মানুষ ধানের শীষের জন্য পাগল, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব : একান্ত সাক্ষাৎকারে শাহজাহান চৌধুরী

বে ইনসাইটের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে কক্সবাজারের সংসদীয় আসন গুলোর প্রার্থীদের। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। পাঠকদের জন্য সেই আলাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উপস্থাপন করা হলো:


বে ইনসাইট: আপনাকে স্বাগতম। আপনি কক্সবাজারসহ সারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন পরিচিত মুখ এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতা। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে আপনি আগেও সংসদ সদস্য ও হুইপ ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার আপনার জয়ের প্রত্যাশা কতটুকু?

শাহজাহান চৌধুরী: আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি যা দেখছি, সাধারণ মানুষ ধানের শীষের পক্ষে অভাবনীয় সাড়া দিচ্ছে। তারা আমার ওপর গভীর আস্থা রেখেছে। এর আগে আমি চারবার এই এলাকার মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। জাতীয়তাবাদী দলের শাসনামলে এ অঞ্চলে যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, তার নিদর্শন এখনো স্পষ্ট। মানুষ সেই উন্নয়নের কথা মনে রেখেছে এবং আমাদের দলের প্রতি তাদের প্রবল আকর্ষণ রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, সবাই ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।

বে ইনসাইট: জয়ের পথে কোনো বিশেষ চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি?

শাহজাহান চৌধুরী: প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিপক্ষের মিথ্যা প্রপাগান্ডা। বর্তমানে তারা ভোট কেনার এক নোংরা প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আগে তারা ভোট জোর করে ছিনিয়ে নিত, আর এখন কৌশল বদলে মেহনতি ও গরিব মানুষকে বিকাশ বা নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। আমি কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার অনুরোধ করছি। তবে আমি বিচলিত নই; কারণ সাধারণ মানুষ আমাকে কথা দিয়েছে যে, তারা টাকা নিলেও ভোট ধানের শীষেই দেবে।

বে ইনসাইট: উখিয়া-টেকনাফের জন্য রোহিঙ্গা একটি বিশাল সংকট। আপনি নির্বাচিত হলে এই ইস্যুটিকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন?

শাহজাহান চৌধুরী: এটি আমাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ রোহিঙ্গাদের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গা এখানে অবস্থান করছে। আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি, কিন্তু এখন একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। তারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেই তাদেরকে সসম্মানে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে হবে। আমি এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ জোর দেব।

প্রফেসর ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে হয়তো আবেগপ্রবণ হয়ে কিছু কথা বলেছিলেন, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে কোনো জাদুকরী উপায়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। তবে আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি নিয়ে কাজ করব।

বে ইনসাইট: এই অঞ্চলে আব্দুর রহমান বদি এবং আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী ভোট ব্যাংক আছে বলে প্রচলিত আছে। এবারের নির্বাচনে সেটি আপনার জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে?

শাহজাহান চৌধুরী: আওয়ামী লীগের একটি সমর্থক গোষ্ঠী অবশ্যই আছে। তবে তাদের বর্তমান কোনো প্রার্থী না থাকায় সাধারণ কর্মীরাও এখন দেশের স্থিতিশীলতার কথা ভাবছে। আমি মনে করি, অনেক আওয়ামী লীগ কর্মীও এবার ‘আদর্শ নাগরিক’ হিসেবে ধানের শীষে ভোট দেবেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে তারা ভোট দেওয়ার জন্য বেশ আগ্রহী। এলাকায় শান্তি বজায় থাকবে এবং কোনো বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা আমি দেখছি না।

বে ইনসাইট: সংখ্যালঘু ভোটারদের পক্ষ থেকে আপনার প্রত্যাশা কী?

শাহজাহান চৌধুরী: সংখ্যালঘু বা মাইনরিটি ভোটারদের নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। তারা আগে হয়তো ভিন্ন মেরুতে ছিল, কিন্তু এখন তারা বিএনপির প্রতি আস্থা রাখছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, উখিয়া-টেকনাফের মাইনরিটি ভোটাররা এবার বিএনপির পক্ষেই থাকবেন।

বে ইনসাইট: গফুর চেয়ারম্যানকে নিয়ে কিছু গুজব শোনা যায় যে তিনি আগে বিএনপি করতেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

শাহজাহান চৌধুরী: এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা। তিনি কোনোদিন বিএনপি করেননি। তার পরিবারের কেউ হয়তো বিএনপি করত, কিন্তু তিনি সবসময় আব্দুর রহমান বদির সাথে থেকে আওয়ামী লীগ করেছেন। বদি তাকে জোর করে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। তিনি একসময় আমার সাথে আসার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আমাদের শক্তিশালী স্থানীয় নেতৃত্বের কারণে সুবিধা করতে পারেননি। [৬, ৭]

বে ইনসাইট: সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক চোরাচালান এবং টেকনাফ স্থলবন্দর নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

শাহজাহান চৌধুরী: উখিয়া-টেকনাফের দিকে আজ সারা পৃথিবীর নজর। মাদক চোরাচালান আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, আমি এর বিরুদ্ধে একটি ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করব। আমি যখন আগে এমপি ছিলাম, তখন টেকনাফ স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করেছিলাম যাতে মানুষ বৈধভাবে ব্যবসা করতে পারে এবং কালোবাজারি বন্ধ হয়। খালেদা জিয়ার সরকারের সময় এই বন্দর থেকে বছরে ১০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত, যা এখন নানা কারণে থমকে আছে। আমরা ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই বন্দরকে আরও আধুনিক ও উন্মুক্ত করব যাতে মানুষ সুন্দরভাবে ও বৈধ উপায়ে ব্যবসা করতে পারে।

বে ইনসাইট: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

শাহজাহান চৌধুরী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

রাজ বিহারী দাশ কে, কেন গেলেন জামায়াতের জনসভায়?

কক্সবাজার | বে ইনসাইট

কক্সবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ায় আলোচনায় এসেছেন রাজ বিহারী দাশ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক ও সমালোচনা।

রাজ বিহারী দাশ কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এক সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ ও লোকনাথ সেবাশ্রম পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

সোমবার সকালে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের ওই জনসভায় বক্তব্য রাখেন রাজ বিহারী দাশ। বক্তব্যে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে কক্সবাজারের সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, কক্সবাজার সদর আসনের পাশাপাশি জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরা বিজয় অর্জন করবেন। একই সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থীদের প্রতি সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন কামনা করেন।

জনসভায় তার এই উপস্থিতির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেন, রাজ বিহারী দাশ আগে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন এবং ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছেন।

বে ইনসাইট রাজ বিহারী দাশের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল করের সঙ্গে যোগাযোগ করে। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বলেন, “রাজ বিহারী আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতা নন। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি অংশ নিতেন এবং যোগাযোগ ছিল।”

কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের এক নেতা একটি কমিটির তালিকা বে ইনসাইটের কাছে পাঠিয়েছেন। তাতে কক্সবাজার পৌরসভা অধীন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটিতে রাজ বিহারীকে সদস্য হিসেবে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে রাজ বিহারী দাশ নিজে বলেন, “আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলাম না। আমি একজন জনপ্রতিনিধি—আপনি ডাকলেও যাবো।”

জামায়াতের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যোগ দিয়েছি নাকি দেবো, এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।”

এদিকে কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল জাহেদুল ইসলাম বলেন, “রাজ বিহারী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাদের দলের ডকুমেন্টেড কেউ নন, তবে আগে থেকেই তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল।”

তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকার দাবি নাকচ করে দেন রাজ বিহারী দাশ। তিনি বলেন, “আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বক্তব্য দিয়েছি। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে নয়। প্রতিনিধি হতে হলে বড় কোনো পদ লাগে, আমি সেটা নই।”

রাজ বিহারী দাশের এই অবস্থান ও জনসভায় বক্তব্য ঘিরে কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো আলোচনা চলছে।

পর্যবেক্ষণ শেষে অস্ত্রোপচার হতে পারে গুলিবিদ্ধ শিশুর

কক্সবাজার | ইনসাইট স্টোরি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে আসা গুলিতে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি শিশু হুজাইফা আফনানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিটি স্ক্যান রিপোর্ট পাওয়ার পর তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হবে।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ

রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছায় বলে জানান চমেক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার।
রাত ৯টার পর শিশুটির চাচা মৌলভী শওকত বে ইনসাইটকে বলেন, “চিকিৎসকরা শিশুটিকে আইসিইউতে নিয়েছেন। সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট পাওয়ার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।”

মৃত্যুর গুজব, পরে সংশোধন

রোববার সকালে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র প্রথমে জানান, মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত হয়েছে।

তবে দুপুরে এই তথ্য সঠিক নয় বলে বে ইনসাইটকে নিশ্চিত করেন হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল। তিনি বলেন, “শিশুটি মারা যায়নি।”

পরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস বে ইনসাইটকে বলেন, “শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রথমে মৃত্যুর কথা শোনা গেলেও তা সঠিক নয়। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বেঁচে আছে।”

কীভাবে গুলিবিদ্ধ হলো আফনান

১২ বছর বয়সী হুজাইফা আফনান টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিম উদ্দীনের মেয়ে। সে লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

শিশুটির দাদা আবুল হাসেম বলেন,“সকালে আফনান নাশতা আনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। ফেরার সময় উঠানে হঠাৎ একটি গুলি এসে তাকে আঘাত করে। সে সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়ে।”

পরে তাকে প্রথমে উখিয়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বেলা ১২টার পর সেখান থেকে কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয় তার পরিবারের সদস্যরা।

সীমান্তের ওপারে কী চলছিল

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তোতার দ্বীপ এলাকা, যেটি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিপরীতে। স্থানীয়রা জানায়, যেখানে শনিবার রাত প্রায় ১১টা থেকে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলে।

এই সময় টানা গুলিবর্ষণ, মর্টারশেল বিস্ফোরণ ও ড্রোন হামলার শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষ চলাকালে সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে আফনানকে আঘাত করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানান, “গুলিটি তার কানে লেগেছে।”

দ্বিমুখী আক্রমণে পড়ার দাবি সশস্ত্র গোষ্ঠীর

মিয়ানমারে থাকা একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একজন গ্রুপ কমান্ডার (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বে ইনসাইটকে রোববার দুপুরে ওয়াটসএপে বলেন, “আমরা দ্বিমুখী আক্রমণে পড়েছি। পরিস্থিতি খুবই খারাপ। একদিকে জান্তা অন্যদিকে আরাকান আর্মি”।

তিনি জানান, “ভোর থেকে যারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, তারা নবী হোসেন গ্রুপ ও আরএসওর সদস্য হতে পারেন।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের চাপে অনেক সদস্য ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছেন।

‘টিকতে না পেরে পালিয়ে এসেছি’ – সশস্ত্র সদস্যের স্বীকারোক্তি

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সাদেক নামের এক যুবক গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি নবী হোসেন গ্রুপের সদস্য।


তিনি বলেন,“আমরা আরাকান আর্মির সাথে টিকতে পারিনি। তাই পালিয়ে এসেছি।”


সাদেকের ভাষ্য, “আমাদের অনেক মানুষ ছিল। কে কোথায় গেছে ঠিক নাই। তোতার দ্বীপে আমাদের সাথে আরাকান আর্মির তুমুল যুদ্ধ হয়েছে।”

উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ও সড়ক অবরোধ

এদিকে রোববার সকালে বাংলাদেশী শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী উখিয়া–টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ছিল।
পরে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সীমান্তবাসীর আতঙ্ক

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা বলেন, “গত দুই–তিন দিন ধরে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তবে শনিবার রাত ১১টার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।”

রোববার রাত সাড়ে ৯টায় স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাকিল বলেন, “দুপুর ১২টার পর থেকে আর গুলির শব্দ পাওয়া যায়নি। এখন সীমান্ত শান্ত রয়েছে। তবে প্রায় প্রতিদিন রাত বাড়লেই গোলাগুলি শুরু হয়।”

অনুপ্রবেশ ও আটক

সংঘর্ষের মধ্যে নাফ নদী ও স্থলসীমান্ত পেরিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।
বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান,“সীমান্ত অতিক্রম করে আসার পর মোট ৫৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।”

রাতে টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “আটকদের থানায় আনা হয়েছে। যাচাই-বাছাই চলছে। তাদের কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। আইনী প্রক্রিয়া চলছে”।

নিরাপত্তা জোরদার, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে

উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, “সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও স্থলসীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”

সীমান্তে আপাতত গোলাগুলি বন্ধ থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি।

যে মামলার জটিলতায় বাতিল হলো আযাদের মনোনয়ন

কক্সবাজার | বে ইনসাইট 

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল  করা হয়েছে। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান যাচাই-বাছাই শেষে প্রথমে মনোনয়ন স্থগিত এবং কিছু সময় পর তা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান বলেন, “মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।”

তিনি জানান, বিস্তারিত কারণ মনোনয়ন বাতিলের সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকবে।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থী আযাদের পক্ষে উপস্থিত থাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আরিফ বলেন, যে মামলার কথা বলা হচ্ছে সেটি স্বৈরশাসক আমলের একটি মামলা।ওই মামলায় তিনি তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে উচ্চ আদালতে মামলাটি আপিলাধীন।

আইনজীবী মো. আরিফ বলেন, “এটি ছিল আদালত অবমাননার মামলা, কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ নয়। আমাদের বক্তব্য না শুনেই রিটার্নিং কর্মকর্তা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

উল্লেখ্য, হামিদুর রহমান আজাদ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিএনপি–জামাত জোট থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

হলফনামায় ৭০ মামলার তথ্য

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় হামিদুর রহমান আযাদ তার বিরুদ্ধে থাকা ৭০টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহারকৃত বা খালাসপ্রাপ্ত বলে জানান তিনি। কেবল একটি মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

আদালত অবমাননার মামলার পটভূমি

২০১৩ সালের ৯ জুন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বিচারাধীন বিষয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হামিদুর রহমান আযাদসহ জামায়াতের তিন নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করে।

ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মতিঝিলে একটি সমাবেশে বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সমাবেশে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন,

“স্কাইপে সংলাপের গোপন তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর এ ট্রাইব্যুনাল আর এক মুহূর্তও চলতে পারে না।”

এই মামলায় ট্রাইব্যুনাল তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই সপ্তাহের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।

পরে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য কক্সবাজারের সাবেক এই সংসদ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বৈধ প্রার্থীরা

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-২ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, ইসলামী আন্দোলনের জিয়াউল হক,

খেলাফত মজলিশের ওবাদুল কাদের নদভী, গণঅধিকার পরিষদের এস এম রোকনুজ্জামান খান এবং

জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল করিম।

আপিলের সুযোগ

নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে।

আইনে প্রার্থী অযোগ্যতার বিধান

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২-এর ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ন্যূনতম দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে কারামুক্তির পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

এ ছাড়া সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদেও একই ধরনের বিধান রয়েছে।

আরো যে ৯ কারণে একজন প্রার্থী অযোগ্য হতে পারেন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নিচের যে কোনো একটি শর্ত প্রযোজ্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—

১. উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করা হলে।
২. দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায় হতে অব্যাহতি লাভ না করলে।
৩. কোনো আদালত কর্তৃক ফেরারি (Fugitive) ঘোষিত হলে।
৪. কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে (দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ না করলে)।
৫. আইসিটি অ্যাক্টের সেকশন ২০সি অনুযায়ী অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল হলে।
৬. নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে।
৭. প্রজাতন্ত্রের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে।
৮. কৃষি কাজের জন্য গৃহীত ক্ষুদ্র কৃষিঋণ ব্যতীত অন্য কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত পরিশোধে ব্যর্থ হলে।
৯. ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা সরকারের সেবা প্রদানকারী কোনো সংস্থার বিল মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত পরিশোধ না করলে।