সীমান্তের মৃত্যুর ‘বিচার’ কে করবে?

ইনসাইট রিপোর্ট

হোসনে আরা বেগম সেদিন দুপুরে রান্না করছিলেন।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ছোট্ট বাড়িটিতে তখন অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক জীবন চলছিল। চুলায় হাঁড়ি বসানো ছিল। পরিবারের সদস্যরা যার যার কাজে ব্যস্ত।

হঠাৎ আকাশ কাঁপিয়ে একটি বিস্ফোরণ।

মিয়ানমারের ভেতরে চলমান সংঘর্ষ থেকে ছুটে আসা একটি মর্টারশেল এসে আঘাত করে তার রান্নাঘরে। ঘটনাস্থলেই মারা যান হোসনে আরা।

দুই বছর পেরিয়ে গেছে।

কিন্তু তার ছেলে মো. ইব্রাহিমের কাছে এখনো সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি মৃত্যুর নয়, বিচার নিয়ে।

“মা তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু মা হত্যার বিচারটাও কি হবে না?”

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের প্রায় ২৭১ কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে আছে এমন অসংখ্য প্রশ্ন।

কেউ মর্টারশেলের আঘাতে নিহত হয়েছেন। কেউ সীমান্ত পেরিয়ে আসা গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে পা হারিয়েছেন। কেউ পাহাড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন, আর ফিরে আসেননি।

প্রায় প্রতিটি ঘটনার পর প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন হয়েছে। কিছু পরিবার সামান্য আর্থিক সহায়তাও পেয়েছে।

কিন্তু এরপর?

মামলার অগ্রগতি নেই। দায় নির্ধারণ নেই। ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেই কোনো দৃশ্যমান বিচারিক প্রক্রিয়াও।

ফলে সীমান্তবাসীর কাছে মৃত্যু যেন একটি পরিচিত বাস্তবতা। আর বিচার, একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা।

রান্নাঘরে মর্টারশেল, মৃত্যু সনদে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’

২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঘুমধুম ইউনিয়নের একটি বাড়িতে রান্না করছিলেন হোসনে আরা বেগম।

সেদিন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছিল। সেই সংঘর্ষের মধ্যেই একটি মর্টারশেল বাংলাদেশের ভেতরে এসে পড়ে।

মর্টারশেলে নিহত হোসনে আরা বেগম

বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হোসনে আরা এবং এক রোহিঙ্গা শ্রমিক।

হাসপাতালের নথি ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিস্ফোরণজনিত আঘাতের কথা উল্লেখ থাকলেও পরে পরিবার দেখতে পায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে লেখা হয়েছে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’।

ছেলে মো. ইব্রাহিমের কাছে বিষয়টি এখনো বোধগম্য নয়।

“মিয়ানমার থেকে বোমা এসে মানুষ মারা গেলে সেটা কীভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়?”

তার প্রশ্ন শুধু নিজের মায়ের মৃত্যুকে ঘিরে নয়। এটি সীমান্তের বহু পরিবারের অভিজ্ঞতার প্রতিধ্বনি।

হোসনে আরার স্বামী বাদশা মিয়া মামলা করেছিলেন। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

পরিবারের ভাষ্য, একপর্যায়ে তাদের বলা হয়েছিল আসামি শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

এরপর আর কোনো খবর তারা পায়নি।

২৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই

হুজাইফার বয়স ছিল মাত্র ১২। বাড়ির উঠানে বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল সে। হঠাৎ সীমান্তের দিক থেকে আসা একটি গুলি তার শরীরে লাগে।

গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে চট্টগ্রাম, পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। ২৭ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মারা যায় শিশুটি।

গুলি আসার সময় উঠানের যেখানে মেয়ে খেলছিলো, তাই দেখাচ্ছিলো জসীম উদ্দিন। ছবি- শাহীন মোবারক।

বাবা জসীম উদ্দিন এখনো ছেলের ব্যবহৃত কিছু জিনিস সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

তিনি বলেন, “সে তো কোনো যুদ্ধ করতেছিল না। একটা শিশু ছিল। তারপরও গুলি এসে তার জীবন নিয়ে গেল।”

ঘটনার সময় আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরএসওর মধ্যে গোলাগুলি চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

পরিবার মামলা করেনি।

কারণ তারা জানে না, কার বিরুদ্ধে মামলা করবে।

“বিচার চাইব কার কাছে?”, প্রশ্ন করেন জসীম উদ্দিন।

সন্তানের মুখ দেখতে পারলোনা বাবা

২৪ মে। তুমব্রু সীমান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কলাবাগানে কাজ করতে গিয়েছিলেন কয়েকজন শ্রমিক।

হঠাৎ বিস্ফোরণ। ঘটনাস্থলেই নিহত হন শৈফুচিং তংচঙ্গ্যা, অক্যমং তংচঙ্গ্যা ও চিক্যং তংচঙ্গ্যা।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়াপাড়ার ফাত্রাঝিরি এলাকার বাসিন্দা তিনজনই নিজ নিজ পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ব্যক্তি।

শৈফুচিং মারা যাও্যার এক সপ্তাহ পর সন্তান জন্ম দেন স্ত্রী মাকিংচিং। ছবি- শাহীন মোবারক

শৈফুচিংয়ের স্ত্রী মাকিংচিংয়ের সন্তান জন্ম হয়েছে মাত্র সাত দিন আগে। সন্তানের মুখ দেখার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে স্বামীকে হারান তিনি।

“কলা বিক্রি করে টাকা আনার কথা ছিল। কিন্তু আর ফিরে আসল না।”

সরকারি সহায়তা হিসেবে পেয়েছেন মাত্র কয়েক হাজার টাকা।

তারপর আর কিছু নয়। না কোনো মামলা। না কোনো তদন্তের খবর। না কোনো ক্ষতিপূরণ।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অংসাই মারমা বলেন, “এটা ছিল খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। একজনকে বাঁচাতে গিয়ে আরও দুজন মারা গেললো। তিনটি পরিবার একসঙ্গে নিঃস্ব হয়ে গেছে ভাই।”

‘কথা বলে লাভ কী?’

একই ঘটনায় স্বামী অক্যমং তংচঙ্গ্যাকে হারিয়েছেন দুকমালা তংচঙ্গ্যা। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চান না।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, রাষ্ট্রের প্রতি তার ক্ষোভ এতটাই গভীর যে তিনি মনে করেন, কথা বলে কোনো লাভ নেই।

রাগে ক্ষোভে কথা বলেনা দুকমালা। ছবি- নুরুল হাসান।

দুকমালা তংচঙ্গ্যা দূর থেকে চিৎকার করে বলেন, “বিচার তো পাইনি। উল্টো এখন আমাদেরই দোষ দেওয়া হয়।”

এই নীরবতা সীমান্তবাসীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।

তারা দেখেছেন, মানুষ মারা যায়, আহত হয়, নিখোঁজ হয়; কিন্তু কোনো ঘটনার কোনো বিচারিক পরিণতি হয় না।

নিখোঁজ মানুষেরও খোঁজ নেই

ওয়ামং চাকমা প্রায় চার মাস ধরে নিখোঁজ।

ওয়ামং চাকমার স্ত্রী উসাসিং চাকমা জানান, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় বাঁশ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তারপর আর ফিরে আসেননি।

চার মাসেও ফিরে আসেনি উসাসিং চাকমার নিখোঁজ স্বামী ওয়ামং চাকমা। ছবি- শাহীন মোবারক

বেঁচে আছেন কি না, তাও জানে না পরিবার। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, পরিবার কোনো মামলা পর্যন্ত করেনি।

কারণ তাদের ধারণা, এতে কোনো ফল হবে না।

উসাসিং চাকমা বলেন, “পুলিশ ও বিজিবির সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা জানিয়েছে যে ওই এলাকায় যেতে পারবে না। ওয়ামং বর্তমানে বেঁচে আছেন কি না, তাও কোনো খবর নেই।”

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ হওয়া অন্তত দুটি ঘটনার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “সুমন তঞ্চঙ্গ্যা এবং ওয়াইমং চাকমা নামে দুইজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জিডি হয়েছে। এখনো কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। বিষয়গুলো তদন্তাধীন আছে।”

তবে তিনি স্বীকার করেন, সীমান্তের দুর্গম এলাকায় তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশের সক্ষমতা সীমিত।

“সীমান্ত এলাকায় আইনগতভাবে বিজিবি মূল দায়িত্ব পালন করে। কোনো ঘটনা ঘটলে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করতে হয়।”

নিজের দেশেই পা হারালেন হানিফ

টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা মো. হানিফ নিজের মাছের ঘেরে যাওয়ার পথে মাইন বিস্ফোরণে একটি পা হারান।

ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের ভেতরেই। নাফ নদীর পাড়ে নিজের ঘেরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি।

পা হারানো মো. হানিফ। ছবি- নুরুল হাসান

হঠাৎ বিস্ফোরণ। এক মুহূর্তে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় একটি পা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিজিবির কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা সহায়তা পেয়েছিলেন।

কিন্তু এরপর আর কোনো সহায়তা পাননি। এখন স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ছোট ভাইয়ের আয়ের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন।

হানিফ জানান, নাফ নদীর আগে যে ঘের বা প্রজেক্টগুলো আছে, সেখানে বাঁধ থেকে প্রায় ২০ ফুট ভেতরে এই বিস্ফোরণ ঘটে। তাঁর মতে, মাইনগুলো আরও ভেতর পর্যন্ত ছড়ানো থাকতে পারে।

বর্তমানে তিনি কর্মহীন অবস্থায় বাড়িতেই থাকেন। তাঁর পরিবারে স্ত্রী ও একটি সন্তান রয়েছে। তিনি তাঁর মা-বাবার থেকে আলাদা থাকেন এবং বর্তমানে তাঁর ছোট ভাইয়ের উপার্জনেই পুরো সংসার চলছে।

মো. হানিফ বলেন, “মামলা করব কার বিরুদ্ধে? পুলিশও তো আসে নাই।”

সীমান্তের ভেতরে কী ঘটছে?

