কক্সবাজারে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হত্যা: গ্রেপ্তার ‘মূল ঘাতক’, মোটিভে এখনো ধোঁয়াশা

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

ছাত্রদল নেতা ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ খোরশেদ আলম হত্যাকাণ্ডে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে তাকে ‘মূল ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। ছিনতাই, পূর্বশত্রুতা, নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সবগুলো দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান।

নির্জন সৈকতে হামলা, শুরুতে ছিনতাইয়ের ইঙ্গিত

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের সমুদ্র সৈকতের কবিতা চত্বর বালুকাবেলায় খোরশেদ আলম তার বন্ধু তারিন সুলতানাকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও তারিনের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে কয়েকজন যুবক তাদের ঘিরে ধরে মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে। এতে ঘটনাটি ছিনতাইয়ের প্রচেষ্টা হিসেবে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

তারিনের দাবি, ‘আরিফ’ নামে এক ব্যক্তিকে হামলার অভিযোগ তুলে খোরশেদকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে তার পেট ও পায়ে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

রাতভর অভিযান, ভোরে গ্রেপ্তার

ঘটনার পরপরই পুলিশ ভিকটিমের সঙ্গী, প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের তথ্য নিয়ে অভিযান শুরু করে।
রাতভর অভিযানের এক পর্যায়ে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের সাত নাম্বার ওয়ার্ড থেকে তারেক নামে এক যুবককে একটি আত্মীয়ের বাসা থেকে ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনাস্থলের পরিবেশ পুনর্নির্মাণ করে এবং ভিকটিমের সঙ্গীর মাধ্যমে শনাক্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারেকই এই হত্যাকাণ্ডের মূল ঘাতক।

তিনি জানান, চেহারা, শারীরিক গঠন, কণ্ঠস্বর ও মোটরসাইকেলের সূত্র মিলিয়ে এই নিশ্চিতকরণ করা হয়েছে।

একাধিক জড়িত, নাম গোপন

তদন্তে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, কমপক্ষে দুইজন এই ঘটনায় জড়িত। তবে অন্যদের নাম তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

ঘটনার পর সামনে আসা অডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে ‘আরিফ’ নামটি উঠে এসেছে। এই নামটি এখন তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি নয় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী তারিন, সম্পৃক্ততা মেলেনি

ঘটনার সময় খোরশেদের সঙ্গে থাকা তারিন সুলতানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী।

হত্যার কারণ নির্ধারণে তিনটি সম্ভাব্য মোটিভ সামনে রেখে তদন্ত চলছে। এগুলো হলো ছিনতাই, পূর্বশত্রুতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তবে এখনো কোনো একটিকে চূড়ান্ত করা হয়নি।

নিরাপত্তাহীন স্পট হিসেবে কবিতা চত্বর
ঘটনাস্থল কবিতা চত্বর এলাকায় নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নে উঠে আসে, ওই এলাকার কিছু অংশে পর্যাপ্ত আলো নেই এবং রাতে নিরাপত্তা দুর্বল। পুলিশ সুপারও স্বীকার করেন, পর্যটকের চাপ বাড়লেও কিছু পয়েন্টে নিরাপত্তা ঘাটতি রয়েছে।

কিশোর গ্যাং ও সাম্প্রতিক অপরাধ নিয়ে প্রশ্ন

সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রক্রিয়ার ফল এবং এটি হঠাৎ তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের ‘ট্রানজিশনাল’ সময়ে অপরাধ কিছুটা বাড়তে পারে। তার ভাষায়, পুলিশ ক্রমাগত ব্যর্থ, এটি সঠিক নয়।

তদন্তে এখনো অমীমাংসিত প্রশ্ন

খোরশেদ আলম হত্যাকাণ্ডে একজনকে ‘মূল ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সুপার বলছে, এখনো অমীমাংসিত থেকে গেছে, এই হত্যাকাণ্ডটি তাৎক্ষণিক সহিংসতা, নাকি পূর্বপরিকল্পিত হামলা।

দুই শতকের কক্সবাজার: স্মৃতি, সমুদ্র আর পরিবর্তনের ক্যানভাসে এক শহরের আত্মকথা

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

দুইশ বছরের একটি শহরকে কীভাবে দেখা যায়? শুধু মানচিত্রে, নাকি স্মৃতিতে? নাকি একজন শিল্পীর ক্যানভাসে, যেখানে সময় স্তর হয়ে জমে থাকে?

শিল্পী ইয়াসির আরাফাত-এর “কক্সবাজার ডায়েরি” ঠিক সেই প্রশ্নগুলোর সামনে দাঁড় করায় আমাদের। এই শহরকে আমরা কতটা চিনি, আর কতটা শুধু ব্যবহার করি?

উপনিবেশ, বন্দর, আর এক শহরের জন্মকথা

আজকের পর্যটন নগরী কক্সবাজার-এর শেকড় খুঁজতে গেলে যেতে হয় প্রায় দুই শতাব্দী পেছনে। ব্রিটিশ আমলে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের নামানুসারে গড়ে ওঠা এই জনপদ ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে উপকূলীয় এক গুরুত্বপূর্ণ বসতি।

সমুদ্র, পাহাড়, নদী এই তিনের মিলনে গড়ে ওঠা ভূপ্রকৃতি শহরটিকে দিয়েছে এক অনন্য চরিত্র। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বাকখালী নদী শুধু ভৌগোলিক নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও শহরের একটি মেরুদণ্ড।

কিন্তু এই দুই শতকে শহরটি যেমন বেড়েছে, তেমনি হারিয়েছে অনেক কিছু।

যে শহর ছিল ধীর, আর যে শহর এখন দ্রুত

একসময় কক্সবাজার ছিল নিস্তব্ধ, ধীরগতির এক শহর। যেখানে বিকেলের হাওয়া, সমুদ্রের গর্জন আর পরিচিত মুখগুলোই ছিল জীবনের কেন্দ্র।

আজ সেটি দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর একটি।

এই রূপান্তরই ধরা পড়েছে শিল্পী ইয়াসিরের কাজে, একটি শহরের “আগে” এবং “এখন” -এর ভিজ্যুয়াল ডায়ালগ।

তার ভাষায়, “আমি যখন ফিরে আসি, দেখি আমার রেখে যাওয়া শহর আর এখনকার শহরের মধ্যে একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। সেই গ্যাপটাই আমি খুঁজতে চেয়েছি।”

আঁকার ভেতর দিয়ে দেখা: অবজারভেশন থেকে উপলব্ধি

ইয়াসিরের কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ধারণা, দেখা মানে শুধু দেখা নয়, বুঝে দেখা।

এই “দেখা” থেকেই জন্ম নেয় দায়বোধ।

একটা শহরকে চেনা কি শুধু সেখানে বসবাস করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? নাকি তাকে দেখতে শেখার জন্য দরকার অন্য এক চোখ। যে চোখ পর্যবেক্ষণ করে, প্রশ্ন তোলে, আর শেষ পর্যন্ত ক্যানভাসে তার উত্তর খোঁজে?

শিল্পী ইয়াসির আরাফাত-এর কাছে কক্সবাজারকে নতুন করে দেখার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল বহুদিন পর শহরে ফিরে এসে। প্রায় ২০২০-২১ সালের দিকে ফিরে এসে তিনি আবিষ্কার করেন, তার ফেলে যাওয়া কক্সবাজার আর বর্তমান কক্সবাজারের মধ্যে তৈরি হয়েছে অদৃশ্য এক দূরত্ব। সেই দূরত্বের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সংযোগ, আবার বিচ্ছেদও।

এই খোঁজ থেকেই জন্ম নেয় “কক্সবাজার সিরিজ”।

স্মৃতির জায়গায় ফিরে যাওয়া, নতুন চোখে দেখা

ছোটবেলার পরিচিত জায়গাগুলো, যেখানে বসে আড্ডা, যেখানে কাটত বিকেল, যেখানে জমে থাকত জীবনের সহজতম মুহূর্তগুলো, সেই জায়গাগুলোতেই আবার ফিরে যেতে শুরু করেন ইয়াসির। তবে এবার তিনি দর্শক নন, একজন পর্যবেক্ষক।

প্রতিদিন প্রায় একটি করে ছবি আঁকতেন তিনি। তার ভাষায়, “ছবি আঁকা আমাদের দেখতে শেখায়।”

এই “দেখা” শুধু চোখে দেখা নয়, এটা উপলব্ধির বিষয়। যেমন, একটি ডাস্টবিন প্রতিদিন চোখে পড়ে, কিন্তু যখন সেটিকে আঁকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তখন তার রং, গঠন, তার চারপাশের নোংরা। সবকিছুই নতুন করে ধরা পড়ে। আর তখনই প্রশ্ন জাগে, কেন এটা এমন? কীভাবে এটি বদলানো যায়?

বাঁকখালির জল, স্মৃতির রঙ

শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বাকখালী নদী-ও তার ছবিতে ফিরে এসেছে বারবার।

শৈশবের স্মৃতিতে যে নদীর পানি ছিল সবুজাভ, আজ তা অনেক সময় মলিন, কালচে। এই পরিবর্তন শুধু দৃশ্যমান নয়, এটি এক ধরনের মানসিক ধাক্কাও।

“আমি যখন আঁকতে বসি, তখন আমার সামনে অপশন থাক, আমি কি বর্তমান রং আঁকবো, নাকি সেই সম্ভাব্য রং, যা নদীটি পেতে পারত?” বলছিলেন ইয়াসির।

এই প্রশ্নই আসলে তার কাজের কেন্দ্রবিন্দু বাস্তবতা বনাম সম্ভাবনা।

হারিয়ে যাওয়া স্থাপনা, ফিরে আসা স্মৃতি

এই সিরিজে উঠে এসেছে কক্সবাজারের হারিয়ে যাওয়া বা পরিবর্তিত অনেক স্থাপনা। যেমন, একসময় শহরের বিনোদনের কেন্দ্র ছিল টকি হাউজ সিনেমা হল। আজ সেটি নেই, কিন্তু তার স্মৃতি এখনো জীবন্ত অনেকের কাছে।

একজন দর্শনার্থী প্রদর্শনীতে এসে সেই ছবি দেখে বলে উঠেন, “এই জায়গাটায় তো আমাদের শৈশব লুকিয়ে আছে!”

একইভাবে, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-এর পুরনো ফটক, যা সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়েছে, তার ছবিও দর্শকদের মনে তুলেছে তুলনামূলক প্রশ্ন: নতুনের সঙ্গে পুরনোর সহাবস্থান কি সম্ভব ছিল না?

