪৫২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

কক্সবাজারে কয়েক ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনা, বজ্রপাত ও আত্মহত্যাসহ ৫ জনের মৃত্যু

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজারে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক পাঁচটি ঘটনায় এক রোহিঙ্গা শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন, বজ্রপাতে একজন এবং আত্মহত্যায় একজনের মৃত্যু। এসব ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩-তে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর একটি গাড়ির ধাক্কায় আবু ওয়াইদা (৪) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পের ই/০১ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু ওয়াইদা ক্যাম্প-১৩-এর জি/০৪ ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবা মৌলবী আব্দুল্লাহ ও মা হামিদা। পুলিশ জানায়, আইওএম পরিচালিত একটি গাড়ি (চট্ট মেট্রো-চ-১১-৮৭৬৪) ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটিকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা গাড়িটি ভাঙচুর করে। পরে এপিবিএন পুলিশ ও উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর গাড়িচালক পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ঈদগাঁও উপজেলায় নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে নুরুল হক (৮০) নামে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছেন।

মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের জাগিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ভোররাতে নিজ ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস নেন নুরুল হক। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, নুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. মিজানুর রহমান নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হারবাং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের দোহাজারী পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি চন্দনাইশ এলাকায় কর্মরত একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন।

চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার পরিদর্শক মো. আরিফুল আমিন বলেন, কক্সবাজারমুখী মোটরসাইকেলের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পূরবী পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মোক্তার হোসেন (৪৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর ইউনিয়নের রাজার ছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী (শামলাপুর) এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, বাহারছড়া থেকে টেকনাফগামী মোটরসাইকেলটি হঠাৎ এক পথচারী সামনে চলে আসায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাস্থলেই মোক্তার হোসেন মারা যান। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের চৌফলদণ্ডী ব্রিজ এলাকায় বজ্রপাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলম জানান, লবণের মাঠ থেকে ব্রিজের ওপর ওঠার সময় বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

মনজুর আলম বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

নাফ নদের সীমান্তে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ফের নিখোঁজ চাকমা শ্রমিক

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তের নাফ নদী এলাকায় কাঁকড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে আবারও এক চাকমা দিনমজুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দাবি, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর আগে একইভাবে নিখোঁজ হওয়া আরও দুই চাকমা যুবকেরও আজ পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ সা মুং চিং চাকমা টেকনাফ উপজেলার লাম্বাঘোনা এলাকার বাসিন্দা উগবার ছেলে।

পরিবার জানায়, ২২ এপ্রিল বুধবার সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীর এলাকায় কাঁকড়া সংগ্রহ করতে যান সা মুং চিং চাকমা। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

তার স্ত্রী ছাম্মিয়াউ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “আমার স্বামী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে আমরা সন্দেহ করছি। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমরা খুব উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি।”

তিনি জানান, এ ঘটনায় উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কাজ করছেন।”

তদন্তসংশ্লিষ্ট এসআই আব্দুল আজাদ বলেন, “সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ হওয়ায় এবং এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু না পাওয়ায় তদন্তে তেমন অগ্রগতি নেই। তবে আমরা কাজ করছি।”

দুই বছর আগেও একইভাবে নিখোঁজ দুই যুবক

স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি নতুন ঘটনা নয়। প্রায় দুই বছর আগে একইভাবে কাঁকড়া ও মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন আরও দুই চাকমা যুবক। আজ পর্যন্ত তাদেরও কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ ওই দুইজন হলেন টেকনাফ উপজেলার ১ নম্বর হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাঘোনা চাকমা পল্লীর বাসিন্দা ছৈলা মং চাকমা (৩০) ও ক্যমংখোএ তঞ্চঙ্গ্যা (১৯)।

ছৈলা মং চাকমার ভাই পিরামং চাকমা বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ মে সকাল ৭টার দিকে টেকনাফ থানাধীন হাউস দ্বীপের পাশে ৫ নম্বর গেইট সংলগ্ন নাফ নদীতে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে তারা নিখোঁজ হন।

তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী আমাদের জানিয়েছিলেন, তাদেরকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে। ধারণা করছি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদেরকে ধরে রেখেছে। কিন্তু কেন আটকে রাখা হয়েছে, তা আমরা জানি না। আজ পর্যন্ত কোনো মুক্তিপণও দাবি করা হয়নি।”

“দুই বছর পার হতে চলেছে। এখন আমরা তাদের জীবনের ঝুঁকি কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা করছি।”

অভিযোগের পরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কক্সবাজার জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাত তঞ্চঙ্গ্যা আলো বলেন, নিখোঁজের ঘটনার পরদিন ১৭ মে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

তিনি বলেন, “বিজিবি, র‍্যাবসহ সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রশাসনের কাছে বারবার ধর্না দিয়েও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখিনি।”

‘সীমান্ত পেরিয়ে গেলে উদ্ধার কঠিন’

তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে চলে যায়, ফলে পরে নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নাফ নদীতে মাছ ধরা, কাঁকড়া ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু অনেকেই স্থানীয় মহাজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখানে যায়।”

তিনি বলেন, “কেউ নিখোঁজ হয়, কেউ মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়, তবু মানুষের যাওয়া থামছে না। অনেক সময় তারা অবৈধ ব্যবসা, বিশেষ করে মাদক সংশ্লিষ্ট কাজেও জড়িয়ে পড়ে।”

বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা মানুষকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। রোহিঙ্গারাও যেন সীমান্তে না যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করছি। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে কেউ নিজের দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে গেলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায়ও।”

তিনি আরও বলেন, “জেলেদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, যারা অপহরণের অভিযোগ করে, তাদের ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশই মিয়ানমারের ভেতরে চলে যায়। বাংলাদেশের ভেতরে থেকে তাদের অপহরণ করা হয়েছে, এমন প্রমাণ সাধারণত পাওয়া যায় না।”

স্থানীয় চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় জীবিকার তাগিদে কাঁকড়া ও মাছ ধরতে যাওয়া অনেকেই আর ফিরে আসছেন না। কিন্তু নিখোঁজদের উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগের অভাব তাদের হতাশ করে তুলছে।

রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তাহসানের দায়িত্ব নবায়ন

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

জনপ্রিয় গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা ও উপস্থাপক তাহসান খান জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের (UNHCR) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তাঁর দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে নবায়ন করেছেন।

ইউএনএইচসিআরের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২১ সালে বাংলাদেশে সংস্থাটির প্রথম শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি শরণার্থী ইস্যুতে সচেতনতা তৈরি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে কাজ করে আসছেন।

দায়িত্ব নবায়নের পর তাহসান বলেন, “রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর নয় বছর পার হয়েছে। একটি টেকসই সমাধান না আসা পর্যন্ত তাদের দুর্দশার প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল থাকা প্রয়োজন।”

তিনি জানান, শরণার্থী ক্যাম্পে গিয়ে বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

আমি এমন সব পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা অকল্পনীয় ক্ষতি ও কষ্টের শিকার হয়েছেন। তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি তাঁদের গল্পগুলো সবার কাছে তুলে ধরতে চাই।

বিবৃতিতে বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, তাহসান দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের পক্ষে একজন সক্রিয় কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছেন।

“তাঁর সম্পৃক্ততা এমন এক সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন, যা এই সময়ে আমাদের সবার প্রয়োজন। তাঁর নিয়োগের মেয়াদ বাড়াতে পেরে আমরা গর্বিত,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দশ লাখের বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত কয়েক বছরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন তাহসান। তিনি ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন, শরণার্থী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিশ্ব শরণার্থী দিবসসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন।

২০২৫ সালে ক্যাম্পের একাংশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেন তিনি। ওই ঘটনায় হাজারো মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার বিষয়টি নিজের চোখে দেখেছেন বলে জানান।

সে সময় তাহসান বলেন, “শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে চায়। যতদিন তা সম্ভব না হয়, ততদিন আমাদের তাদের পাশে থাকতে হবে—সহায়তা, সুরক্ষা ও জীবনরক্ষাকারী সেবা দিয়ে।”

ইউএনএইচসিআরের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় সংস্থাটির অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য আমি কৃতজ্ঞ, বিশেষ করে তাদের কাজের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিলে।”

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই কক্সবাজার জেলার ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বসবাস করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী আবাসন।

প্রায় নয় বছর ধরে এসব ক্যাম্পে বসবাস করা অনেক শরণার্থীর জন্য শিক্ষা, জীবিকা ও দীর্ঘমেয়াদি সুযোগের প্রবেশাধিকার সীমিত।

ইউএনএইচসিআরের ৩৬ জন শুভেচ্ছাদূতের একজন হিসেবে তাহসান এখন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। শুভেচ্ছাদূতরা জনসমর্থন তৈরি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজন ও অধিকার তুলে ধরার মাধ্যমে সংস্থাটির কার্যক্রমকে এগিয়ে নেন।

বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর বলছে, তাহসানের দায়িত্ব নবায়নকে শরণার্থীদের প্রতি সংস্থাটির আস্থা ও যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটে আক্রান্ত মানুষগুলো বিশ্ববাসীর দৃষ্টি থেকে হারিয়ে না যায়।

টেকনাফের পাহাড় থেকে তিন যুবকের লাশ উদ্ধারঃ পুলিশ বলছে ‘পাচার-ডাকাতি’ দ্বন্দ্ব

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ তাদের ‘ডাকাতি ও মানবপাচারের’ সাথে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার পাহাড়ে তাদের মরদেহ দেখতে পান কাঠুরিয়ারা। পরে সেখান থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস ।

নিহতরা হলেন- স্থানীয় নুরুল কবিরের ছেলে মুজিব উল্লাহ, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর ও রুহুল আমিনের ছেলে রবিউল আওয়াল।

রবিউল আউয়ালের পিতা রুহুল আমিন জানান, আগের রাতে মোরশেদ আলম নামের এক যুবক তার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। সকালে পাহাড়ে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে দেখেন, তার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

মোরশেদ আলমের নামে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান রুহুল আমিন।

পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তারা মারা যান।

পুলিশের ভাষ্য, এরা ৩ জন চিহ্নিত ডাকাত ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, রবিউল ও মুজিবের নামে থানায় অপরাধের রেকর্ড আছে।

“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, “পাহাড়ি এলাকাটি অপরাধীদের অভয়ারণ্য। অপহরণ ও মানবপাচার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।”

ওই পাহাড়ি এলাকার বেশকয়েকজন কাঠুরিয়া জানান, সম্প্রতি গহীন পাহাড় থেকে মাঝে মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ ভেসে আসে। লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটে এখানে।

তাদের ধারণা, জিম্মিদের সঙ্গে জড়িতদের সংঘর্ষের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।