গ্রেফতারের সময় র‍্যাবের উপর হামলা: আটক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ১৭ মামলার আসামী

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

কক্সবাজারের টেকনাফে একটি ইফতার মাহফিল থেকে বহু মামলার এক পলাতক আসামিকে আটক করতে গিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় র‍্যাবের অন্তত ৯ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

বুধবার (১১ মার্চ) রাত আটটার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, র‍্যাব-১৫ এর টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, মানিলন্ডারিং, সরকারি কাজে বাধা ও মারামারিসহ মোট ১৭টি মামলার পলাতক আসামি মো. ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে ফরিদ (৪০)-কে গ্রেপ্তার করে।

ফরিদুল টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সিদ্দিক আহমদের ছেলে।

অভিযানের সময় কী ঘটেছিল

র‍্যাবের দাবি, অভিযানের সময় ফরিদুল আলমের নির্দেশে তার অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

আ. ম. ফারুক বলেন, “গ্রেপ্তারের সময় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর আক্রমণ করে। এতে ঘটনাস্থলে ৭ থেকে ৮ জন র‍্যাব সদস্য আহত হন।”

তিনি বলেন, হামলার সময় অভিযানে ব্যবহৃত র‍্যাবের একটি সরকারি মোটরসাইকেল এবং একটি অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেলসহ মোট দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদুল আলম নাজিরপাড়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের গডফাদার হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয় অপরাধী চক্রকে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন।

পুলিশের বক্তব্য

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

ওসি জানান, র‍্যাবের পক্ষ থেকে আটক ফরিদুলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরে তাকে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ফরিদুলের বিরুদ্ধে থাকা ১৭টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

স্থানীয়দের বর্ণনা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, বুধবার বিকেলে নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল চলছিল। সেখানে সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফরিদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইফতার মাহফিল চলাকালে র‍্যাব সদস্যরা এসে তাকে আটক করলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে কিছু লোক র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায় বলে জানান তারা।

পরিবারের দাবি

আটক ফরিদ আলমের বাবা সিদ্দিক আহমদ বলেন, ইফতার মাহফিল চলাকালে সাদাপোশাকে ১০–১৫ জন র‍্যাব সদস্য হঠাৎ এসে সভাস্থল ঘিরে ফেলেন।

তিনি বলেন, “এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। কিন্তু আমরা কোনো মোটরসাইকেলে আগুন দিইনি।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *