“৭৭ কেজি চাল দিয়ে কি ৫৮ দিন চলে?”
কক্সবাজারের উপকূলে দাঁড়িয়ে করুণ কণ্ঠে এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন জেলে আব্দুস সালাম। যে জেলেরা উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দেশের মানুষের পাতে আমিষ তুলে দেন,আজ সেই জেলেদের ঘরেই হিসাব মেলে না দু’বেলা খাবারের।
সমুদ্রই যাদের জীবন, সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল যাদের জীবিকা সেই জেলে পরিবারগুলোর ঘরে এখন নীরব উৎকণ্ঠা।
প্রায় দুইমাস পুরোপুরি আয় বন্ধ থাকায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন উপকূলের জেলেরা।এই দীর্ঘ সময়ে ৭৭ কেজি চাল যেন তাদের কাছে টিকে থাকার লড়াইয়ের খুবই অপ্রতুল এক সম্বল।
জেলে আব্দুস সালাম বলেন, “আমার পরিবারে ৫ জন মানুষ। ৭৭ কেজি চাল দিয়ে ২ মাস চলে না। আমরা কী খাবো?”
আরেক জেলে আক্ষেপ করে বলেন,”শুধু চাল দিয়ে তো আর সংসার চলে না।আমার সন্তানের স্কুলের ফি,বৃদ্ধ বাবার ঔষুধের খরচ কিছুই জোগাড় করতে পারছি।আমাদের টাকা দরকার,শুধু চাল না।”
মৎস্য সংরক্ষণ ও প্রজননের জন্য সরকার প্রতি বছরের মতো এবারও সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সময়ে সারা দেশের মতো কক্সবাজারেও জেলেদের জন্য দেওয়া হচ্ছে খাদ্য সহায়তা।
জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে ৬৪ হাজার ২৩ জন জেলে পাচ্ছেন চাল। বাকী ৪০৫ জন নদীতে মাছ ধরেন বলে তালিকার বাইরে রয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
তবে বাস্তবতায় রয়েছে ভিন্ন চিত্র।কয়েকজন জেলের অভিযোগ কার্ড থাকা সত্ত্বেও এবার তারা চাল পাচ্ছেন না।
জেলে মোতাহের বলেন,“আমার কার্ড আছে, আগে চাল পাইছি। কিন্তু এবার দেয় নাই।”
এ বিষয়ে চৌফলদন্ডী ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আয়ুব আলী বলেন,”গতবার কিছু জেলে চাল না পাওয়ায় সমস্যা হয়েছিল। তাই এবার পুরনো তালিকা এবং অনলাইন নিবন্ধন যাচাই করে প্রকৃত জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।”
গত ১৮ এপ্রিল থেকে চৌফলদন্ডীতে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী ২২ বা ২৩ এপ্রিলের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানিয়েছেন টেকনিক্যাল কর্মকর্তা ফরিদুল আলম।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন,এবার কক্সবাজারের জেলেরা আগের চেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছেন।
৫৮ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা হয়তো সাগরের জন্য আশীর্বাদ,কিন্তু উপকূলের হাজারো পরিবারের জন্য তা হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম।