আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা: নূর আহমদ আনোয়ারী

  • বে ইনসাইটের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে কক্সবাজারের সংসদীয় আসন গুলোর প্রার্থীদের। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নূর আহমদ আনোয়ারীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। পাঠকদের জন্য সেই আলাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উপস্থাপন করা হলো:


বে ইনসাইট: আপনাকে স্বাগতম। আপনি দীর্ঘ সময় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম। আপনার মূল প্রতিপক্ষ চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির হেভিওয়েট নেতা শাহজাহান চৌধুরী। এই লড়াইয়ে আপনি জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

নূর আহমদ আনোয়ারী: দেখুন, আমি ২০০৩ সাল থেকে একটানা হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছি এবং সংসদ নির্বাচনে লড়ার জন্য এবার পদত্যাগ করেছি। আমি ৩৫ বছর একটি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং ছাত্রজীবন থেকে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ৫ই আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী এখন আর ছোট কোনো দল নয়; আমরা মাঠ পর্যায়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছি। মানুষ এখন নতুনভাবে চিন্তা করছে এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। প্রচারণায় সাধারণ মানুষের যে গণজোয়ার ও উচ্ছ্বাস আমি দেখছি, তাতে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে ১২ তারিখের নির্বাচনে মানুষ ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকেই আস্থা রাখবে।

বে ইনসাইট: আপনার জয়ের পথে প্রধান চ্যালেঞ্জ বা বাধাগুলো কী কী বলে মনে করছেন?

নূর আহমদ আনোয়ারী: প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা। যেহেতু এটি একটি সীমান্ত ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা, তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি; তা না হলে সন্ত্রাসীরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। এছাড়া এলাকায় প্রচুর কালো টাকার মালিক রয়েছেন যারা নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করতে পারেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভূমিকাও একটি বিবেচ্য বিষয় । তবে আমার বিশ্বাস, সাধারণ মানুষ নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন ।

বে ইনসাইট: শাহজাহান চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে আপনারা ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

নূর আহমদ আনোয়ারী: এটি আসলে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র মতো একটি চেষ্টা। আমি একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছি এবং আমার সম্পদ বিবরণীতে সব পরিষ্কার উল্লেখ আছে; ভোট কেনার মতো কোনো টাকা বা কালো টাকা আমার নেই। বরং শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষেই আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী অনেকে কাজ করছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম, খাইরুল আলম চৌধুরী এবং প্যানেল মেয়র এনাম কমিশনারের মতো ব্যক্তিরা উনার পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে আছেন । আমাদের সাথে কেবল মেহনতি ও সাধারণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী আছে যারা কোনো প্রলোভনে নয়, বরং আস্থার কারণে আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন।

বে ইনসাইট: সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির সাথে আপনার সুসম্পর্কের কথা শোনা যায়। এটি নির্বাচনে কতটুকু প্রভাব ফেলবে?

নূর আহমদ আনোয়ারী: দেখুন, তিনি দীর্ঘদিনের এমপি ছিলেন আর আমি দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান ছিলাম। প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রয়োজনে সরকারি সভাগুলোতে আমাদের একসাথে বসতে হয়েছে, এটি ছিল নিছকই রাজনৈতিক সৌজন্যতা। এর বাইরে উনার সাথে আমার বিশেষ কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। মজার বিষয় হলো, শাহজাহান চৌধুরীও যখন এমপি ছিলেন, বদির সাথে উনার সুসম্পর্ক আমি দেখেছি। কিছু মানুষ কেবল আমাকে হেয় করার জন্য এই প্রসঙ্গটি তুলে ধরছে।

বে ইনসাইট: আব্দুর রহমান বদির যে ভোট ব্যাংক রয়েছে, সেটি কোন দিকে যাবে বলে আপনি মনে করেন?

নূর আহমদ আনোয়ারী: মানুষ আগে হয়তো বিকল্প না পেয়ে বিভিন্ন দিকে ভোট দিয়েছে, কিন্তু এখন তারা পরিবর্তনের পক্ষে। আমি মানুষের মধ্যে আমার প্রতি যে আকর্ষণ এবং সমর্থন দিন দিন বাড়তে দেখছি, তাতে আমি আশাবাদী যে এই জনস্রোত শেষ পর্যন্ত আমার পক্ষেই আসবে।

বে ইনসাইট: সংখ্যালঘু বা মাইনরিটি ভোটাররা আপনাকে কেন ভোট দেবে?

নূর আহমদ আনোয়ারী: সংখ্যালঘুরা আমাদের কাছে নিজেদের সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে। জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে আমরা মাইনরিটি-মেজরিটির দেয়াল ভেঙে দিতে চাই এবং রাষ্ট্রের সকল নাগরিককে সমান অধিকার দিতে চাই । ইসলামে অমুসলিমদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে । তারা এখন বুঝতে পেরেছে যে সংকীর্ণ রাজনীতির চেয়ে ইসলামের আদর্শের কাছেই তারা বেশি নিরাপদ এবং আমাদের প্রতি তাদের আস্থা দিন দিন বাড়ছে ।

বে ইনসাইট: বিএনপি ঘরানার নেতা ও প্রভাবশালী গফুর চেয়ারম্যান আপনার সমর্থনে মাঠে নেমেছেন। এটি আপনার জন্য কতটুকু ইতিবাচক?

নূর আহমদ আনোয়ারী: গফুর চেয়ারম্যান নিজেও একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে তার নিজের দল বা নেতৃবৃন্দ তার প্রতি অবিচার করেছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন । অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এখন জামায়াতে ইসলামীর দিকে ঝুঁকছে । জনগণের এই পালস বুঝতে পেরেই তিনি দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন । একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধির এই সমর্থন অবশ্যই নির্বাচনী মাঠে আমাদের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে ।

বে ইনসাইট: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।

নূর আহমদ আনোয়ারী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

মানুষ ধানের শীষের জন্য পাগল, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব : একান্ত সাক্ষাৎকারে শাহজাহান চৌধুরী

বে ইনসাইটের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে কক্সবাজারের সংসদীয় আসন গুলোর প্রার্থীদের। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। পাঠকদের জন্য সেই আলাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উপস্থাপন করা হলো:


বে ইনসাইট: আপনাকে স্বাগতম। আপনি কক্সবাজারসহ সারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন পরিচিত মুখ এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতা। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে আপনি আগেও সংসদ সদস্য ও হুইপ ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার আপনার জয়ের প্রত্যাশা কতটুকু?

শাহজাহান চৌধুরী: আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি যা দেখছি, সাধারণ মানুষ ধানের শীষের পক্ষে অভাবনীয় সাড়া দিচ্ছে। তারা আমার ওপর গভীর আস্থা রেখেছে। এর আগে আমি চারবার এই এলাকার মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। জাতীয়তাবাদী দলের শাসনামলে এ অঞ্চলে যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, তার নিদর্শন এখনো স্পষ্ট। মানুষ সেই উন্নয়নের কথা মনে রেখেছে এবং আমাদের দলের প্রতি তাদের প্রবল আকর্ষণ রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, সবাই ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।

বে ইনসাইট: জয়ের পথে কোনো বিশেষ চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি?

শাহজাহান চৌধুরী: প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিপক্ষের মিথ্যা প্রপাগান্ডা। বর্তমানে তারা ভোট কেনার এক নোংরা প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আগে তারা ভোট জোর করে ছিনিয়ে নিত, আর এখন কৌশল বদলে মেহনতি ও গরিব মানুষকে বিকাশ বা নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। আমি কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার অনুরোধ করছি। তবে আমি বিচলিত নই; কারণ সাধারণ মানুষ আমাকে কথা দিয়েছে যে, তারা টাকা নিলেও ভোট ধানের শীষেই দেবে।

বে ইনসাইট: উখিয়া-টেকনাফের জন্য রোহিঙ্গা একটি বিশাল সংকট। আপনি নির্বাচিত হলে এই ইস্যুটিকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন?

শাহজাহান চৌধুরী: এটি আমাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ রোহিঙ্গাদের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গা এখানে অবস্থান করছে। আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি, কিন্তু এখন একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। তারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেই তাদেরকে সসম্মানে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে হবে। আমি এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ জোর দেব।

প্রফেসর ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে হয়তো আবেগপ্রবণ হয়ে কিছু কথা বলেছিলেন, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে কোনো জাদুকরী উপায়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। তবে আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি নিয়ে কাজ করব।

বে ইনসাইট: এই অঞ্চলে আব্দুর রহমান বদি এবং আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী ভোট ব্যাংক আছে বলে প্রচলিত আছে। এবারের নির্বাচনে সেটি আপনার জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে?

শাহজাহান চৌধুরী: আওয়ামী লীগের একটি সমর্থক গোষ্ঠী অবশ্যই আছে। তবে তাদের বর্তমান কোনো প্রার্থী না থাকায় সাধারণ কর্মীরাও এখন দেশের স্থিতিশীলতার কথা ভাবছে। আমি মনে করি, অনেক আওয়ামী লীগ কর্মীও এবার ‘আদর্শ নাগরিক’ হিসেবে ধানের শীষে ভোট দেবেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে তারা ভোট দেওয়ার জন্য বেশ আগ্রহী। এলাকায় শান্তি বজায় থাকবে এবং কোনো বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা আমি দেখছি না।

বে ইনসাইট: সংখ্যালঘু ভোটারদের পক্ষ থেকে আপনার প্রত্যাশা কী?

শাহজাহান চৌধুরী: সংখ্যালঘু বা মাইনরিটি ভোটারদের নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। তারা আগে হয়তো ভিন্ন মেরুতে ছিল, কিন্তু এখন তারা বিএনপির প্রতি আস্থা রাখছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, উখিয়া-টেকনাফের মাইনরিটি ভোটাররা এবার বিএনপির পক্ষেই থাকবেন।

বে ইনসাইট: গফুর চেয়ারম্যানকে নিয়ে কিছু গুজব শোনা যায় যে তিনি আগে বিএনপি করতেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

শাহজাহান চৌধুরী: এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা। তিনি কোনোদিন বিএনপি করেননি। তার পরিবারের কেউ হয়তো বিএনপি করত, কিন্তু তিনি সবসময় আব্দুর রহমান বদির সাথে থেকে আওয়ামী লীগ করেছেন। বদি তাকে জোর করে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। তিনি একসময় আমার সাথে আসার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আমাদের শক্তিশালী স্থানীয় নেতৃত্বের কারণে সুবিধা করতে পারেননি। [৬, ৭]

বে ইনসাইট: সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক চোরাচালান এবং টেকনাফ স্থলবন্দর নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

শাহজাহান চৌধুরী: উখিয়া-টেকনাফের দিকে আজ সারা পৃথিবীর নজর। মাদক চোরাচালান আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, আমি এর বিরুদ্ধে একটি ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করব। আমি যখন আগে এমপি ছিলাম, তখন টেকনাফ স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করেছিলাম যাতে মানুষ বৈধভাবে ব্যবসা করতে পারে এবং কালোবাজারি বন্ধ হয়। খালেদা জিয়ার সরকারের সময় এই বন্দর থেকে বছরে ১০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত, যা এখন নানা কারণে থমকে আছে। আমরা ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই বন্দরকে আরও আধুনিক ও উন্মুক্ত করব যাতে মানুষ সুন্দরভাবে ও বৈধ উপায়ে ব্যবসা করতে পারে।

বে ইনসাইট: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

শাহজাহান চৌধুরী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

মহেশখালী কুতুবদিয়াতে শুধু এমপি হবেন না— হবেন সরকারের মন্ত্রী: ডা. শফিকুর

কক্সবাজার | বে ইনসাইট

মহেশখালীর লবণ শিল্পকে আধুনিক ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেনন, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে শুধু এমপি হবেন না— তিনি হবেন সরকারের মন্ত্রী।

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় কুলালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সোমবার অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনী জনসভা। দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারযোগে সমাবেশে যোগ দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মহেশখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিপ্লব ও সংগ্রামের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করেন। যারা এ লড়াইয়ে আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি নিজের জন্য নয়—দেশ ও জাতির জন্য, যুব সমাজের প্রত্যাশা পূরণের জন্য, মা-বোনদের নিরাপত্তা এবং শিশুদের প্রতিভা বিকাশের জন্য আপনাদের কাছে এসেছি।”
বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদ মানবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ দেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করেই দাঁড়াবে।”

সার্বভৌমত্ব ও গণভোটের ডাক

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিও কারও কাছে বন্ধক রাখা হবে না এবং কোনো শক্তির চোখরাঙানিকে পরোয়া করা হবে না।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি একটি ‘গণভোট’-এর আহ্বান জানান। তার ভাষায়,“এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি—স্বাধীনতা, আর ‘না’ মানে গোলামি।”
আগামী ১২ তারিখে পরিবার, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের নিয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণজোয়ার তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

ফ্যাসিবাদ ও যুব সমাজ

গণভোটের বিপক্ষে যারা অবস্থান নেবে, জনগণ ধরে নেবে তারা আবারও পরিবারতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়—এমন মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
যুব সমাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যুবকরা বেকার ভাতা নয়, তারা চায় মর্যাদা ও ন্যায়বিচার।”তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, অপমানজনক ভাতা নয়—যুবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সম্মানজনক কর্মসংস্থান।

সম্ভাবনাময় মহেশখালী কুতুবদিয়া

মহেশখালী ও কুতুবদিয়াকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়েও ভালো অবস্থানে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশি জনগণের চরিত্রের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর চার দিন দেশে সরকার না থাকলেও কোথাও লুটতরাজ হয়নি। উন্নত অনেক দেশেও এমনটা দেখা যায় না।”
তার মতে, সমস্যা জনগণের নয়—সমস্যা ছিল নেতৃত্বে।

দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংস্কার

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে—যা বার্ষিক বাজেটের প্রায় চার গুণ।
তিনি বলেন, “এই টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। ইনসাফের ভিত্তিতে সারা দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”
দীর্ঘদিন অবহেলিত মহেশখালীকে একটি ‘স্মার্ট ইকোনমিক জোন’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ হবে ‘নতুন বাংলাদেশের উদয়’।
তার দাবি, সঠিক নেতৃত্ব পেলে মাত্র পাঁচ বছরেই দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, “আমি বিভক্ত বাংলাদেশ চাই না—আমি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই।”

১১ দলীয় জোটের সম্মিলিত প্রতীক ‘দাড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন,“আমি কেবল কোনো দল বা পরিবারের বিজয় চাই না। আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।”

ভোট চুরি রোধে সতর্কতা

বক্তব্যের শেষাংশে ভোট চুরির বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। বিজয়ের পর আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের পরামর্শ দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
তিনি বলেন,“যে বিজয়ের পর কোনো দল, পরিবার বা গোষ্ঠী ক্ষমতায় গিয়ে জাতির ওপর তাণ্ডব চালায়—সে ধরনের বিজয় আমি চাই না। এমন বিজয়ের কোনো প্রয়োজন নেই।”

ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক হাব ধলঘাটা: উন্নয়ন প্রকল্পের ছায়ায় নির্বাচনী রাজনীতি

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নকে ঘিরে একের পর এক বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এলাকাটি ভবিষ্যতে একটি বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে—এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তেমন কোনো সন্দেহ নেই।

এক পাশে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, অন্য পাশে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প—এই দুই মেগা প্রকল্প ইতোমধ্যে ধলঘাটাসহ আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনরা বলছেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চল ব্যবসা ও বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাবে পরিণত হতে পারে।

তবে উন্নয়নের এই জোয়ারের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ার অভিযোগও উঠছে। স্থানীয়দের একটি অংশ জানান, সরকারের জমি অধিগ্রহণের ফলে অনেক পরিবার বংশপরম্পরায় ভোগদখল করা জমি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। শ্রমনির্ভর বহু পরিবার অভিযোগ করেন, অল্প ক্ষতিপূরণ পেয়ে তারা আগেই স্থানচ্যুত হয়েছেন। এখনও কয়েকটি পরিবার উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেমন প্রার্থী চান—এমন প্রশ্নে ধলঘাটার বাসিন্দারা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি ছাড়ার প্রয়োজনীয়তা তারা মোটামুটি মেনে নিয়েছেন। তবে জন্মভূমি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে তারা রাজি নন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে জমি অধিগ্রহণের পরও এলাকায় থাকতে পারে, সে জন্য পরিকল্পিত একটি টাউনশিপ গড়ে তোলাই তাদের প্রধান দাবি।

ওয়ার্ড নম্বর ৩-এর সদস্য জমির উদ্দিন বলেন, সরকারের জমি অধিগ্রহণের ফলে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
“আমাদের প্রধান দাবি হচ্ছে—স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান ও নিশ্চিত আবাসন,” বলেন তিনি।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কক্সবাজার–২ সংসদীয় আসন—যার মধ্যে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা রয়েছে—দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত। বঙ্গোপসাগরের দ্বীপঘেরা এই আসনকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক হাব হিসেবে দেখা হয় বলেই এখানে বরাবরই হেভিওয়েট প্রার্থীদের উপস্থিতি থাকে।

২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার মোট জনসংখ্যা ৫ লাখ ২৯ হাজার ১২২ জন। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে স্থানীয় ভোটারদের মতে, মূল লড়াই হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুল্লাহ ফরিদ (ধানের শীষ) এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আজাদ (দাঁড়িপাল্লা)—এই দুই প্রার্থীর মধ্যে।

দুই প্রার্থীই ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কুতুবদিয়ার বাসিন্দা হামিদুর রহমান আজাদ সোমবার থেকে মহেশখালীর মাতারবাড়ি এলাকায় অবস্থান করে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি নিজের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আজাদ দুটি বহর নিয়ে ধলঘাটার নাসিরের ডেইল এলাকায় পৌঁছান। এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেন। স্থানীয় বাজারে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। পরে সরু উপকূলীয় সড়ক ধরে আবাসিক এলাকায় ঢুকে ঘরে ঘরে গিয়ে নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমর্থন চান।

এসময় হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, মহেশখালী মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, “মহেশখালী মাস্টারপ্ল্যান শুধু একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি নীলনকশা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মহেশখালী–কুতুবদিয়া এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।”

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে দেশের আমদানি–রপ্তানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প পার্ক স্থাপন এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এই অঞ্চল জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয়দের চাকরি থেকে বঞ্চিত করতে একটি সুযোগসন্ধানী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। নির্বাচিত হলে অনিয়ম বন্ধ করে অগ্রাধিকার ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আলমগীর ফরিদও সমানতালে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কুশল বিনিময় এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইছেন তিনি।

আলমগীর ফরিদ বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চালু হলে স্থানীয় মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।
“বিশেষ করে গভীর সমুদ্রবন্দর কার্যকর হলে স্থানীয় যুবকদের জন্য বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে,” বলেন তিনি।

এদিকে মহেশখালী রক্ষা আন্দোলনের সংগঠক আবদুল মান্নান রানা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মহেশখালী শুধু একটি দ্বীপ নয়; এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ কৃষি, মৎস্য, লবণ উৎপাদন ও পান চাষের ওপর নির্ভর করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন।”

তার দাবি, সরকারের মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই ঐতিহ্যবাহী ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনব্যবস্থার ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

রানা জানান, প্রকল্পের আওতায় ৩৪ হাজার একরের বেশি জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার একর জমি ইতোমধ্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব এলাকার অধিকাংশ জমিই লবণ মাঠ, আর এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ পরিবারকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে আগামী ১০ বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যে মামলার জটিলতায় বাতিল হলো আযাদের মনোনয়ন

কক্সবাজার | বে ইনসাইট 

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল  করা হয়েছে। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান যাচাই-বাছাই শেষে প্রথমে মনোনয়ন স্থগিত এবং কিছু সময় পর তা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান বলেন, “মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।”

তিনি জানান, বিস্তারিত কারণ মনোনয়ন বাতিলের সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকবে।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থী আযাদের পক্ষে উপস্থিত থাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আরিফ বলেন, যে মামলার কথা বলা হচ্ছে সেটি স্বৈরশাসক আমলের একটি মামলা।ওই মামলায় তিনি তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে উচ্চ আদালতে মামলাটি আপিলাধীন।

আইনজীবী মো. আরিফ বলেন, “এটি ছিল আদালত অবমাননার মামলা, কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ নয়। আমাদের বক্তব্য না শুনেই রিটার্নিং কর্মকর্তা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

উল্লেখ্য, হামিদুর রহমান আজাদ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিএনপি–জামাত জোট থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

হলফনামায় ৭০ মামলার তথ্য

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় হামিদুর রহমান আযাদ তার বিরুদ্ধে থাকা ৭০টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহারকৃত বা খালাসপ্রাপ্ত বলে জানান তিনি। কেবল একটি মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

আদালত অবমাননার মামলার পটভূমি

২০১৩ সালের ৯ জুন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বিচারাধীন বিষয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হামিদুর রহমান আযাদসহ জামায়াতের তিন নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করে।

ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মতিঝিলে একটি সমাবেশে বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সমাবেশে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন,

“স্কাইপে সংলাপের গোপন তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর এ ট্রাইব্যুনাল আর এক মুহূর্তও চলতে পারে না।”

এই মামলায় ট্রাইব্যুনাল তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই সপ্তাহের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।

পরে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য কক্সবাজারের সাবেক এই সংসদ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বৈধ প্রার্থীরা

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-২ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, ইসলামী আন্দোলনের জিয়াউল হক,

খেলাফত মজলিশের ওবাদুল কাদের নদভী, গণঅধিকার পরিষদের এস এম রোকনুজ্জামান খান এবং

জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল করিম।

আপিলের সুযোগ

নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে।

আইনে প্রার্থী অযোগ্যতার বিধান

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২-এর ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ন্যূনতম দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে কারামুক্তির পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

এ ছাড়া সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদেও একই ধরনের বিধান রয়েছে।

আরো যে ৯ কারণে একজন প্রার্থী অযোগ্য হতে পারেন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নিচের যে কোনো একটি শর্ত প্রযোজ্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—

১. উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করা হলে।
২. দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায় হতে অব্যাহতি লাভ না করলে।
৩. কোনো আদালত কর্তৃক ফেরারি (Fugitive) ঘোষিত হলে।
৪. কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে (দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ না করলে)।
৫. আইসিটি অ্যাক্টের সেকশন ২০সি অনুযায়ী অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল হলে।
৬. নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে।
৭. প্রজাতন্ত্রের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে।
৮. কৃষি কাজের জন্য গৃহীত ক্ষুদ্র কৃষিঋণ ব্যতীত অন্য কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত পরিশোধে ব্যর্থ হলে।
৯. ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা সরকারের সেবা প্রদানকারী কোনো সংস্থার বিল মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত পরিশোধ না করলে।