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকায় অস্ত্রধারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর আনাগোনা রয়েছে।

কেউ রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর কথা বলেন। কেউ বলেন আরাকান আর্মির সদস্যদের কথা।

ছবি- নুরুল হাসান

আবার কেউ বলেন, কে কোন পক্ষের সেটা সাধারণ মানুষের বোঝার উপায় নেই।

ফলে পাহাড়ে কাজ করতে যাওয়া, গবাদিপশু চরানো কিংবা বাগানে যাওয়াও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়াপাড়ার ফাত্রাঝিরি এলাকার বাসিন্দা উলাসিং তংচঙ্গ্যা বলেন, “পাহাড়ে না গেলে আমাদের খাবার জোটে না। কিন্তু এখন গেলে মৃত্যুর ভয়।”

উলাসিং তংচঙ্গ্যার ভাষায়, এই এলাকার মানুষ পাহাড়ে কলা, পেঁপে, আদা, আম, কাঁঠাল এবং পানের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাহাড়ে না যেতে পারলে তাদের খাবার জোটে না। বর্তমানে সেখানে যেতে না পারার কারণে তারা চরম আর্থিক ও খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

বিজিবি কী বলছে?

৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খাইরুল আলম বলেন, সীমান্তে পাওয়া মাইনগুলোর উৎস নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা, মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী এবং আরাকান আর্মির সংঘর্ষের সময় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু মাইন পুঁতে রাখা বা ফেলে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, “বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাই না।”

বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

“বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে যেন স্পর্শ না করে দ্রুত বিজিবিকে জানায়।”

তিনি আরও বলেন, সীমান্তের অনেক পাহাড়ি এলাকায় শূন্যরেখা স্পষ্ট নয়।

ফলে স্থানীয়রা অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তারা বাংলাদেশের ভেতরে আছেন, নাকি সীমান্ত অতিক্রম করে অন্য পাশে চলে গেছেন।

বিচারহীনতার এই চক্র কেন?

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, সমস্যার মূল কারণ সীমান্তের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি।

ছবি- শাহীন মোবারক

“সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা চলছে। সেখানে আরাকান আর্মি আছে, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপদ রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

“কিন্তু বাস্তবে সীমান্তের মানুষরা এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছে। সবাই জানে কী ঘটছে, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে খুব কম আলোচনা হয়।”

তার মতে, সীমান্তের এসব মানুষ কার্যত বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রান্তিক নাগরিকদের মধ্যে পড়ে।

“শহরের মানুষ নিরাপদে থাকে। সীমান্তের মানুষদের ঝুঁকি নিয়েই বাঁচতে হয়।”

আলতাফ পারভেজ বলেন, এই সীমান্তের মানুষগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নয়। তারা ক্ষমতার রাজনীতির অংশ নয়। তাই তাদের মৃত্যু নির্বাচনী ইস্যু হয় না।

রাষ্ট্রের করণীয় কী?

মিয়ানমারের সাবেক কনস্যুলেট প্রধান ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।

কারণ অধিকাংশ ঘটনায় অভিযুক্ত কোনো রাষ্ট্র নয়, বরং রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠী।

“আরাকান আর্মির মতো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরাসরি বিচারিক ব্যবস্থা নিতে পারে না। কিন্তু সীমান্তে মাইন শনাক্তকরণ, মাইন অপসারণ এবং প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।”

তার মতে, বাংলাদেশের উচিত সীমান্তে আরও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা।

সীমান্তের মানুষ কি দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক?

হোসনে আরা। হুজাইফা। শৈফুচিং। অক্যমং। চিক্যং। ওয়ামং। হানিফ।

এগুলো কেবল কয়েকটি নাম।

কিন্তু এই নামগুলোর ভেতর লুকিয়ে আছে সীমান্তবাসীর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতা, ভয় এবং বিচারহীনতার ইতিহাস।

তারা যুদ্ধ করেনি। তারা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নয়। তারা কেবল নিজেদের ঘরে ছিল, জমিতে কাজ করছিল, মাছ ধরছিল, সন্তান লালন করছিল।

কিন্তু যুদ্ধের মূল্য দিতে হয়েছে তাদেরই।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি আব্দুল মন্নান বলেন, প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের ভেতরে একজন নাগরিক যদি মর্টারশেলে মারা যান, গুলিতে নিহত হন, মাইন বিস্ফোরণে পঙ্গু হন বা নিখোঁজ হয়ে যান- তবে সেই ঘটনার দায় কার?

“আর যদি দায় নির্ধারণই না হয়, তাহলে বিচার আসবে কোথা থেকে? এক কথায় রাষ্ট্রকেই তাঁর নাগরিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে।”

সীমান্তে মানুষ মরছে। কিন্তু তাদের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে যেন হারিয়ে যাচ্ছে ন্যায়বিচারের সম্ভাবনাও, এবং সেটিই হয়তো এই গল্পগুলোর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।

আব্দুল মন্নান প্রশ্ন তোলেন, “সীমান্তের মানুষ কি দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *