কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী এলাকায় সদ্য নির্মিত একটি গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার রাত ১০টার দিকে ‘এন আলম’ নামে সদ্য নির্মিত পাম্পটিতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে সন্ধ্যা থেকেই পাম্পটিতে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সাবুক্তগীন মাহমুদ শহেল বলেন, “দগ্ধদের মধ্যে ছয়জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় এবং আটজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।”
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, “সন্ধ্যা ৭টা থেকে পাম্পটির গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, “গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। আমরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিস্ফোরণের পর পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং সামনের কয়েকটি স্থাপনাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের আশপাশে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।”
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম জানান, গ্যাস ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হচ্ছে। কক্সবাজার শহরের অন্যতম প্রবেশমুখ কলাতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এর ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, “ছড়িয়ে পড়া এলপি গ্যাসের কারণে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস লিকেজ বন্ধের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করছে।”
তিনি জানান, দেড় ঘণ্টার চেষ্টাতেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হচ্ছে এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে।”
এদিকে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের গাড়িবহরের একটি গাড়ির ধাক্কায় চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বদরখালী ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মো. খালেদ বিন ওয়ালিদ বদরখালীর আহমদ কবিরের ঘাটা সংলগ্ন টেকচিপাড়া এলাকার প্রবাসী আমানুল ইসলাম ও সুমাইয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ।
প্রথমে গাড়ির ধাক্কায় আহত শিশুটিকে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানানোর কথা বলেন ওসি।
ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনাটি এমপির ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে জড়িত নয়, বরং তার গাড়িবহরের অন্য একটি গাড়ি এতে জড়িত ছিল।
তিনি বলেন, শিশুটি পাশের একটি দোকানে যাওয়ার জন্য রাস্তা পার হচ্ছিল, তখন এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পরে উত্তেজিত জনতা ফেরিঘাট এলাকা থেকে গাড়িটি আটক করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে এবং ভাঙচুর করে। এমপির গাড়িটি, যা বহরের সামনে ছিল, এসময় এলাকা ত্যাগ করে মহেশখালী চলে যায়।
রাত ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং পুলিশ গাড়িটি জব্দ করেছে বলে জানান ওসি।
এবিষয়ে ওসি বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে। বিষয়টি দেখছি।”
তবে বদরখালির স্থানীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক তোফায়েল আহমদ বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জানিয়েছে মামলা করবেনা। শিশুটির বাবা প্রবাসী। আগামীকাল দেশে আসবেন। জানাযার পর এনিয়ে একটি সিদ্ধান্ত হবে।
বদরখালী যুবদলের সাবেক সভাপতি বুলবুল সিকদার বলেন, এমপি কুতুবদিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সফর শেষে ফিরছিলেন। এসময় ঘটনাটি ঘটে। এসময় ক্ষুব্ধ জনতা গাড়িবহরের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। প্রায় দুই কিলোমিটার পরে গাড়ি বহর আটকিয়ে এ হামলা করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি একটি ভাড়া করা গাড়ি ছিলো। সেখানে কোনো লোকজন ছিলোনা। আমার কোনো গাড়ি নেই। আর গাড়িটি পেছনে থাকায় এটি যে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে সেটি পরে জানতে পারি এবং গাড়ির চালক পালিয়ে যায়।
কক্সবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ায় আলোচনায় এসেছেন রাজ বিহারী দাশ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক ও সমালোচনা।
রাজ বিহারী দাশ কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এক সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ ও লোকনাথ সেবাশ্রম পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।
সোমবার সকালে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের ওই জনসভায় বক্তব্য রাখেন রাজ বিহারী দাশ। বক্তব্যে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে কক্সবাজারের সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, কক্সবাজার সদর আসনের পাশাপাশি জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরা বিজয় অর্জন করবেন। একই সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থীদের প্রতি সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন কামনা করেন।
জনসভায় তার এই উপস্থিতির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেন, রাজ বিহারী দাশ আগে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন এবং ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছেন।
বে ইনসাইট রাজ বিহারী দাশের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল করের সঙ্গে যোগাযোগ করে। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বলেন, “রাজ বিহারী আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতা নন। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি অংশ নিতেন এবং যোগাযোগ ছিল।”
কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের এক নেতা একটি কমিটির তালিকা বে ইনসাইটের কাছে পাঠিয়েছেন। তাতে কক্সবাজার পৌরসভা অধীন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটিতে রাজ বিহারীকে সদস্য হিসেবে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে রাজ বিহারী দাশ নিজে বলেন, “আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলাম না। আমি একজন জনপ্রতিনিধি—আপনি ডাকলেও যাবো।”
জামায়াতের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যোগ দিয়েছি নাকি দেবো, এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।”
এদিকে কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল জাহেদুল ইসলাম বলেন, “রাজ বিহারী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাদের দলের ডকুমেন্টেড কেউ নন, তবে আগে থেকেই তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল।”
তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকার দাবি নাকচ করে দেন রাজ বিহারী দাশ। তিনি বলেন, “আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বক্তব্য দিয়েছি। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে নয়। প্রতিনিধি হতে হলে বড় কোনো পদ লাগে, আমি সেটা নই।”
রাজ বিহারী দাশের এই অবস্থান ও জনসভায় বক্তব্য ঘিরে কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো আলোচনা চলছে।
কক্সবাজারের প্রায় সব উপজেলাতেই দ্রুত হারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এর প্রভাবে জেলায় অদূর ভবিষ্যতে তীব্র পানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংকটের চাপ এতটাই বেড়েছে যে অনেক মানুষ এখন বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন পানীয় জলের জন্য বোতলজাত পানির ওপর নির্ভর করছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) জানিয়েছে, পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ কক্সবাজার পৌরসভা, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায়। অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও পর্যাপ্ত পুনঃভরাট ব্যবস্থার অভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে।
পৌর এলাকায় বছরে ৬–১৪ ফুট পানি নামছে
ডিপিএইচইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজার পৌর এলাকায় প্রতিবছর গড়ে ৬ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। শহরের কলাতলী ও টেকপাড়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এখন ৯০ থেকে ১১০ ফুট গভীরে গিয়ে পানি পাওয়া যাচ্ছে, যা এক দশক আগেও ছিল অনেক কম গভীরে।
পৌরসভার ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমানে তীব্র পানি সংকট চলছে। অনেক বাসিন্দাকে দূরবর্তী এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে পানি কিনে ব্যবহার করছেন।
এসব এলাকার টিউবওয়েলের পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেশি হওয়ায় তা শুধু গোসল ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে। অন্যদিকে পৌরসভার সরবরাহ করা পানির মান নিয়েও ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ থাকে এবং তা পানযোগ্য নয়।
জেলায় ৩০ হাজার নলকূপ, তবু সংকট
ডিপিএইচই সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার গভীর ও অগভীর নলকূপ চালু রয়েছে। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক নলকূপ থেকেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বেড়েছে।
শহরের গোলদিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা সাগর দে বলেন, “১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকেই এখানকার ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এখন বিশুদ্ধ পানি পাওয়া আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
টেকপাড়া এলাকার একটি ভবনের মালিক মো. ফরহাদ বলেন,“৪০০ ফুট গভীরে নলকূপ বসিয়েও মিষ্টি পানি পাইনি। বাধ্য হয়ে পৌরসভার পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু সেই পানিতেও দুর্গন্ধ থাকে, এটা পান করার উপযোগী নয়।”
কক্সবাজার শহরে ভাড়াবাসায় থাকা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা নেপাল চন্দ্র বলেন, পানির সংকটের কারণেই তাকে গত এক বছরে তিনবার বাসা পরিবর্তন করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে শহরে ভাড়া বাসায় থাকি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে পানির অবস্থা খুব খারাপ। খাবার পানি কিনে খেতে হয়। ব্যবহারের পানিও কোথাও লবণাক্ত হয়ে গেছে, কোথাও আবার আয়রনের সমস্যা।”
উখিয়া–টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চাপ
উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এখানকার ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
ডিপিএইচই কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইবনে মায়াজ প্রামাণিক বলেন,“উখিয়ার রাজাপালং ও পালংখালী ইউনিয়নের কিছু এলাকায় এখন ১০০ থেকে ১১০ ফুট গভীরে গিয়ে পানি পাওয়া যাচ্ছে। এসব এলাকায় প্রতিবছর পানির স্তর ৮ থেকে ১৪ ফুট করে নিচে নামছে।”
কোন উপজেলায় কত গভীরে পানি
মো. ইবনে মায়াজ প্রামাণিক জানান, সদর উপজেলার ঝিলংজা ও ভারুয়াখালীতে ৪০–৬০ ফুট, ঈদগাঁওয়ে ২৫–৪৫ ফুট, রামুতে ২০–২৮ ফুট, চকরিয়ায় ২০–৪০ ফুট, পেকুয়ায় ১২–৪০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যাচ্ছে। এসব এলাকায় প্রতিবছর গড়ে ২ থেকে ৫ ফুট করে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।
মায়াজ প্রামাণিক বলেন, কক্সবাজারে এখনো স্থায়ী পর্যবেক্ষণ কূপ না থাকলেও বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত ইএমসিআরপি প্রকল্পের আওতায় উখিয়া ও টেকনাফে ২৮টি মনিটরিং কূপ স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া ৩২টি মিনি পাইপ স্কিমে রিয়েল-টাইম ডেটা লগার বসানো হচ্ছে, যা আগামী শুষ্ক মৌসুম থেকে নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফের সহায়তায় কক্সবাজার, উখিয়া ও টেকনাফে ভূগর্ভস্থ পানি পর্যবেক্ষণ প্রকল্পও চলমান রয়েছে।
পৌরসভার পানি ব্যবস্থায় চরম চাপ
কক্সবাজার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রুবেল বড়ুয়া বলেন, “২০১১–১২ সালে যখন আমাদের নয়টি পাম্প হাউস স্থাপন করা হয়, তখন ১৫০ থেকে ২০০ ফুট গভীরেই পানি পাওয়া যেত। এখন ১২০০ থেকে ১৫০০ ফুট গভীরেও পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তিনি বলেন, “যে পানি পাওয়া যাচ্ছে তার মান খুব খারাপ ও দুর্গন্ধযুক্ত। অধিকাংশ ব্যক্তিগত নলকূপ অচল হয়ে পড়ায় পৌরসভার ওপর চাপ অনেক বেড়েছে। আমরা সীমিত সংখ্যক কার্যকর পাম্প দিয়ে দিনে দুবার পানি সরবরাহের চেষ্টা করছি।”
ভরসা বাঁকখালীর সারফেস ওয়াটার প্ল্যান্ট
দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টকে প্রধান ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রুবেল বড়ুয়া জানান, প্ল্যান্টটির কমিশনিং কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের শেষ অথবা জানুয়ারির শুরুতে এটি পুরোপুরি চালু হবে।
ডিপিএইচই কক্সবাজারের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনসুর বলেন,“এই প্ল্যান্টটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ লাখ লিটার পানি শোধন করতে পারবে। চালু হলে এটি একাই পৌরসভার প্রায় ৫৫ শতাংশ পানির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে।”
বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা: কেন নামছে পানি
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট (বোরি)-এর সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ও বিভাগীয় প্রধান মো. জাকারিয়া বলেন, কক্সবাজার একটি জটিল হাইড্রোজিওলজিক্যাল এলাকা।
তিনি বলেন, “এখানে আনকনফাইনড ও কনফাইনড—দুই ধরনের ইকুয়েফার রয়েছে। কনফাইনড ইকুয়েফার থেকে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন করলে পানির প্রবাহ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, ফলে স্তর দ্রুত নিচে নেমে যায়।”
লবণাক্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহেশখালী চ্যানেল ও বাঁকখালী নদীর পানিতে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। নদীপথে যেসব এলাকায় পানি প্রবাহিত হয়, সেখানে ভূগর্ভস্থ পানিতেও লবণাক্ততার প্রভাব পড়ছে।
বাড়ছে বাণিজ্যিক পানি বাজার
ভূগর্ভস্থ পানির সংকটের সুযোগে কক্সবাজারে গত কয়েক বছরে বাণিজ্যিকভাবে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। জেলায় বর্তমানে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান পরিশোধিত পানি বিক্রি করছে, যার মধ্যে কক্সবাজার শহরেই রয়েছে প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান।
২০০২ সাল থেকে পানি বিক্রি করে আসা হিমছড়ি ড্রিংকিং ওয়াটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার কামাল যিসান বলেন, “২০১৭ সালে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর থেকেই পানির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। সব মিলিয়ে কক্সবাজার শহরে দৈনিক এক লাখ লিটারের বেশি পানি এখন বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হচ্ছে।”
পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, মেগা প্রকল্প, সুশাসনের অভাব, দুর্নীতি, অবকাঠামো দুর্বলতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সংকট—সব মিলিয়ে কক্সবাজার আজ এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি। ‘কেমন কক্সবাজার চাই’ শীর্ষক এক নাগরিক আলোচনায় স্থানীয় উদ্যোক্তা, রাজনীতিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা উন্নয়নের পরিকল্পনাহীনতা, নীতিগত দুর্বলতা এবং নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য রাখেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, উন্নয়নের নামে কক্সবাজারে যা হচ্ছে, তার বড় অংশই অপরিকল্পিত। নেই সমন্বিত নীতিমালা, নেই জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা। ফলে সম্ভাবনাময় এই পর্যটন শহর ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথ হারাচ্ছে।
জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) কক্সবাজার ও কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স, ঢাকা (সিসিএডি)-এর যৌথ উদ্যোগে গত ২৪ জানুয়ারি কক্সবাজার শহরের ডিপিএইচই ওয়াশ কনফারেন্স হলে এই নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এর গবেষণা ও বিশ্লেষণ সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল বে ইনসাইট মিডিয়া গ্রুপ।
শাহ নেওয়াজ চৌধুরী সমন্বয়ক, কক্সবাজার কমিউনিটি এলায়েন্স (সিসিএডি)
“বিশ্বের যেকোনো জায়গায় যান, যেকোনো পর্যটন গন্তব্যে দেখবেন প্রতিটি রোডে এক্সচেঞ্জ হাউজ আছে। অথচ আমি কক্সবাজারে কোনো এক্সচেঞ্জ হাউজ দেখি নাই। ফরেন ইনভেস্টর আসছে—সে ডলার এক্সচেঞ্জ করবে কিভাবে?
দেখা যায়, হোটেলের পাশে একটা ছোট জায়গা আছে, সেখানে পানের দোকান দিয়ে রাখা হয়েছে, বাসের কাউন্টার দিয়ে রাখা হয়েছে। সরকার থেকে যদি এসব বিষয় দেখভাল করা না হয়, তাহলে এসব পরিবর্তন কিভাবে হবে?
এখানে কোনো পলিসি নাই, কিন্তু সবকিছু হচ্ছে—অপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে। দেখা যাবে, পলিসি বানাতে বানাতেই আমার সব শেষ হয়ে যাবে।”
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আইনজীবী ও বিশিষ্টজন
“আমাদের এখানে সমস্যার কথা যারা বলেন, সেই সমস্যার সমাধানের মেইন প্রতিবন্ধকতা হলো—এখানে আইনের শাসন নেই, সততা নেই।
যিনি মাইক ধরে বড় বড় কথা বলেন, আইন বানান—তিনি নিজেই আইন মানেন না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন। ধূমপান বিরোধী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির পকেটে সিগারেট থাকে। মাদক বিরোধী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মদ খেয়ে আসেন, চোখে-মুখে গন্ধ থাকে।
আমাদের নেতারা দুর্নীতি বিরোধী কথা বলেন, অথচ নিজেরাই বেশি দুর্নীতি করেন। তাহলে সাধারণ মানুষ কেন করবে না? রিকশাওয়ালা যে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়, সে এই সাহস করে কিভাবে? সে দেখে—তাদের নির্বাচিত নেতারা, যারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করে, তারাই তো তাদের কাছ থেকে ঘুষ নেয়। সুতরাং তারাও নেয়।
এই যে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হয়—৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার কথা—সবচেয়ে বড় দল বিএনপিও দেয় না। জামায়াত তো একটাও দেয় নাই।
আমি প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—আপনাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে, ‘আমি পরাজিত হতে পারি, কিন্তু গণতন্ত্রকে পরাজিত হতে দেব না। আমি আইনের শাসনকে পরাজিত হতে দেব না।’
তাহলেই ভোটে কারচুপি হবে না। কিন্তু যদি প্রতিজ্ঞা থাকে—মানুষ খুন করে হলেও আমাকে জিততে হবে, ক্ষমতায় যেতে হবে—তাহলে তো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।”
ছৈয়দ আলম সভাপতি, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি
“এইভাবে চললে আরো ২০ বছর, ৪০ বছর গেলেও কক্সবাজারের উন্নয়ন হবে না।
আমি ২০০৪ সালে প্রভাবশালী এক ক্ষমতাধর মানুষের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলাম—এই ট্যুরিজমটা পরিকল্পনা করে কক্সবাজারের উদ্যোক্তাদের ছেড়ে দেওয়া হোক। তখন উনি বলেছিলেন, তারা পারবেন না, এখানে বাইরের ইনভেস্টর লাগবে।
আজ আমরা দেখি, বড় বড় মেগা প্রকল্প বাইরে লোকেরা নিয়েছে। সেখানে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। আমি মনে করি, এর পেছনে আমাদের ক্ষমতাধর নেতাদের একটা পার্সেন্টেজ কাজ করে। না হলে আমি কম দরে নিলাম আমাকে দিলো না, আপনি বেশি দর দিলেন আপনাকে কেন দিলো?
আমার অর্থ আছে, আমি বাংলাদেশের মানুষ, কক্সবাজারের মানুষ। আমি দরকার হলে এক্সপার্ট নিয়ে আসবো। তবুও আমি পারবো না কেন? শুধু বিদেশি লোকদের দিতে হবে কেন?
আর সৌদি আরব ৬৬ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দিতে বলেছে—এটাকে আমি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মনে করি। এখন তো মিয়ানমার বলছে, ওরা বাংলাদেশি বাঙালি, রোহিঙ্গা না। বাংলাদেশ সরকার যদি পাসপোর্ট দেয়, তাহলে মিয়ানমারের কথাই প্রতিষ্ঠিত হবে।”
ওমর ফারুখ সাধারণ সম্পাদক, এনসিপি কক্সবাজার।
“রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে একটা বড় সম্ভাবনা আমরা হারিয়েছি। সেটা হলো হিউম্যানিটেরিয়ান করিডোর।
এই সমস্যাটা রাখাইনের। এটাকে যদি সমাধান করতে চান, তাহলে রাখাইনে আপনার স্টেক থাকতে হবে। ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের পর রাখাইনে চায়না এবং ইন্ডিয়া স্টেক তৈরি করেছে।
অনেকে বলেন, ক্ষমতায় গেলে টেকনাফ স্থলবন্দর চালু করবেন। কিন্তু প্রাগমেটিক ওয়েতে না গেলে এই বন্দর চালু করা সম্ভব নয়।”
জাহেদুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক, জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা
“চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ছয় লেন হলেও যাতায়াত সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে হয় না। আমাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে, কিন্তু সেটার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না।
এই সমস্যাগুলোর মূল কারণ হলো—দেশে দীর্ঘদিন জবাবদিহিমূলক সরকার ও নেতৃত্ব ছিল না। আসন্ন নির্বাচনে যদি জবাবদিহিমূলক সরকার ও সৎ নেতৃত্ব তৈরি করা যায়, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।
সৎ নেতৃত্ব দরকার, কারণ আমাদের দেশে সম্পদের অভাব ছিল না। তারপরও সমস্যা দূর হয়নি কেন? গত ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে, তারা শত হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এমপি-মন্ত্রী হয়ে ব্যাংক লুট করে নিয়ে গেছে। তাই সৎ নেতৃত্ব নির্বাচন করা জরুরি।”
জাহানারা ইসলাম সভাপতি, কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি
“এখনো যদি বলি—কেমন কক্সবাজার চাই—এটা খুবই দুঃখজনক। আমাদের নিজেদের অপরাগতাকে সামনে এনে নিজেদের ছোট করার প্রবণতা কমাতে হবে।
আমাদের এখানের সবচেয়ে বড় শিল্প লবণ। সেটার ক্ষেত্রে কি আমরা কোনো বিপ্লব করেছি? আজ পর্যন্ত সেই বিপ্লব হয়নি। অথচ এখানেই আমাদের হাত দেওয়া উচিত ছিল। আমাদের সৌভাগ্যের চাবিকাঠি আমাদের হাতেই।
কে কখন বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করবে—সেই অপেক্ষায় বসে থাকলে হবে না। আমাদের সম্পদকে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা, মান উন্নয়ন করা আমাদের হাতেই। আসুন, আমরা যারা কক্সবাজারে আছি, আমরা আমাদের কক্সবাজারকে আমাদের মতো করে সাজাই—যে কক্সবাজার দেখে বিশ্ব তাকিয়ে থাকবে। সেই প্রযুক্তি, সেই দক্ষতা আমাদের অর্জন করতেই হবে।”
এম আলম মহেশখালীর স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ কর্মী
“আমার জন্মস্থান মহেশখালী। আমরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত। আমরা দেশের জন্য জমি দিয়েছি। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, আরও হবে।
কিন্তু সত্যিকার অর্থে যে মহালুট হয়েছে, তার প্রতিকার কি আমরা পেয়েছি? এই যে মাতারবাড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হয়েছে—এটার ক্ষেত্রে জাতীয়ভাবে আমাদের কী অবদান রয়েছে? আমরা কি কোনো ফিডব্যাক পাই? কক্সবাজারবাসী কি উপকৃত হবে—এসব বিষয়ে তাত্ত্বিক কোনো তথ্যই কি আমরা জানতে পারি?”
রিয়াজ মোহাম্মদ শাকিল সহসভাপতি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
“সমস্যা, সম্ভাবনা, করণীয়—সব নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু শেষ কথা হলো—বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেখা যাবে, আমরা ভোট দেবো একজন দুর্বৃত্তকে, একজন দখলবাজকে, একজন অসৎ লোককে।
আমাদের সকল উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা হলো দুর্নীতি। রাজনৈতিক অবস্থা বা অর্থনৈতিক অবস্থা যাই হোক না কেন, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিলে কখনো সুশাসন আসবে না। তাই যারা নির্বাচিত হবেন, তাদের দুর্নীতির বিষয়ে স্পষ্ট কমিটমেন্ট থাকতে হবে।”
মুহাদ্দিস আমীরুল ইসলাম মীর সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন কক্সবাজার
“আমরা সুন্দর কক্সবাজার চাই। কিন্তু সেই সুন্দর কক্সবাজার গড়ে তুলতে কীভাবে করতে হয়, সেই ব্যবস্থাপনাটা আমরা নিই না।
এর মূল কারণ হলো—দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা কাজ করতে পারি না। সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে।”
আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক
“পর্যটন উন্নয়নে বিকল্প চিন্তা কেউ করে না। হোটেল করছে সবাই হোটেলই করছে, রেস্তোরাঁ করছে সবাই একই ধরনের রেস্তোরাঁ করছে।
সরকারি হাসপাতালের অবস্থা দেখেন—মাটিতে পড়ে আছে রোগী। চাইলে আরও তিন-চারতলা ভবন করা যায়, লিফট বসানো যায়। কিন্তু এগুলো দেখার কেউ নেই। সরকারের পলিসিও ঠিক নেই।
আগামীতে যারা নির্বাচিত হবেন, তাদের এসব বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে। সৎ নেতা হবে না যতক্ষণ জনগণ সৎ না হয়। বাংলাদেশে একজন প্রার্থীর নির্বাচনী খরচ ১০ কোটি টাকার নিচে হয় না। এই টাকা খরচ করে নির্বাচিত হওয়ার পর সে কীভাবে সৎ থাকবে? জনগণ তো সেই টাকা নিয়েছে। জনগণ যতক্ষণ সৎ হবে না, নেতা সৎ হবে না।”
শেখ আশিকুজ্জামান সহ-সভাপতি, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি
“মিয়ানমারের ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ৯০ লাখ ডলার আটকে আছে। বৈধ চ্যানেলের বাইরেও বিভিন্ন পারপাসে পাঠানো টাকা আছে, যা আরও তিন গুণের বেশি আটকে রয়েছে।
সামনে যারা নির্বাচিত হয়ে আসবেন, তাদের কাছে অনুরোধ—টেকনাফ স্থলবন্দর অতি শিগগির খুলে দেওয়া হোক। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হোক। এটা আমাদের প্রাণের দাবি।
এই সড়কের কারণে প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল দেখতে হয়। তাই আমরা এই সড়কের বাস্তবায়ন আগামীতে দেখতে চাই।”
মিজানুর রহমান মিল্কি পর্যটন উদ্যোক্তা
“তরুণ উদ্যোক্তারা সেন্টমার্টিনে বিনিয়োগ করেছে, কিন্তু তারা সেই বিনিয়োগের টাকা তুলতে পারছে না। সেন্টমার্টিনের ৯০ শতাংশ জায়গা এবং কক্সবাজারের কলাতলী জোনের বেশিরভাগ জায়গার মালিকানা এখন কক্সবাজারের বাইরের মানুষের হাতে।
সুতরাং সরকারের ভূমি ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত—কতটুকু জায়গা বাইরের মানুষ কিনতে পারবে, সেটার সীমা নির্ধারণ করা দরকার। যেটা আমরা পাহাড়ি অঞ্চলে দেখি। না হলে একটা সময় দেখা যাবে, কক্সবাজার আর কক্সবাজারের মানুষের হাতে নেই।
আর কক্সবাজারে কেউ বেড়াতে এসে চাইনিজ মাল কিনবে না। মানুষ এখানকার স্থানীয়দের তৈরি জিনিসপত্র কিনবে। সেই উদ্যোগ তৈরি করা জরুরি।”
“কক্সবাজারের মানুষের অন্যতম আয়ের উৎস হলো লবণ। কিন্তু এই খাত নিয়ে কে কী করছে? এখন লবণের দাম উৎপাদনের মিনিমাম খরচের অর্ধেকেও নেমে গেছে। তার মধ্যেই আবার লবণ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
বিসিক কী করছে? বিসিক থেকে লবণ বের করে দেওয়া উচিত। বিসিক তো কোনোভাবে এই খাতকে প্রেট্রোনাইজ করছে না। বর্তমানে যে পরিমাণ লবণ মজুদ আছে, তা দিয়ে আগামী দুই বছর চলবে।
এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে কেউ আর লবণ মাঠে নামবে না। কার কী ঠেকা পড়ছে এত কষ্ট করে লবণ উৎপাদন করতে?”
“কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ আশাব্যঞ্জক নয়।
এই দায়বদ্ধতা থেকেই গত দুই বছর ধরে সিসিএডি রাজধানীতে ধারাবাহিক সংলাপ আয়োজন করে আসছে, যেখানে সরকার ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। সদ্যসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রতিনিধিদের জন্য বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা দিতেই এই অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ আয়োজন করা হয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয় না হলে ভবিষ্যতে কক্সবাজার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
মনোয়ার কামাল যিসান
সভাপতি, জেসিআই কক্সবাজার
“কক্সবাজারে বড় বড় প্রকল্প হচ্ছে। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো—এই উন্নয়ন কার জন্য? স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, জীবনমান এবং নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটাই আসল বিষয়।”
মিয়ানমার সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত বাংলাদেশি শিশু হুজাইফা আফনানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন মঙ্গলবার বে ইনসাইটকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “কয়েক ঘণ্টা ধরে জটিল অস্ত্রোপচার চালানো হলেও শিশুটির মাথা থেকে গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। গুলিটি মস্তিষ্কের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আটকে রয়েছে। এটি অপসারণের চেষ্টা করলে শিশুটির প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে।”
এ কারণে তাকে ঢাকার বিশেষায়িত নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
“ওখানে তারা রোগীটিকে আরও ভালোভাবে সামলাতে পারবেন,” বলেন হাসপাতাল পরিচালক।
শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তোতার দ্বীপ এলাকায় আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে।
এসময় টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিপরীত পাশে মিয়ানমার অংশে টানা গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রোববার সকাল ৯টার দিকে সংঘর্ষ চলাকালে সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে বাংলাদেশ অংশে পড়ে হুজাইফা আফনান গুলিবিদ্ধ হয়।
আহত শিশুটি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচিছ ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের ১২ বছর বয়সী মেয়ে।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ নামে এক বাংলাদেশি যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে মাইনটি সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে নাকি মিয়ানমারের ভেতরে বিস্ফোরিত হয়েছে, এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার সকালে নাফ নদীর তীরবর্তী হোয়াইক্যং সীমান্তের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
আহত হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফজলুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে চিংড়ি ঘেরের পথে বিস্ফোরণটি ঘটে সেটি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে অন্তত এক কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থিত।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল বলেন, সকালে নাফ নদীর পাশের নিজস্ব চিংড়ি ঘেরে যান হানিফ। সেখানে নৌকা ও চাঁই ঠিক আছে কিনা দেখতে গিয়ে তিনি স্থলমাইনের ওপর পা দেন।
তিনি বলেন, “বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, এমএসএফ হাসপাতাল থেকে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের স্থান নিয়ে বিপরীত তথ্য
হানিফের সঙ্গে থাকা তার সহোদর ইমাম হোসেন বলেন, “আমাদের মাছের ঘেরটি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে। বিস্ফোরণ হয়েছে ঘেরে যাওয়ার পথেই। মিয়ানমারের সীমান্ত সেখান থেকে অনেক দূরে।”
একই দাবি করেছেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের স্থানীয় যুবক সাইফুল ইসলাম শাকিল। তিনি বলেন, “নাফ নদী ও আশপাশের চিংড়ি-কাঁকড়ার ঘেরগুলো এখানকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস। বিস্ফোরণের জায়গাটি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরেই।”
শাকিল জানান, মিয়ানমারের রাখাইন অংশে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিতে কয়েকদিন ধরে কেউ ওই এলাকায় কাজ করতে যাননি। সোমবার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় কাজে গেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
বিজিবির বক্তব্যে স্পষ্টতা নেই
ঘটনাস্থলটি বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়- গত এক বছরে সীমান্তে কতজন স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন এবং মোট কতটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিসংখ্যান দিতে অপারগতা জানান।
আজকের বিস্ফোরণটি সীমান্তের কোন দেশের অংশে ঘটেছে- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,“সেটি আহত ব্যক্তি বলতে পারবেন।”
পরে মাইন কারা পুঁতে রেখেছে জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে চাননি। তবে বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সীমান্তের কাছাকাছি কিছু এলাকায় মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করার কাজ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত না করতে সচেতন করা হচ্ছে।”
সংঘর্ষের প্রভাব সীমান্তের এপারে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত কয়েকদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। সেখানে কার্যত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও। জীবিকা নির্বাহের জন্য নাফ নদী ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা গুলি ও স্থলমাইনের ঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র বলেন, “নাফ নদীতে মাছের প্রজেক্টে কাজ করার সময় এক যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
স্থানীয়দের দাবি