আরও আছে সাচি চৌধুরী মসজিদ, যা শহরের প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। এইসব স্থাপনা শুধু স্থাপত্য নয়, এগুলো শহরের স্মৃতি ও পরিচয়ের অংশ।

২০০ ছবির ভেতর ৬০-এর প্রদর্শনী

ইয়াসিরের আঁকা ছবির সংখ্যা এখন ১৫০ থেকে ২০০-এর মধ্যে। এর মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া প্রায় ৬০টি ছবি নিয়ে শুরু হয়েছে একটি উন্মুক্ত প্রদর্শনী ২৩ মার্চ থেকে।

এই প্রদর্শনীর বিশেষত্ব হলো, এটি কোনো গ্যালারির ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। রাস্তার পাশে, উন্মুক্ত স্থানে যেখানে একজন পথচারী হঠাৎ করেই থেমে যেতে পারেন, নিজের শহরকে নতুন করে দেখতে পারেন।

শহরকে আঁকার আহ্বান

এই প্রদর্শনীর মূল বার্তা খুবই সরল, কিন্তু গভীর।

“আপনি আপনার শহরকে আঁকুন, তাহলেই আপনি আপনার শহরকে চিনবেন।”

ইয়াসির মনে করেন, পৃথিবীর বড় শহরগুলো নিজেদের এতবার এঁকেছে যে তারা নিজেদের খুব ভালো করেই চেনে। আর তাদের শক্তি হলো দুর্বলতা, বিবর্তনের ধারা।

কক্সবাজারের ক্ষেত্রেও তিনি একই স্বপ্ন দেখেন। যে শহরের শিশু, তরুণরা যদি আঁকার মাধ্যমে শহরকে দেখতে শেখে, তাহলে তারা ভবিষ্যতে এই শহরকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে।

চলমান একটি যাত্রা

“কক্সবাজার ডায়েরি” কোনো এককালীন প্রদর্শনী নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামীতে কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি দেশের অন্যান্য শহরেও এই প্রদর্শনী নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্পীর ভাষায়, “এটা শুধু ছবি না, এটা একটা ভাবনার যাত্রা, যেখানে আমরা আমাদের শহরকে নতুন করে দেখতে শিখি।”

এই শহরকে প্রতিদিন আমরা দেখি, ব্যবহার করি, অতিক্রম করি। কিন্তু কয়জন তাকে সত্যিই দেখি?

সম্ভবত, সেই দেখার শুরুটা হতে পারে একটি আঁকা ছবি দিয়েই।

কক্সবাজারে নিভে গেছে রূপালী পর্দার আলো

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

এক সময়ের প্রাণচঞ্চল বিনোদন, এখন শূন্যতা

ঈদ কিংবা বিশেষ ছুটির দিনে বন্ধু-পরিবার নিয়ে দল বেঁধে সিনেমা হলে যাওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তা এখন কক্সবাজারে প্রায় বিলুপ্ত। দেশের একমাত্র পর্যটন নগরীতে বর্তমানে কোনো চালু সিনেমা হল নেই, যা একসময় স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও বিনোদনের বড় কেন্দ্র ছিল।

এক দশক আগেও শহরে টকি হাউস, দিগন্ত সিনেমা হল এবং বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) অডিটোরিয়াম, এই তিনটি প্রেক্ষাগৃহ সচল ছিল। এখন সবগুলোই বন্ধ।

তিন হলের উত্থান-পতনের গল্প

১৯৬৮ সালে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে প্রতিষ্ঠিত টকি হাউস ছিল কক্সবাজারের প্রথম সিনেমা হল। দীর্ঘদিন জমজমাট চলার পর ২০০০ সালের দিকে দর্শক কমে গেলে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি বাজারঘাটার নিউ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় চালু হয় দিগন্ত সিনেমা হল। একই সময়ে, ১৯৯৬ সালে নির্মিত হয় বিডিআর অডিটোরিয়াম, যা পরে বিজিবির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১০ সাল পর্যন্ত এই তিনটি হলেই ভালো ব্যবসা ছিল। প্রতি শুক্রবার নতুন সিনেমা মুক্তি পেত, মাইকিং হতো শহরজুড়ে, আর দর্শকদের ভিড় থাকত চোখে পড়ার মতো।

করোনার পর শেষ প্রহর

করোনা মহামারির পর থেকে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বিজিবি অডিটোরিয়ামও, যেটি শেষ চালু থাকা প্রেক্ষাগৃহ ছিল। আলীর জাহাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে।

হলের পাশের এক দোকানদার বাবু বলেন, “একসময় এই হলে হাউজফুল দর্শক থাকত। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত সিনেমা দেখতে। এখন সব বন্ধ হয়ে গেছে।”

হল হারানোর পেছনের কারণ কী

স্থানীয়দের মতে, সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে।

সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মানসম্মত চলচ্চিত্রের অভাব। ২০০০ সালের পর থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যবসার ধস নামে। গল্প, নির্মাণশৈলী এবং অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক উপাদান দর্শককে বিমুখ করে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির প্রভাব। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় এখন ঘরে বসেই নতুন সিনেমা দেখা যায়। ফলে প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার আগ্রহ কমে গেছে।

পাশের অঞ্চলও একই পথে

শুধু কক্সবাজার শহর নয়, আশপাশের এলাকাতেও একই চিত্র। নাইক্ষ্যংছড়িতে ৯০-এর দশকে চালু হওয়া ‘পাহাড়ীকা’ সিনেমা হলও দর্শক সংকটে বন্ধ হয়ে যায়।

স্মৃতিতে রয়ে গেছে ‘হাউজফুল’ দিনগুলো

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল করিম বলেন, “একসময় এই হলে টিকিট পাওয়া কঠিন ছিল। এক শো শেষ হওয়ার আগেই পরের শোর টিকিট শেষ হয়ে যেত। এখন মনে হয় সবকিছুই স্বপ্ন।”

পর্যটন ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের মতে, “ভালো মানের, পরিবার নিয়ে দেখার মতো সিনেমা তৈরি হলে দর্শক আবার হলে ফিরবে। উন্নত নির্মাণ আর বড় বাজেটের কাজই দর্শক ধরে রাখতে পারে।”

ফিরে আসবে কি প্রেক্ষাগৃহ সংস্কৃতি?

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ, এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটাতে পারলে কক্সবাজারে আবারও সিনেমা হল সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তবে সে জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। সরকার, প্রযোজক ও হল মালিকদের একসঙ্গে এগিয়ে আসা। ততদিন পর্যন্ত কক্সবাজারের রূপালী পর্দা থাকবে স্মৃতির ভেতরেই।

‘বলির পাঠা’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা !

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টসহ বিভিন্ন পয়েন্টের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা পাঁচ শতাধিক দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের আল্টিমেটামের মুখে রোববার ও সোমবার ব্যবসায়ীরাই নিজেদের দোকান ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রায় দুই দশক পর সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়ি ‘দখলমুক্ত’ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই অভিযানের মধ্যে তারাই হয়ে পড়েছেন ‘বলির পাঠা’।

কারণ, যেসব স্থাপনাকে এখন প্রশাসন ‘অবৈধ দখল’ বলছে, সেসব জায়গায় ব্যবসা করার জন্যই বছরের পর বছর ধরে জেলা প্রশাসন তাদের কাছ থেকে রাজস্ব নিয়ে ব্যবসার কার্ড দিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

রাজস্বের বিনিময়ে কার্ড

বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এমন শতাধিক কার্ডের কপি সংগ্রহ করেছে বে ইনসাইট, যেখানে বছরে প্রায় ৬০ হাজার টাকা রাজস্বের বিনিময়ে ব্যবসা করার অনুমতির উল্লেখ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, এই কার্ডের ভিত্তিতেই তারা সুগন্ধা পয়েন্টসহ সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় ঝিনুক, শোপিস ও পর্যটক সামগ্রী বিক্রি করে আসছিলেন।

সুগন্ধা পয়েন্ট ঝিনুক ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. জয়নাল বলেন, “যদি অবৈধ হয়, তাহলে জেলা প্রশাসন আমাদের কার্ড দিল কেন? তারা রাজস্ব নিয়ে কার্ড দিয়েছে বলেই এখানে দোকান বসেছে।”

প্রশাসনের বক্তব্য: ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা, স্থাপনা নয়

তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, এসব কার্ড স্থায়ী দোকানের জন্য দেওয়া হয়নি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, “বালিয়াড়িতে কোনো স্থায়ী দোকানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কার্ড দেওয়া হয়েছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার জন্য। তাই বালিয়াড়িতে স্থাপনা সরাতে অভিযান চলবে।”

তবে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, যদি ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাই হয়, তাহলে শত শত কার্ড ইস্যু করা হলো কেন এবং বছরের পর বছর ধরে সেসব ব্যবসা চলতে দেওয়া হলো কেন।

জয়নালের ভাষায়, “যদি ভ্রাম্যমাণ হয়, তাহলে এত কার্ড দিল কেন? ব্যবসায়ীরা তো এখানে শৃঙ্খলার মধ্যেই ব্যবসা করছিল।”

দুই দিনের আল্টিমেটাম

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুগন্ধাসহ বিভিন্ন পয়েন্টের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো সরাতে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।

নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর রোববার ও সোমবার দুপুরের দিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং মাইকিং করে দোকান সরানোর নির্দেশ দেন।

এরপর ব্যবসায়ীরা নিজেরাই দোকান ভেঙে মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন। বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ট্যুরিজম সেল) মঞ্জু বিন আফনান বলেন,
“ব্যবসায়ীরা নিজেরাই দোকান সরিয়ে নিয়েছেন। তাদের অনুরোধে নির্ধারিত সময়ের পরও কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি বলেন, সৈকত এলাকা ধাপে ধাপে পুরোপুরি দখলমুক্ত করে সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা চাইলে তাদের দাবি বা অভিযোগ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে পারেন, তা বিবেচনা করা হবে।

ঈদের আগে সংকটে ব্যবসায়ীরা

উচ্ছেদের সময় নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ঋণ নিয়ে দোকানে বিনিয়োগ করেছিলেন তারা।

ঝিনুক বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঈদের ব্যবসার আশায় অনেকে ঋণ নিয়ে দোকানে বিনিয়োগ করেছিলেন। হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে।”

ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, “রমজান মাস, সামনে ঈদ। কিন্তু এখন দোকান সরাতে হচ্ছে। গত এক মাস দোকান প্রায় বন্ধ ছিল। বাচ্চাদের ঈদের কাপড় পর্যন্ত কিনতে পারিনি।”

দুই দশকের ব্যবসা, বারবার উচ্ছেদ

ঝিনুক ব্যবসায়ী আবুল হোসেন প্রায় ২২ বছর ধরে সৈকতে ব্যবসা করছেন।

তার ভাষায়, “প্রতিবছরই উচ্ছেদ করে, আবার বসতে দেয়। ভ্যান উপরে তুলি, আবার নামাই। এতে বোঝানো হয় এটা ভ্রাম্যমাণ। কিন্তু এবার একেবারে রুটিরুজি বন্ধ করে দেওয়া হলো।”

তিনি বলেন, “চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মেয়াদের কার্ড দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তাহলে আমরা অবৈধ হলাম কীভাবে?”

ঋণের বোঝা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ব্যবসায়ী মো. ফরিদুল আলম বলেন, “লোন করে দোকান দিয়েছি। এখন ঋণ শোধ করবো কীভাবে? জেলা প্রশাসন যে ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব নিয়েছিল, সেটার কী হবে?”

আরেক ব্যবসায়ী মো. রাশেদ বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে দুই-তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা সাজিয়েছি। উচ্ছেদ করতে হলে আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।”

কার্ড বেচাকেনার অভিযোগ

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কার্ডের প্রকৃত মালিক অন্য জেলার হলেও স্থানীয়রা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সেই কার্ড নিয়ে ব্যবসা করছেন।

ব্যবসায়ী আব্বাস বলেন, “আমি যার কার্ডে ব্যবসা করি, সে নেত্রকোনার। রোজার আগে তিন লাখ টাকা দিয়ে কার্ডটা নিয়েছি।”

তার দাবি, এভাবে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কার্ড কেনাবেচা সৈকতে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক বাজার তৈরি করেছে।

তিন দিনে ৬৩০ স্থাপনা অপসারণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত তিন দিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রায় ৬৩০টি স্থাপনা অপসারণ করেছে জেলা প্রশাসন।

তবে সৈকতকে ‘দখলমুক্ত’ করার এই অভিযানের মধ্যেই সামনে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, রাজস্ব নিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা করতে দেওয়ার পর হঠাৎ সেই ব্যবসাকেই অবৈধ ঘোষণা করার দায় নেবে কে?

আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই সৈকতের ধুলোর মধ্যে পড়ে আছে শত শত ভাঙা দোকান আর অনিশ্চয়তায় ডুবে গেছে সেসব দোকানের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন।

গ্রেফতারের সময় র‍্যাবের উপর হামলা: আটক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ১৭ মামলার আসামী

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

কক্সবাজারের টেকনাফে একটি ইফতার মাহফিল থেকে বহু মামলার এক পলাতক আসামিকে আটক করতে গিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় র‍্যাবের অন্তত ৯ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

বুধবার (১১ মার্চ) রাত আটটার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, র‍্যাব-১৫ এর টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, মানিলন্ডারিং, সরকারি কাজে বাধা ও মারামারিসহ মোট ১৭টি মামলার পলাতক আসামি মো. ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে ফরিদ (৪০)-কে গ্রেপ্তার করে।

ফরিদুল টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সিদ্দিক আহমদের ছেলে।

অভিযানের সময় কী ঘটেছিল

র‍্যাবের দাবি, অভিযানের সময় ফরিদুল আলমের নির্দেশে তার অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

আ. ম. ফারুক বলেন, “গ্রেপ্তারের সময় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর আক্রমণ করে। এতে ঘটনাস্থলে ৭ থেকে ৮ জন র‍্যাব সদস্য আহত হন।”

তিনি বলেন, হামলার সময় অভিযানে ব্যবহৃত র‍্যাবের একটি সরকারি মোটরসাইকেল এবং একটি অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেলসহ মোট দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদুল আলম নাজিরপাড়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের গডফাদার হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয় অপরাধী চক্রকে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন।

পুলিশের বক্তব্য

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

ওসি জানান, র‍্যাবের পক্ষ থেকে আটক ফরিদুলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরে তাকে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ফরিদুলের বিরুদ্ধে থাকা ১৭টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

স্থানীয়দের বর্ণনা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, বুধবার বিকেলে নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল চলছিল। সেখানে সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফরিদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইফতার মাহফিল চলাকালে র‍্যাব সদস্যরা এসে তাকে আটক করলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে কিছু লোক র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায় বলে জানান তারা।

পরিবারের দাবি

আটক ফরিদ আলমের বাবা সিদ্দিক আহমদ বলেন, ইফতার মাহফিল চলাকালে সাদাপোশাকে ১০–১৫ জন র‍্যাব সদস্য হঠাৎ এসে সভাস্থল ঘিরে ফেলেন।

তিনি বলেন, “এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। কিন্তু আমরা কোনো মোটরসাইকেলে আগুন দিইনি।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও নেই।”

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের লিফট দুর্ঘটনা: ত্রুটি নিয়ে বিপরীত দাবি, তদন্ত কমিটি গঠন

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে লিফটের নিচে চার দিন নিখোঁজ থাকা এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় লিফটের ত্রুটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গণপূর্ত বিভাগ বলছে লিফটে আপাতত কোনো বড় ত্রুটি পাওয়া যায়নি, তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি—ত্রুটি জানিয়ে তিন বছর ধরে গণপূর্তকে একাধিক চিঠি দেয় হয়েছে ।

নিহত কোহিনূর আক্তার (৩২) উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা মেয়েকে দেখাশোনা করতে গিয়ে গত বুধবার দুপুরে নিখোঁজ হন। পরে শনিবার সকালে হাসপাতালের একটি লিফটের নিচে তার আংশিক পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কোহিনূর চতুর্থ তলায় লিফটের সামনে এসে দুই হাতে দরজা খুলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এরপর তাকে আর কোনো তলায় নামতে দেখা যায়নি।

লিফটে ত্রুটি ছিল কি না

কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার তারা হাসপাতালের লিফটটি পরিদর্শন করেছেন।

“আজ আমরা লিফটটি পরিদর্শন করেছি। আপাতত তেমন কোনো বড় ত্রুটি চোখে পড়েনি। ২১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে লিফটটি পরীক্ষা করা হয়েছিল,” বলেন অভিজিৎ চৌধুরী।

তিনি জানান, আরও দুই দিন লিফটটি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর সেটি আবার চালু করা হতে পারে।
লিফটের দরজা হাতে টান দিলে খুলে যাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো অভিযোগ দেয়নি।”

কিন্তু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (প্রশাসন) ডা. শান্তনু ঘোষ বলেন, ২০২৩ সাল থেকেই লিফটের নানান ত্রুটি নিয়ে একাধিক চিঠি দেয়া হয় গণপূর্ত বিভাগের কাছে। এমনকি লিফট পরিবর্তনের চিঠিও দেয়া হয়। কিন্তু এবিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ত্রুটি না থাকলে এমন দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল—এ প্রশ্নে নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী বলেন,

“সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী দেখা গেছে, লিফটের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগেই তিনি হাত দিয়ে ফেলেছিলেন। সে কারণে দরজাটি আবার খুলে গেছে।”

বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন

এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েকজন যন্ত্র প্রকৌশলী বলছেন, আধুনিক লিফটে সাধারণত ইন্টারলক সিস্টেম থাকে, যার ফলে লিফটের কেবিন নির্দিষ্ট তলায় না থাকলে দরজা খোলার কথা নয়।

যন্ত্র প্রকৌশলী হাসিনুর রেজা চঞ্চল বলেন, “যদি লিফট অন্য তলায় থাকে, তাহলে নিচের তলায় এত সহজে দরজা খোলা সম্ভব হওয়ার কথা নয়। দরজা খুলে সরাসরি শ্যাফটে পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে সেটি লিফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।”

তিনি বলেন, লিফটের সেন্সর, ডোর লক ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

ধর্ষণের অভিযোগে মিলেনি আলামত

ঘটনার পর নিহতের স্বজনদের কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে কোহিনূরের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুললেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ও চিকিৎসকরা।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শান্তনু ঘোষ বলেন, “এ ধরনের কোনো আলামত আমরা পাইনি।”

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছমি উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিনই একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। সুরতহাল কিংবা মরদেহ উদ্ধারের সময় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্তে থাকা একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বে ইনসাইটকে বলেন, তারাও প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো লক্ষণ পাননি। মৃত্যুর কারণ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে।

তদন্তে কমিটি

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং নিও বলেন, “সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।”

তিনি জানান, কমিটির প্রধান করা হয়েছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আলী হোসেনকে।

কমিটির সদস্য ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. ইয়াসির আরাফাত বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

জেলার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র

কক্সবাজারের প্রায় ২৭ লাখ মানুষের জন্য জেলা সদর হাসপাতালটি অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সামান্য ত্রুটিও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে লিফটের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

কক্সবাজার কমিউনিটি এলায়েন্স এর মূখ্য সমন্বয়ক মোহিব্বুল মোক্তাদির এর মতে, কোহিনূর আক্তারের মৃত্যুর ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা হিসেবে না দেখে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

‘সব ঘটনাকে মব বলবেন না’- কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; হাদি হত্যার আসামি ফেরাতে উদ্যোগ

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

‘হাদি হত্যা’ মামলার ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে দেখার প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, সব ঘটনাকে মব বলা ঠিক নয়; অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো বিচ্ছিন্ন অপরাধ।

সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

হাদি হত্যার আসামি ফেরাতে উদ্যোগ

‘হাদি হত্যা’ মামলার দুই আসামি ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি

‘সবকিছু মব নয়’

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ‘মব’ সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ঘটনাকে মব হিসেবে ব্যাখ্যা করা সঠিক নয়।

তার ভাষায়, “কিছু ঘটনা বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে ঘটে। কাউকে আটক করে নির্যাতন করা হলে সেটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধ—এর আলাদা সংজ্ঞা ও আইনি কাঠামো রয়েছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, রাস্তায় সংগঠিত কোনো গণউত্তেজনা বা প্রকৃত মব পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। “বাংলাদেশে মব কালচার থাকা উচিত নয়,” বলেন তিনি।

মাদককারবারিদের প্রকাশ্য তালিকা নয়

মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রকাশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণা করার পরিকল্পনা নেই।

“প্রকাশ্য তালিকা করলে অনেক সময় তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয় বা বিভিন্নভাবে বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আমরা পেশাদারভাবে এই তালিকা তৈরি করব এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

কক্সবাজার আমাদের দেশের গর্ব। এটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে হবে। সৈকতে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সেগুলো জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হবে।

এ জন্য নতুন করে একটি বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

শহরে বসবে সিসিটিভি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের অংশ হিসেবে কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

মন্ত্রী বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদক ব্যবসা, প্রচার ও বাণিজ্য—সবকিছু বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন

কক্সবাজারের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরে নতুন করে অযান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে লাইসেন্স দেওয়া হবে না এবং একটি লাইসেন্সের অধীনে একাধিক যানবাহন চলতে না পারে সে বিষয়েও নজর দেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বা অচল যানবাহন বাদ পড়ে গেলে সেই সংখ্যা নতুন করে পূরণ করা হবে না, ফলে ধীরে ধীরে মোট যানবাহনের সংখ্যা কমে আসবে বলে জানান তিনি।

সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার

দেশজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা কোনো অপরাধীকে আইনের বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

সভায় কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পর্যটন এলাকার ব্যবস্থাপনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় কক্সবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার ২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান সহ বিভিন্ন বাহিনী ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার হাসপাতালের লিফট দুর্ঘটনা: ‘মারাত্মক ত্রুটি’ বলছেন যন্ত্র প্রকৌশলীরা

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে লিফটের নিচে চার দিন নিখোঁজ থাকা এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সামনে এসেছে লিফটের সম্ভাব্য মারাত্মক ত্রুটির প্রশ্ন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েকজন যন্ত্র প্রকৌশলী বলছেন, লিফটের দরজা যেভাবে খোলা হয়েছে, তা স্বাভাবিক কোনো নিরাপদ লিফটে হওয়ার কথা নয়।

নিহত কোহিনূর আক্তারের ঘটনায় পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ বে ইনসাইট কয়েকজন যন্ত্র প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়ে মতামত নেয়। তারা জানান, ফুটেজে দেখা যায়, নারীটি চতুর্থ তলায় এসে লিফটের দরজা জোর করে খুলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং পরে লিফট শ্যাফটে পড়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যন্ত্র প্রকৌশলীদের মতে, আধুনিক লিফটে সাধারণত ইন্টারলক সিস্টেম থাকে। অর্থাৎ লিফটের কেবিন নির্দিষ্ট তলায় উপস্থিত না থাকলে দরজা খোলার কথা নয়। একইভাবে দরজা খোলা থাকলে লিফট চলতে পারে না। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাই লিফট দুর্ঘটনা প্রতিরোধের মূল ভিত্তি।

যন্ত্র প্রকৌশলী হাসিনুর রেজা চঞ্চল বলেন, “যদি লিফট পঞ্চম তলায় থাকে, তাহলে চতুর্থ তলায় দাঁড়িয়ে এত সহজে দরজা খোলা সম্ভব হওয়ার কথা নয়। দরজা খুলতে গেলে সাধারণত শক্ত ইন্টারলক বাধা দেয়। যদি জোর প্রয়োগে দরজা খুলে যায় এবং নিচে শ্যাফট খোলা থাকে, তাহলে সেটি লিফটের মারাত্মক ত্রুটির ইঙ্গিত।”

এ ধরনের লিফটে সেন্সর, ডোর লক ও একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কথা। কিন্তু দরজা খুলে সরাসরি শ্যাফটে পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে সেটি বোঝায় যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো হয় কাজ করছিল না, নয়তো লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

প্রকৌশলী সুষ্ময় বড়ুয়া জানান, কোনো ব্যক্তি জোর প্রয়োগ করলে কখনও কখনও দরজা আংশিক খুলে যেতে পারে। কিন্তু তখনও লিফটের কেবিন সেই তলায় না থাকলে সেটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে।
তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়াই বোঝায় লিফটটি নিরাপদ ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

তারা বলেন, হাসপাতাল, শপিং মল বা জনসমাগমস্থলের ভবনে ব্যবহৃত লিফটের নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। অন্যথায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।

এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুবক্তাগিন মাহমুদ সোহেল জানান, হাসপাতালের লিফটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, “লিফটটি আমরা মাসে একবার পরিদর্শন করি।”

লিফটের সম্ভাব্য ত্রুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেক সময় দরজা খোলা যায়। তবে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। আগামীকাল আমাদের একটি টিম সরেজমিনে গিয়ে লিফটটি পরীক্ষা করবে।”

এদিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও স্বজন অভিযোগ করেছেন, লিফটের সেন্সর ঠিকমতো কাজ না করার বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল। তাদের দাবি, অনেক সময় দরজা ঠিকমতো খোলে না বা দরজা খুললেও লিফট সেই তলায় থাকে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সিসিটিভিতে দেখা ঘটনাটি সত্যিই প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল হয়, তাহলে এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয় বরং জননিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতার ইঙ্গিতও হতে পারে।

এ কারণে লিফটের ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের মান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

কী বলছে পুলিশ
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বলেন, “নারীটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তিন দিন আগে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তার সন্ধানে অনুসন্ধান শুরু করি এবং তথ্য সংগ্রহ করছিলাম।”

তিনি বলেন, “শনিবার খবর পাই হাসপাতালের লিফটের নিচে একটি মরদেহ পড়ে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে।”

ওসি জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ঘটনার দিন কোহিনূর লিফটে করে চতুর্থ তলায় যান এবং পরে আবার ফিরে এসে লিফটের দরজা জোর করে খোলার চেষ্টা করেন। এরপর লিফটে ওঠার সময় তার পা পিছলে গিয়ে শ্যাফটে পড়ে যেতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

“তবে এটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে,” বলেন তিনি।

কী বলছে পরিবার
নিহতের ভাশুরের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “চার দিন ধরে আমরা বিভিন্ন জায়গায় কোহিনূরকে খুঁজেছি। পুলিশ এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)কেও বিষয়টি জানিয়েছি।”

তিনি বলেন, “আজ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বুঝতে পারি, নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি চতুর্থ তলায় লিফটে ঢুকেছিলেন। এরপর তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি।”

মামুন বলেন, “এটি সত্যিই লিফট দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে সেটি সঠিকভাবে তদন্ত করে বের করা উচিত।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুবক্তাগিন মাহমুদ সোহেল বলেন, নিখোঁজের অভিযোগ পুলিশের কাছে যাওয়ার পর শনিবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে।

তিনি বলেন, “বুধবারের ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর প্রায় ১টার দিকে তিনি চতুর্থ তলায় লিফট থেকে বের হয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি আবার ফিরে এসে দুই হাত দিয়ে দরজা জোর করে খুলে ফেলেন এবং পেছন দিকে ঘুরে লিফটে ঢোকেন। এরপর তাকে আর কোনো তলায় নামতে দেখা যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “পরে ফুটেজ পর্যালোচনার পর হাসপাতালের কর্মীরা লিফটের নিচে গিয়ে খোঁজ করলে সেখানে কোহিনূরের আংশিক পচে যাওয়া মরদেহ পাওয়া যায়।”

আরএমও জানান, ভোরের দিকে লিফটটি নিচে নামার সময় কর্মীরা দুর্গন্ধ টের পান। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল কোনো প্রাণী মারা গেছে। পরে সেখানে নিখোঁজ রোগীর স্বজনের মরদেহ পাওয়া যায়।

উখিয়ায় গৃহবধূ ‘ধর্ষণ ও হত্যা’: মেঝের মাটি খোঁড়া ছিলো, জমি বিরোধ চাচাতো-জেঠাতো ভাইদের সাথে

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় গৃহবধূ লায়লা বিবিকে হত্যার ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষার কথা বলছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব মরিচ্যা মধুঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লায়লা বিবি মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুর শুক্কুরের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন এবং সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন।

উখিয়া থানার ওসি নুর আহমদ বলেন, “তাকে হত্যা করা হয়েছে, এটি নিশ্চিত। তবে ধর্ষণের বিষয়টি এখনই বলা যাচ্ছে না। ফরেনসিক প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কপালে গুরুতর জখম, হাতে আঘাত এবং ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার মধ্যরাতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডটির সঙ্গে ওই বিরোধের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিহতের ভাসুর আব্দুল আলম বলেন, ভোরে সেহরি প্রস্তুতের সময় দুই থেকে তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে লায়লা বিবিকে মারধর করে হত্যা করে।

“পরে তার সন্তানরা দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দেয়। আমরা এসে পুলিশকে জানাই,” বলেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, উদ্ধারের সময় লায়লা বিবির শরীরে কোনো কাপড় ছিল না এবং হাত-পা অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো অবস্থায় ছিল।

নিহতের শ্বশুর জাফর আলম বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এর আগেও বাড়িতে হামলা হয়েছিল। এবার আমার ছেলের বউকে মেরে ফেলেছে।”

শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমের দাবি, খাটের নিচে মেঝে খুঁড়ে রাখা ছিল, যা দেখে তাদের ধারণা, লাশ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

প্রবাসী স্বামী আব্দুর শুক্কুর হোয়াটসঅ্যাপে জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। পরদিন সকালে আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি হত্যার খবর পান।

তিনি বলেন, “তিন বছর ধরে আমি মালয়েশিয়ায় আছি। জমি নিয়ে চাচাতো ও জেঠাতো ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলছে। তাদের সন্দেহ করছি, তবে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্তের দাবি জানাই।”

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, “পুলিশ তদন্ত করছে। পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ওসি নুর আহমদ জানান, মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলা হলেই জানা যাবে আসামির সংখ্যা ও পরিচয়।

‘দ্রুতই সাকিবকে মাঠে দেখা যাবে’

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

আইনগত জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সাকিব আল হাসানকে আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেখা যাবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন বিসিবির বয়স ভিত্তিক টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ আকবর।

তিনি বলেন, “সাকিবের যে আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেগুলো সমাধানে আমাদের মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একসঙ্গে কাজ করছে। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুতই তাকে আবার মাঠে দেখা যাবে।”

ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আসিফ আকবর।

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যু গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আসিফ আকবর বলেন, “এখানে পার্ক, ফাইভ স্টার হোটেল সুবিধাসহ একটি আধুনিক স্টেডিয়ামের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য যে গ্যালারি ও অবকাঠামো প্রয়োজন, তা বর্তমানে নেই বলেই বড় দলের খেলা আয়োজন করা যাচ্ছে না।”

তিনি জানান, গ্যালারি নির্মাণের বিষয়টি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।

“ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের একটি পরিকল্পনা আমরা দেখেছি। সেখানে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্টেডিয়াম নির্মাণের কথা রয়েছে, তবে এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে,” বলেন তিনি।

কক্সবাজারে ইতোমধ্যে নারী ও বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখানে নিয়মিত খেলা হচ্ছে, কিন্তু সেভাবে ফোকাস পাচ্ছে না। এই জায়গায় মিডিয়ারও ভূমিকা আছে।”

স্থানীয় ক্রিকেট উন্নয়নে একাধিক মাঠ উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানান বিসিবির এই কর্মকর্তা।

লোকাল ক্রিকেট ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা বিভিন্ন মাঠ উন্নয়নের চিন্তা করছি। কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

এবারের ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী বিভাগ এবং রানারআপ হয়েছে ঢাকা মেট্রো।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অপারেশন প্রধান কাজী হাবিবুল বাশার সুমন এবং নির্বাচক মেহরাব হোসেন অপি।