দুই শতকের কক্সবাজার: স্মৃতি, সমুদ্র আর পরিবর্তনের ক্যানভাসে এক শহরের আত্মকথা

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

দুইশ বছরের একটি শহরকে কীভাবে দেখা যায়? শুধু মানচিত্রে, নাকি স্মৃতিতে? নাকি একজন শিল্পীর ক্যানভাসে, যেখানে সময় স্তর হয়ে জমে থাকে?

শিল্পী ইয়াসির আরাফাত-এর “কক্সবাজার ডায়েরি” ঠিক সেই প্রশ্নগুলোর সামনে দাঁড় করায় আমাদের। এই শহরকে আমরা কতটা চিনি, আর কতটা শুধু ব্যবহার করি?

উপনিবেশ, বন্দর, আর এক শহরের জন্মকথা

আজকের পর্যটন নগরী কক্সবাজার-এর শেকড় খুঁজতে গেলে যেতে হয় প্রায় দুই শতাব্দী পেছনে। ব্রিটিশ আমলে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের নামানুসারে গড়ে ওঠা এই জনপদ ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে উপকূলীয় এক গুরুত্বপূর্ণ বসতি।

সমুদ্র, পাহাড়, নদী এই তিনের মিলনে গড়ে ওঠা ভূপ্রকৃতি শহরটিকে দিয়েছে এক অনন্য চরিত্র। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বাকখালী নদী শুধু ভৌগোলিক নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও শহরের একটি মেরুদণ্ড।

কিন্তু এই দুই শতকে শহরটি যেমন বেড়েছে, তেমনি হারিয়েছে অনেক কিছু।

যে শহর ছিল ধীর, আর যে শহর এখন দ্রুত

একসময় কক্সবাজার ছিল নিস্তব্ধ, ধীরগতির এক শহর। যেখানে বিকেলের হাওয়া, সমুদ্রের গর্জন আর পরিচিত মুখগুলোই ছিল জীবনের কেন্দ্র।

আজ সেটি দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর একটি।

এই রূপান্তরই ধরা পড়েছে শিল্পী ইয়াসিরের কাজে, একটি শহরের “আগে” এবং “এখন” -এর ভিজ্যুয়াল ডায়ালগ।

তার ভাষায়, “আমি যখন ফিরে আসি, দেখি আমার রেখে যাওয়া শহর আর এখনকার শহরের মধ্যে একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। সেই গ্যাপটাই আমি খুঁজতে চেয়েছি।”

আঁকার ভেতর দিয়ে দেখা: অবজারভেশন থেকে উপলব্ধি

ইয়াসিরের কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ধারণা, দেখা মানে শুধু দেখা নয়, বুঝে দেখা।

এই “দেখা” থেকেই জন্ম নেয় দায়বোধ।

একটা শহরকে চেনা কি শুধু সেখানে বসবাস করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? নাকি তাকে দেখতে শেখার জন্য দরকার অন্য এক চোখ। যে চোখ পর্যবেক্ষণ করে, প্রশ্ন তোলে, আর শেষ পর্যন্ত ক্যানভাসে তার উত্তর খোঁজে?

শিল্পী ইয়াসির আরাফাত-এর কাছে কক্সবাজারকে নতুন করে দেখার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল বহুদিন পর শহরে ফিরে এসে। প্রায় ২০২০-২১ সালের দিকে ফিরে এসে তিনি আবিষ্কার করেন, তার ফেলে যাওয়া কক্সবাজার আর বর্তমান কক্সবাজারের মধ্যে তৈরি হয়েছে অদৃশ্য এক দূরত্ব। সেই দূরত্বের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সংযোগ, আবার বিচ্ছেদও।

এই খোঁজ থেকেই জন্ম নেয় “কক্সবাজার সিরিজ”।

স্মৃতির জায়গায় ফিরে যাওয়া, নতুন চোখে দেখা

ছোটবেলার পরিচিত জায়গাগুলো, যেখানে বসে আড্ডা, যেখানে কাটত বিকেল, যেখানে জমে থাকত জীবনের সহজতম মুহূর্তগুলো, সেই জায়গাগুলোতেই আবার ফিরে যেতে শুরু করেন ইয়াসির। তবে এবার তিনি দর্শক নন, একজন পর্যবেক্ষক।

প্রতিদিন প্রায় একটি করে ছবি আঁকতেন তিনি। তার ভাষায়, “ছবি আঁকা আমাদের দেখতে শেখায়।”

এই “দেখা” শুধু চোখে দেখা নয়, এটা উপলব্ধির বিষয়। যেমন, একটি ডাস্টবিন প্রতিদিন চোখে পড়ে, কিন্তু যখন সেটিকে আঁকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তখন তার রং, গঠন, তার চারপাশের নোংরা। সবকিছুই নতুন করে ধরা পড়ে। আর তখনই প্রশ্ন জাগে, কেন এটা এমন? কীভাবে এটি বদলানো যায়?

বাঁকখালির জল, স্মৃতির রঙ

শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বাকখালী নদী-ও তার ছবিতে ফিরে এসেছে বারবার।

শৈশবের স্মৃতিতে যে নদীর পানি ছিল সবুজাভ, আজ তা অনেক সময় মলিন, কালচে। এই পরিবর্তন শুধু দৃশ্যমান নয়, এটি এক ধরনের মানসিক ধাক্কাও।

“আমি যখন আঁকতে বসি, তখন আমার সামনে অপশন থাক, আমি কি বর্তমান রং আঁকবো, নাকি সেই সম্ভাব্য রং, যা নদীটি পেতে পারত?” বলছিলেন ইয়াসির।

এই প্রশ্নই আসলে তার কাজের কেন্দ্রবিন্দু বাস্তবতা বনাম সম্ভাবনা।

হারিয়ে যাওয়া স্থাপনা, ফিরে আসা স্মৃতি

এই সিরিজে উঠে এসেছে কক্সবাজারের হারিয়ে যাওয়া বা পরিবর্তিত অনেক স্থাপনা। যেমন, একসময় শহরের বিনোদনের কেন্দ্র ছিল টকি হাউজ সিনেমা হল। আজ সেটি নেই, কিন্তু তার স্মৃতি এখনো জীবন্ত অনেকের কাছে।

একজন দর্শনার্থী প্রদর্শনীতে এসে সেই ছবি দেখে বলে উঠেন, “এই জায়গাটায় তো আমাদের শৈশব লুকিয়ে আছে!”

একইভাবে, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-এর পুরনো ফটক, যা সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়েছে, তার ছবিও দর্শকদের মনে তুলেছে তুলনামূলক প্রশ্ন: নতুনের সঙ্গে পুরনোর সহাবস্থান কি সম্ভব ছিল না?

আরও আছে সাচি চৌধুরী মসজিদ, যা শহরের প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। এইসব স্থাপনা শুধু স্থাপত্য নয়, এগুলো শহরের স্মৃতি ও পরিচয়ের অংশ।

২০০ ছবির ভেতর ৬০-এর প্রদর্শনী

ইয়াসিরের আঁকা ছবির সংখ্যা এখন ১৫০ থেকে ২০০-এর মধ্যে। এর মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া প্রায় ৬০টি ছবি নিয়ে শুরু হয়েছে একটি উন্মুক্ত প্রদর্শনী ২৩ মার্চ থেকে।

এই প্রদর্শনীর বিশেষত্ব হলো, এটি কোনো গ্যালারির ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। রাস্তার পাশে, উন্মুক্ত স্থানে যেখানে একজন পথচারী হঠাৎ করেই থেমে যেতে পারেন, নিজের শহরকে নতুন করে দেখতে পারেন।

শহরকে আঁকার আহ্বান

এই প্রদর্শনীর মূল বার্তা খুবই সরল, কিন্তু গভীর।

“আপনি আপনার শহরকে আঁকুন, তাহলেই আপনি আপনার শহরকে চিনবেন।”

ইয়াসির মনে করেন, পৃথিবীর বড় শহরগুলো নিজেদের এতবার এঁকেছে যে তারা নিজেদের খুব ভালো করেই চেনে। আর তাদের শক্তি হলো দুর্বলতা, বিবর্তনের ধারা।

কক্সবাজারের ক্ষেত্রেও তিনি একই স্বপ্ন দেখেন। যে শহরের শিশু, তরুণরা যদি আঁকার মাধ্যমে শহরকে দেখতে শেখে, তাহলে তারা ভবিষ্যতে এই শহরকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে।

চলমান একটি যাত্রা

“কক্সবাজার ডায়েরি” কোনো এককালীন প্রদর্শনী নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামীতে কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি দেশের অন্যান্য শহরেও এই প্রদর্শনী নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্পীর ভাষায়, “এটা শুধু ছবি না, এটা একটা ভাবনার যাত্রা, যেখানে আমরা আমাদের শহরকে নতুন করে দেখতে শিখি।”

এই শহরকে প্রতিদিন আমরা দেখি, ব্যবহার করি, অতিক্রম করি। কিন্তু কয়জন তাকে সত্যিই দেখি?

সম্ভবত, সেই দেখার শুরুটা হতে পারে একটি আঁকা ছবি দিয়েই।

‘দ্রুতই সাকিবকে মাঠে দেখা যাবে’

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

আইনগত জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সাকিব আল হাসানকে আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেখা যাবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন বিসিবির বয়স ভিত্তিক টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ আকবর।

তিনি বলেন, “সাকিবের যে আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেগুলো সমাধানে আমাদের মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একসঙ্গে কাজ করছে। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুতই তাকে আবার মাঠে দেখা যাবে।”

ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আসিফ আকবর।

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যু গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আসিফ আকবর বলেন, “এখানে পার্ক, ফাইভ স্টার হোটেল সুবিধাসহ একটি আধুনিক স্টেডিয়ামের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য যে গ্যালারি ও অবকাঠামো প্রয়োজন, তা বর্তমানে নেই বলেই বড় দলের খেলা আয়োজন করা যাচ্ছে না।”

তিনি জানান, গ্যালারি নির্মাণের বিষয়টি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।

“ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের একটি পরিকল্পনা আমরা দেখেছি। সেখানে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্টেডিয়াম নির্মাণের কথা রয়েছে, তবে এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে,” বলেন তিনি।

কক্সবাজারে ইতোমধ্যে নারী ও বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখানে নিয়মিত খেলা হচ্ছে, কিন্তু সেভাবে ফোকাস পাচ্ছে না। এই জায়গায় মিডিয়ারও ভূমিকা আছে।”

স্থানীয় ক্রিকেট উন্নয়নে একাধিক মাঠ উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানান বিসিবির এই কর্মকর্তা।

লোকাল ক্রিকেট ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা বিভিন্ন মাঠ উন্নয়নের চিন্তা করছি। কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

এবারের ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী বিভাগ এবং রানারআপ হয়েছে ঢাকা মেট্রো।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অপারেশন প্রধান কাজী হাবিবুল বাশার সুমন এবং নির্বাচক মেহরাব হোসেন অপি।

রোহিঙ্গারা ঘরে ফিরুক- প্রত্যাশা এরদোয়ান পুত্র বিলাল ও বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিলের

প্রতিবেদক, বে ইনসাইট

কক্সবাজার — তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর ছেলে নেজমেত্তিন বিলাল এরদোয়ান এবং ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী জার্মান ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল বৃহস্পতিবার এক দিনের সরকারি সফরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন।

সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা ঢাকাগামী একটি বিশেষ ফ্লাইটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাদের সঙ্গে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ছিল। বিমানবন্দরে জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান ও পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান তাদের স্বাগত জানান।

পরে প্রতিনিধিদলটি কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত তুর্কি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে।

প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন প্রতিনিধি দলে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার সভাপতি আব্দুল্লাহ এরেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন। এছাড়া বিভিন্ন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরাও সফরে অংশ নেন।

কক্সবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিলাল এরদোয়ান বলেন, “প্রত্যাবাসন অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই মানুষ তাদের নিজ ঘরে ফিরতে পারুক, যা তাদের মৌলিক মানবিক অধিকার। আন্তর্জাতিক আইনও শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করে।”

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিক্ষা সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মৌলিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে টিকা বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, আর তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন বিশেষভাবে মেয়েদের শিক্ষায় সহায়তা দিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, “আমি আশা করি এ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং আজকের এই সফর আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, সহায়তা সংস্থা ও দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, যাতে তারা রোহিঙ্গাদের শিক্ষায় আরও জোরালোভাবে সহায়তা করে।”

রমজান উপলক্ষে মেসুত ওজিলের সফর প্রসঙ্গে বিলাল এরদোয়ান বলেন, ওজিল তার রমজানের প্রথম ইফতার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে করতে বেছে নিয়েছেন, যা মুসলিম বিশ্বে একটি শক্ত বার্তা দেবে। “রমজান আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়—সহমর্মিতা, আত্মসমালোচনা ও স্মরণের সময়। আমি আশা করি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রথম ইফতার বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়কে তাদের স্মরণ ও সহায়তায় উদ্বুদ্ধ করবে,” বলেন তিনি।

তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

পরে প্রতিনিধিদলটি উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৯-এ টিকা পরিচালিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল ও শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন করে।