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্তের কাছাকাছি স্থলমাইন থাকার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল- দ্রুত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে স্থলমাইন শনাক্ত করে অপসারণ এবং নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কক্সবাজারে চলমান শীতল আবহাওয়া আরও এক সপ্তাহের মতো অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে তাপমাত্রা কমলেও এটিকে শৈত্যপ্রবাহ বলা যাবে না বলে স্পষ্ট করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ইতিহাসে সর্বনিম্ন ১০.৩ ডিগ্রি, তবুও শৈত্যপ্রবাহ নয়
কক্সবাজারের আবহাওয়া ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি। সেদিন তাপমাত্রা নেমেছিল ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এরপরও এ জেলায় কখনো শৈত্যপ্রবাহ ঘোষণা করতে হয়নি।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সাল থেকে সংরক্ষিত আবহাওয়া রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই উপকূলীয় জেলায় কখনোই শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
কেন শৈত্যপ্রবাহ নয়
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শৈত্যপ্রবাহ ঘোষণা করতে হলে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামতে হয়। কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত তাপমাত্রা কখনোই সেই সীমার নিচে নামেনি।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, “এ অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সমুদ্রঘেঁষা আবহাওয়ার কারণে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। ফলে শীত বাড়লেও তা শৈত্যপ্রবাহে রূপ নেয় না।”
আজ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কক্সবাজারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি বছরের সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অ্যান্টিবায়োটিক নয়
শীতের প্রভাবে ঠাণ্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সাবুক্তগীন মাহমুদ শহেল বলেন, “ঠাণ্ডাজনিত অসুস্থতা দেখা দিলে নিজ উদ্যোগে পাড়া-মহল্লার ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না। অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।”
শিশু ও অ্যাজমা রোগীদের বাড়তি সতর্কতা
শীতের সময় শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মি. শহেল বলেন, “শিশুদের সকালে, সন্ধ্যায় ও রাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে নেওয়া উচিত নয়। গরম কাপড় ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”
এ ছাড়া অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীদের শীতের সময়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান এই চিকিৎসক।
দেশজুড়ে বই উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও কক্সবাজারে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা এখনো অপেক্ষায়।প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ এবং মাধ্যমিক স্তরে আংশিক সরবরাহ সম্ভব হলেও, ইংরেজি মাধ্যমের কোনো পাঠ্যবই এখনো জেলায় পৌঁছায়নি।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত কক্সবাজারে মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ নতুন বই পৌঁছেছে। তবে এই পরিসংখ্যানে ইংরেজি মাধ্যমের বই অন্তর্ভুক্ত নয়।
কক্সবাজারের জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বে ইনসাইটকে বলেন, “সব শিক্ষার্থীর মধ্যে বই পৌঁছানো হয়েছে, তবে তা আংশিক। ইংরেজি মাধ্যমে এখনো কোনো বই আসেনি এ কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে পুরনো বই দিয়েই সাময়িকভাবে পাঠদান চালু রাখতে হচ্ছে।”
এতে করেই স্পষ্ট, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করেছে নতুন বই ছাড়াই।
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ (ইংরেজি মাধ্যম) হাসান মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিকের বই এসেছে, তবে মাধ্যমিক স্তরের বই আসেনি।
তবে ৭ তারিখ থেকে তাদের ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে, তার আগেই বই পাওয়ার প্রত্যাশা করেন মি. হাসান।
তবে বে ইনসাইট শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছে, ইংরেজি মাধ্যমের বই সরবরাহে প্রতি বছরই কিছুটা বিলম্ব দেখা যায়।
এদিকে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রামমোহন সেন বলেন, “আমাদের স্কুলে প্রায় ৪০ শতাংশ বই এসেছে। বাকি বইগুলো পথে আছে। যারা প্রথম দিন এসেছিল, তারা সবাই কিছু না কিছু বই পেয়েছে।”
তবে এই ‘কিছু বই’-এর তালিকায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা নেই।
প্রাথমিক শতভাগ বই এসেছে
প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণে সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেছেন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা। কক্সবাজারের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহীন মিয়া জানান, “প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ বই এসেছে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”
উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আশরাফুল আলম সিরাজী বলেন, “ উপজেলার ৭৮টি সরকারি ও ২৮টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১ লাখ ২৬ হাজার পাঠ্যবই এসেছে, যা চাহিদার সমপরিমাণ। প্রথম দিন যারা বিদ্যালয়ে এসেছে, সবাই সব বই পেয়েছে।”
এই সফলতার বিপরীতে মাধ্যমিক ও ইংরেজি মাধ্যমের চিত্র স্পষ্টভাবে বৈপরীত্য তৈরি করছে।
উপজেলাগুলোতেও আংশিক বাস্তবতা
মহেশখালীর বারিয়াপাড়া মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক এম আব্দুল হান্নান জানান, “প্রাথমিকের সব বই এসেছে। কিন্তু মাধ্যমিকে শুধু নবম শ্রেণির বই এসেছে, অষ্টম শ্রেণির কিছু বই পাওয়া গেছে। বাকি বই এখনো আসেনি।”
যদিও জেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বাকি বইগুলো আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে স্কুলগুলোতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।