এরপর ওজিল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন। ম্যাচ শেষে বিলাল এরদোয়ান, ওজিল ও প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতারে যোগ দেন।

সন্ধ্যায় তারা ঢাকায় ফেরেন।

আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা: নূর আহমদ আনোয়ারী

  • বে ইনসাইটের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে কক্সবাজারের সংসদীয় আসন গুলোর প্রার্থীদের। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নূর আহমদ আনোয়ারীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। পাঠকদের জন্য সেই আলাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উপস্থাপন করা হলো:


বে ইনসাইট: আপনাকে স্বাগতম। আপনি দীর্ঘ সময় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম। আপনার মূল প্রতিপক্ষ চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির হেভিওয়েট নেতা শাহজাহান চৌধুরী। এই লড়াইয়ে আপনি জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

নূর আহমদ আনোয়ারী: দেখুন, আমি ২০০৩ সাল থেকে একটানা হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছি এবং সংসদ নির্বাচনে লড়ার জন্য এবার পদত্যাগ করেছি। আমি ৩৫ বছর একটি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং ছাত্রজীবন থেকে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ৫ই আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী এখন আর ছোট কোনো দল নয়; আমরা মাঠ পর্যায়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছি। মানুষ এখন নতুনভাবে চিন্তা করছে এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। প্রচারণায় সাধারণ মানুষের যে গণজোয়ার ও উচ্ছ্বাস আমি দেখছি, তাতে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে ১২ তারিখের নির্বাচনে মানুষ ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকেই আস্থা রাখবে।

বে ইনসাইট: আপনার জয়ের পথে প্রধান চ্যালেঞ্জ বা বাধাগুলো কী কী বলে মনে করছেন?

নূর আহমদ আনোয়ারী: প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা। যেহেতু এটি একটি সীমান্ত ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা, তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি; তা না হলে সন্ত্রাসীরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। এছাড়া এলাকায় প্রচুর কালো টাকার মালিক রয়েছেন যারা নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করতে পারেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভূমিকাও একটি বিবেচ্য বিষয় । তবে আমার বিশ্বাস, সাধারণ মানুষ নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন ।

বে ইনসাইট: শাহজাহান চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে আপনারা ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

নূর আহমদ আনোয়ারী: এটি আসলে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র মতো একটি চেষ্টা। আমি একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছি এবং আমার সম্পদ বিবরণীতে সব পরিষ্কার উল্লেখ আছে; ভোট কেনার মতো কোনো টাকা বা কালো টাকা আমার নেই। বরং শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষেই আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী অনেকে কাজ করছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম, খাইরুল আলম চৌধুরী এবং প্যানেল মেয়র এনাম কমিশনারের মতো ব্যক্তিরা উনার পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে আছেন । আমাদের সাথে কেবল মেহনতি ও সাধারণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী আছে যারা কোনো প্রলোভনে নয়, বরং আস্থার কারণে আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন।

বে ইনসাইট: সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির সাথে আপনার সুসম্পর্কের কথা শোনা যায়। এটি নির্বাচনে কতটুকু প্রভাব ফেলবে?

নূর আহমদ আনোয়ারী: দেখুন, তিনি দীর্ঘদিনের এমপি ছিলেন আর আমি দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান ছিলাম। প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রয়োজনে সরকারি সভাগুলোতে আমাদের একসাথে বসতে হয়েছে, এটি ছিল নিছকই রাজনৈতিক সৌজন্যতা। এর বাইরে উনার সাথে আমার বিশেষ কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। মজার বিষয় হলো, শাহজাহান চৌধুরীও যখন এমপি ছিলেন, বদির সাথে উনার সুসম্পর্ক আমি দেখেছি। কিছু মানুষ কেবল আমাকে হেয় করার জন্য এই প্রসঙ্গটি তুলে ধরছে।

বে ইনসাইট: আব্দুর রহমান বদির যে ভোট ব্যাংক রয়েছে, সেটি কোন দিকে যাবে বলে আপনি মনে করেন?

নূর আহমদ আনোয়ারী: মানুষ আগে হয়তো বিকল্প না পেয়ে বিভিন্ন দিকে ভোট দিয়েছে, কিন্তু এখন তারা পরিবর্তনের পক্ষে। আমি মানুষের মধ্যে আমার প্রতি যে আকর্ষণ এবং সমর্থন দিন দিন বাড়তে দেখছি, তাতে আমি আশাবাদী যে এই জনস্রোত শেষ পর্যন্ত আমার পক্ষেই আসবে।

বে ইনসাইট: সংখ্যালঘু বা মাইনরিটি ভোটাররা আপনাকে কেন ভোট দেবে?

নূর আহমদ আনোয়ারী: সংখ্যালঘুরা আমাদের কাছে নিজেদের সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে। জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে আমরা মাইনরিটি-মেজরিটির দেয়াল ভেঙে দিতে চাই এবং রাষ্ট্রের সকল নাগরিককে সমান অধিকার দিতে চাই । ইসলামে অমুসলিমদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে । তারা এখন বুঝতে পেরেছে যে সংকীর্ণ রাজনীতির চেয়ে ইসলামের আদর্শের কাছেই তারা বেশি নিরাপদ এবং আমাদের প্রতি তাদের আস্থা দিন দিন বাড়ছে ।

বে ইনসাইট: বিএনপি ঘরানার নেতা ও প্রভাবশালী গফুর চেয়ারম্যান আপনার সমর্থনে মাঠে নেমেছেন। এটি আপনার জন্য কতটুকু ইতিবাচক?

নূর আহমদ আনোয়ারী: গফুর চেয়ারম্যান নিজেও একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে তার নিজের দল বা নেতৃবৃন্দ তার প্রতি অবিচার করেছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন । অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এখন জামায়াতে ইসলামীর দিকে ঝুঁকছে । জনগণের এই পালস বুঝতে পেরেই তিনি দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন । একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধির এই সমর্থন অবশ্যই নির্বাচনী মাঠে আমাদের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে ।

বে ইনসাইট: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।

নূর আহমদ আনোয়ারী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

মানুষ ধানের শীষের জন্য পাগল, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব : একান্ত সাক্ষাৎকারে শাহজাহান চৌধুরী

বে ইনসাইটের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে কক্সবাজারের সংসদীয় আসন গুলোর প্রার্থীদের। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। পাঠকদের জন্য সেই আলাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উপস্থাপন করা হলো:


বে ইনসাইট: আপনাকে স্বাগতম। আপনি কক্সবাজারসহ সারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন পরিচিত মুখ এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতা। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে আপনি আগেও সংসদ সদস্য ও হুইপ ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার আপনার জয়ের প্রত্যাশা কতটুকু?

শাহজাহান চৌধুরী: আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি যা দেখছি, সাধারণ মানুষ ধানের শীষের পক্ষে অভাবনীয় সাড়া দিচ্ছে। তারা আমার ওপর গভীর আস্থা রেখেছে। এর আগে আমি চারবার এই এলাকার মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। জাতীয়তাবাদী দলের শাসনামলে এ অঞ্চলে যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, তার নিদর্শন এখনো স্পষ্ট। মানুষ সেই উন্নয়নের কথা মনে রেখেছে এবং আমাদের দলের প্রতি তাদের প্রবল আকর্ষণ রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, সবাই ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।

বে ইনসাইট: জয়ের পথে কোনো বিশেষ চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি?

শাহজাহান চৌধুরী: প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিপক্ষের মিথ্যা প্রপাগান্ডা। বর্তমানে তারা ভোট কেনার এক নোংরা প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আগে তারা ভোট জোর করে ছিনিয়ে নিত, আর এখন কৌশল বদলে মেহনতি ও গরিব মানুষকে বিকাশ বা নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। আমি কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার অনুরোধ করছি। তবে আমি বিচলিত নই; কারণ সাধারণ মানুষ আমাকে কথা দিয়েছে যে, তারা টাকা নিলেও ভোট ধানের শীষেই দেবে।

বে ইনসাইট: উখিয়া-টেকনাফের জন্য রোহিঙ্গা একটি বিশাল সংকট। আপনি নির্বাচিত হলে এই ইস্যুটিকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন?

শাহজাহান চৌধুরী: এটি আমাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ রোহিঙ্গাদের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গা এখানে অবস্থান করছে। আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি, কিন্তু এখন একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। তারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেই তাদেরকে সসম্মানে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে হবে। আমি এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ জোর দেব।

প্রফেসর ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে হয়তো আবেগপ্রবণ হয়ে কিছু কথা বলেছিলেন, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে কোনো জাদুকরী উপায়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। তবে আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি নিয়ে কাজ করব।

বে ইনসাইট: এই অঞ্চলে আব্দুর রহমান বদি এবং আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী ভোট ব্যাংক আছে বলে প্রচলিত আছে। এবারের নির্বাচনে সেটি আপনার জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে?

শাহজাহান চৌধুরী: আওয়ামী লীগের একটি সমর্থক গোষ্ঠী অবশ্যই আছে। তবে তাদের বর্তমান কোনো প্রার্থী না থাকায় সাধারণ কর্মীরাও এখন দেশের স্থিতিশীলতার কথা ভাবছে। আমি মনে করি, অনেক আওয়ামী লীগ কর্মীও এবার ‘আদর্শ নাগরিক’ হিসেবে ধানের শীষে ভোট দেবেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে তারা ভোট দেওয়ার জন্য বেশ আগ্রহী। এলাকায় শান্তি বজায় থাকবে এবং কোনো বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা আমি দেখছি না।

বে ইনসাইট: সংখ্যালঘু ভোটারদের পক্ষ থেকে আপনার প্রত্যাশা কী?

শাহজাহান চৌধুরী: সংখ্যালঘু বা মাইনরিটি ভোটারদের নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। তারা আগে হয়তো ভিন্ন মেরুতে ছিল, কিন্তু এখন তারা বিএনপির প্রতি আস্থা রাখছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, উখিয়া-টেকনাফের মাইনরিটি ভোটাররা এবার বিএনপির পক্ষেই থাকবেন।

বে ইনসাইট: গফুর চেয়ারম্যানকে নিয়ে কিছু গুজব শোনা যায় যে তিনি আগে বিএনপি করতেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

শাহজাহান চৌধুরী: এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা। তিনি কোনোদিন বিএনপি করেননি। তার পরিবারের কেউ হয়তো বিএনপি করত, কিন্তু তিনি সবসময় আব্দুর রহমান বদির সাথে থেকে আওয়ামী লীগ করেছেন। বদি তাকে জোর করে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। তিনি একসময় আমার সাথে আসার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আমাদের শক্তিশালী স্থানীয় নেতৃত্বের কারণে সুবিধা করতে পারেননি। [৬, ৭]

বে ইনসাইট: সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক চোরাচালান এবং টেকনাফ স্থলবন্দর নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

শাহজাহান চৌধুরী: উখিয়া-টেকনাফের দিকে আজ সারা পৃথিবীর নজর। মাদক চোরাচালান আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, আমি এর বিরুদ্ধে একটি ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করব। আমি যখন আগে এমপি ছিলাম, তখন টেকনাফ স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করেছিলাম যাতে মানুষ বৈধভাবে ব্যবসা করতে পারে এবং কালোবাজারি বন্ধ হয়। খালেদা জিয়ার সরকারের সময় এই বন্দর থেকে বছরে ১০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত, যা এখন নানা কারণে থমকে আছে। আমরা ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই বন্দরকে আরও আধুনিক ও উন্মুক্ত করব যাতে মানুষ সুন্দরভাবে ও বৈধ উপায়ে ব্যবসা করতে পারে।

বে ইনসাইট: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

শাহজাহান চৌধুরী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

রাজ বিহারী দাশ কে, কেন গেলেন জামায়াতের জনসভায়?

কক্সবাজার | বে ইনসাইট

কক্সবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ায় আলোচনায় এসেছেন রাজ বিহারী দাশ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক ও সমালোচনা।

রাজ বিহারী দাশ কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এক সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ ও লোকনাথ সেবাশ্রম পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

সোমবার সকালে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের ওই জনসভায় বক্তব্য রাখেন রাজ বিহারী দাশ। বক্তব্যে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে কক্সবাজারের সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, কক্সবাজার সদর আসনের পাশাপাশি জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরা বিজয় অর্জন করবেন। একই সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থীদের প্রতি সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন কামনা করেন।

জনসভায় তার এই উপস্থিতির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেন, রাজ বিহারী দাশ আগে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন এবং ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছেন।

বে ইনসাইট রাজ বিহারী দাশের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল করের সঙ্গে যোগাযোগ করে। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বলেন, “রাজ বিহারী আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতা নন। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি অংশ নিতেন এবং যোগাযোগ ছিল।”

কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের এক নেতা একটি কমিটির তালিকা বে ইনসাইটের কাছে পাঠিয়েছেন। তাতে কক্সবাজার পৌরসভা অধীন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটিতে রাজ বিহারীকে সদস্য হিসেবে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে রাজ বিহারী দাশ নিজে বলেন, “আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলাম না। আমি একজন জনপ্রতিনিধি—আপনি ডাকলেও যাবো।”

জামায়াতের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যোগ দিয়েছি নাকি দেবো, এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।”

এদিকে কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল জাহেদুল ইসলাম বলেন, “রাজ বিহারী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাদের দলের ডকুমেন্টেড কেউ নন, তবে আগে থেকেই তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল।”

তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকার দাবি নাকচ করে দেন রাজ বিহারী দাশ। তিনি বলেন, “আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বক্তব্য দিয়েছি। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে নয়। প্রতিনিধি হতে হলে বড় কোনো পদ লাগে, আমি সেটা নই।”

রাজ বিহারী দাশের এই অবস্থান ও জনসভায় বক্তব্য ঘিরে কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো আলোচনা চলছে।

পর্যবেক্ষণ শেষে অস্ত্রোপচার হতে পারে গুলিবিদ্ধ শিশুর

কক্সবাজার | ইনসাইট স্টোরি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে আসা গুলিতে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি শিশু হুজাইফা আফনানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিটি স্ক্যান রিপোর্ট পাওয়ার পর তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হবে।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ

রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছায় বলে জানান চমেক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার।
রাত ৯টার পর শিশুটির চাচা মৌলভী শওকত বে ইনসাইটকে বলেন, “চিকিৎসকরা শিশুটিকে আইসিইউতে নিয়েছেন। সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট পাওয়ার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।”

মৃত্যুর গুজব, পরে সংশোধন

রোববার সকালে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র প্রথমে জানান, মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত হয়েছে।

তবে দুপুরে এই তথ্য সঠিক নয় বলে বে ইনসাইটকে নিশ্চিত করেন হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল। তিনি বলেন, “শিশুটি মারা যায়নি।”

পরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস বে ইনসাইটকে বলেন, “শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রথমে মৃত্যুর কথা শোনা গেলেও তা সঠিক নয়। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বেঁচে আছে।”

কীভাবে গুলিবিদ্ধ হলো আফনান

১২ বছর বয়সী হুজাইফা আফনান টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিম উদ্দীনের মেয়ে। সে লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

শিশুটির দাদা আবুল হাসেম বলেন,“সকালে আফনান নাশতা আনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। ফেরার সময় উঠানে হঠাৎ একটি গুলি এসে তাকে আঘাত করে। সে সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়ে।”

পরে তাকে প্রথমে উখিয়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বেলা ১২টার পর সেখান থেকে কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয় তার পরিবারের সদস্যরা।

সীমান্তের ওপারে কী চলছিল

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তোতার দ্বীপ এলাকা, যেটি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিপরীতে। স্থানীয়রা জানায়, যেখানে শনিবার রাত প্রায় ১১টা থেকে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলে।

এই সময় টানা গুলিবর্ষণ, মর্টারশেল বিস্ফোরণ ও ড্রোন হামলার শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষ চলাকালে সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে আফনানকে আঘাত করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানান, “গুলিটি তার কানে লেগেছে।”

দ্বিমুখী আক্রমণে পড়ার দাবি সশস্ত্র গোষ্ঠীর

মিয়ানমারে থাকা একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একজন গ্রুপ কমান্ডার (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বে ইনসাইটকে রোববার দুপুরে ওয়াটসএপে বলেন, “আমরা দ্বিমুখী আক্রমণে পড়েছি। পরিস্থিতি খুবই খারাপ। একদিকে জান্তা অন্যদিকে আরাকান আর্মি”।

তিনি জানান, “ভোর থেকে যারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, তারা নবী হোসেন গ্রুপ ও আরএসওর সদস্য হতে পারেন।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের চাপে অনেক সদস্য ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছেন।

‘টিকতে না পেরে পালিয়ে এসেছি’ – সশস্ত্র সদস্যের স্বীকারোক্তি

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সাদেক নামের এক যুবক গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি নবী হোসেন গ্রুপের সদস্য।


তিনি বলেন,“আমরা আরাকান আর্মির সাথে টিকতে পারিনি। তাই পালিয়ে এসেছি।”


সাদেকের ভাষ্য, “আমাদের অনেক মানুষ ছিল। কে কোথায় গেছে ঠিক নাই। তোতার দ্বীপে আমাদের সাথে আরাকান আর্মির তুমুল যুদ্ধ হয়েছে।”

উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ও সড়ক অবরোধ

এদিকে রোববার সকালে বাংলাদেশী শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী উখিয়া–টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ছিল।
পরে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সীমান্তবাসীর আতঙ্ক

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা বলেন, “গত দুই–তিন দিন ধরে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তবে শনিবার রাত ১১টার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।”

রোববার রাত সাড়ে ৯টায় স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাকিল বলেন, “দুপুর ১২টার পর থেকে আর গুলির শব্দ পাওয়া যায়নি। এখন সীমান্ত শান্ত রয়েছে। তবে প্রায় প্রতিদিন রাত বাড়লেই গোলাগুলি শুরু হয়।”

অনুপ্রবেশ ও আটক

সংঘর্ষের মধ্যে নাফ নদী ও স্থলসীমান্ত পেরিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।
বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান,“সীমান্ত অতিক্রম করে আসার পর মোট ৫৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।”

রাতে টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “আটকদের থানায় আনা হয়েছে। যাচাই-বাছাই চলছে। তাদের কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। আইনী প্রক্রিয়া চলছে”।

নিরাপত্তা জোরদার, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে

উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, “সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও স্থলসীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”

সীমান্তে আপাতত গোলাগুলি বন্ধ থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি।

যে মামলার জটিলতায় বাতিল হলো আযাদের মনোনয়ন

কক্সবাজার | বে ইনসাইট 

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল  করা হয়েছে। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান যাচাই-বাছাই শেষে প্রথমে মনোনয়ন স্থগিত এবং কিছু সময় পর তা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান বলেন, “মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।”

তিনি জানান, বিস্তারিত কারণ মনোনয়ন বাতিলের সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকবে।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থী আযাদের পক্ষে উপস্থিত থাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আরিফ বলেন, যে মামলার কথা বলা হচ্ছে সেটি স্বৈরশাসক আমলের একটি মামলা।ওই মামলায় তিনি তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে উচ্চ আদালতে মামলাটি আপিলাধীন।

আইনজীবী মো. আরিফ বলেন, “এটি ছিল আদালত অবমাননার মামলা, কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ নয়। আমাদের বক্তব্য না শুনেই রিটার্নিং কর্মকর্তা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

উল্লেখ্য, হামিদুর রহমান আজাদ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিএনপি–জামাত জোট থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

হলফনামায় ৭০ মামলার তথ্য

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় হামিদুর রহমান আযাদ তার বিরুদ্ধে থাকা ৭০টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহারকৃত বা খালাসপ্রাপ্ত বলে জানান তিনি। কেবল একটি মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

আদালত অবমাননার মামলার পটভূমি

২০১৩ সালের ৯ জুন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বিচারাধীন বিষয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হামিদুর রহমান আযাদসহ জামায়াতের তিন নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করে।

ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মতিঝিলে একটি সমাবেশে বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সমাবেশে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন,

“স্কাইপে সংলাপের গোপন তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর এ ট্রাইব্যুনাল আর এক মুহূর্তও চলতে পারে না।”

এই মামলায় ট্রাইব্যুনাল তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই সপ্তাহের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।

পরে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য কক্সবাজারের সাবেক এই সংসদ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বৈধ প্রার্থীরা

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-২ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, ইসলামী আন্দোলনের জিয়াউল হক,

খেলাফত মজলিশের ওবাদুল কাদের নদভী, গণঅধিকার পরিষদের এস এম রোকনুজ্জামান খান এবং

জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল করিম।

আপিলের সুযোগ

নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে।

আইনে প্রার্থী অযোগ্যতার বিধান

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২-এর ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ন্যূনতম দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে কারামুক্তির পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

এ ছাড়া সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদেও একই ধরনের বিধান রয়েছে।

আরো যে ৯ কারণে একজন প্রার্থী অযোগ্য হতে পারেন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নিচের যে কোনো একটি শর্ত প্রযোজ্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—

১. উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করা হলে।
২. দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায় হতে অব্যাহতি লাভ না করলে।
৩. কোনো আদালত কর্তৃক ফেরারি (Fugitive) ঘোষিত হলে।
৪. কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে (দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ না করলে)।
৫. আইসিটি অ্যাক্টের সেকশন ২০সি অনুযায়ী অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল হলে।
৬. নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে।
৭. প্রজাতন্ত্রের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে।
৮. কৃষি কাজের জন্য গৃহীত ক্ষুদ্র কৃষিঋণ ব্যতীত অন্য কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত পরিশোধে ব্যর্থ হলে।
৯. ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা সরকারের সেবা প্রদানকারী কোনো সংস্থার বিল মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত পরিশোধ না করলে।